March 17, 2026
লন্ডন ব্রিজে লোকজনের ওপর একটি সাদা গাড়ি তুলে দেওয়া ছাড়াও সন্ত্রাসীদের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অন্তত ৬ জন মারা গেছে। পুলিশের পাল্টা গুলিতে সন্ত্রাসীদের ৩ জন মারা যায়। পুলিশ সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে তাদের ৩ জন মারা যায় ও ২ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। শনিবার ব্রিটিশ সময় রাত ১০টা ৮মিনিটে প্রথমে লন্ডন ব্রিজে একটি সাদা গাড়ি নিয়ে এক সন্ত্রাসী বেশ কয়েকজন পথচারীকে আঘাত করে। এসব ঘটনায় আহত অন্তত ৪৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সিএনএন/বিবিসি/ডেইলি মেইল
ডেইলি মেইল বলছে, পুরো ঘটনা চলে ৮মিনিট ধরে। সন্ত্রাসীরা লন্ডনের একাধিক স্থানে হামলা চালায়। তাদের হাতে ১২ ইঞ্চি লম্বা ছুরি ছিল। আরেক সন্ত্রাসী ঘন্টায় ৫০ মাইল গতিতে লন্ডন ব্রিজে ফুটপাতের ওপর উঠে লোকজনকে চাপা দেয়। ঘটনার সময় বিবিসির সাংবাদিক হলি জোন্স লন্ডন ব্রিজে ছিলেন। তিনি বলেন, একজন পুরুষ ‘ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে’ গাড়িটি চালাচ্ছিল। পুলিশ বলছে, কয়েকজন ব্যক্তি ভূয়া সুইসাইড ভেস্ট পড়ে ভ্যান চালিয়ে ও ছুঁড়ি হাতে এসব হামলা চালায়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে লন্ডনে এসব হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ঘটানাটিকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ।সন্ত্রাসী ঘটনার পর বৈঠকে বসে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনকে সবধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহ জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমাদের প্রয়োজন আরো বুদ্ধিমান, চটপটে ও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আমাদের অধিকার ফিরে পেতে আমাদের একটি স্থান দরকার। অভিবাসী বন্ধ করে অতিরিক্ত পর্যায়ের নিরাপত্তা প্রয়োজন।
এ টুইটের ৮ মিনিট পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরেকটি টুইটে জানান, লন্ডন ও ব্রিটেনে যে কোনো সাহায্যের প্রয়োজনে আমরা তাদের সঙ্গে আছি। গড বেøস!
বিবিসি জানায়, লন্ডন ব্রিজ ও বোরা মার্কেটের কাছে এ দুটি হামলা ঘটে। হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। হামলার পরপরই লন্ডন ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। লন্ডন ব্রিজ চলাচলের জন্যে বন্ধ করার কথা জানায় ট্রান্সপোর্ট পুলিশ। ভক্সহলের কাছে আরেকটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটলেও তবে তা সন্ত্রাসী ঘটনা নয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশে পাশে ব্যাপক তল্লাশী শুরু করে পুলিশ।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলছেন এটি একটি পরিকল্পিত হামলার ঘটনা। এবং এধরনের হামলা ‘বর্বরোচিত’।
নির্বাচনের মাত্র চারদিন আগে ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় রক্তাক্ত হলো যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। গত মার্চের পর থেকে এটি লন্ডনে তৃতীয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা।