February 22, 2026
আবু সুফিয়ান: হাতিরঝিলের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন নোবেল। তীব্র রোদ জাপটে ধরেছে তাকে। একটু একটু ঘামছেন- এমন দৃশ্য সম্ভবত কল্পনায়ও আনেনি নোবেল ভক্তরা। তাই ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাতিরঝিলের রাস্তা ধরে যে-ই যাচ্ছিলেন, গাড়ি চালানো যেন ভুলেই গিয়েছিলেন কিছু সময়ের জন্য। অতি আগ্রহীরা কেউ কেউ তাদের গাড়ি অথবা মোটরসাইকেলে চাপলেন কড়া ব্রেক। কারণ, সামনেই যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নোবেল! পাশেই শখ। এখানে আসার পর থেকে একদল বাচ্চা ঘিরে ধরেছে তাকে। যেখানেই যাচ্ছেন, পিছু ছাড়ছে না তারা। একজন রসিকতার সুরে শখকে প্রশ্ন করেই বসলেন, ‘এরা তোমার বডিগার্ড নাকি?’ বাচ্চাগুলোর এমন কর্মকান্ডে শখ কিন্তু মোটেই বিরক্ত হচ্ছেন না। উপভোগই করছেন বরং। কারণ, আজ তার মন অনেক ভালো! মন ভালোর কারনটিও বলে দেয়া যাক। ছোটবেলা থেকেই তিনি যে নোবেলের অসম্ভব ভক্ত, প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে অভিনয় করছেন। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সংলাপ বলে যাচ্ছেন। আনন্দে যেন উড়ছেন শখ! যে নাটক নোবেল-শখকে এক করেছে, সেটির নাম ‘স্মার্তো’। লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন আরবি প্রিতম। প্রথম দৃশ্য। হাতিরঝিলের ফুটওভার ব্রিজের উপরে। ক্যামেরার সামনে তারা দু’জন দাঁড়াতেই আশপাশে লোক জমে গেলো। শখ রাগ করে চলে যাচ্ছেন। ছুটতে ছুটতে নোবেল তার পাশে এসে দাঁড়ালেন। নোবেলের হাতে প্লাষ্টিকের টিকটিকি। দেখে ভয়ে-ঘৃণায় মুখ বিকৃত করলেন শখ। বললেন, ‘তোমার হাতে ওটা কী? ফেলে দাও।’ শব্দ করে হেসে উঠলেন নোবেল। ‘আরে এটা তো প্লাষ্টিকের টিকটিকি। তুমি তো টিকটিকি প্রচন্ড ভয় পাও। এখন থেকে এটা হাতে নিয়ে ঘুরবে। তাহলে ভয় কমে যাবে।’
শখের তবু ঘৃণা লাগছে, ‘ফেলে দাও। এক্ষুণি ফেলে দাও বলছি।’ বাধ্য হয়ে কথা শুনতেই হলো নোবেলকে। হাঁটা ধরলেন শখ। নোবেল খানিকটা অবাক। ‘একা একা কোথায় যাচ্ছো? তুমি তো রাস্তা পার হতে পারো না। রাস্তাটা পার করে দিই?’ এবার শখ দমে গেলেন কিছুটা। আস্তে করে বললেন, ‘রাস্তা পার করে দেবে, কিন্তু হাত ধরতে পারবে না।’ দ্রুত ক্যামেরার অবস্থান সরিয়ে নিলেন আদিত্য মনির। সময় যত গড়াচ্ছে। লোকজনের ভীড় তত বাড়ছে। দ্রুত তাই কাজ শেষ করে চম্পট দিতে হবে। পরিচালক দু’জনকেই বলে দিলেন, ‘ড্রেস চেঞ্জ’। পরবর্তী দৃশ্যের জন্য প্রস্তুতি নেবেন তারা। এই ফাঁকে শখ নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন, ‘ছোটবেলা থেকে টিভি পর্দায় তাকে দেখে আসছি। সে সময় আমার কাছে তার বিজ্ঞাপন মানেই ছিলো আলাদা কিছু। আজ একসঙ্গে কাজ করছি, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সংলাপ দিচ্ছি- সব মিলিয়ে অন্যরকম অনুভূতি।’