March 10, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : ২০১৪ সালের ১ আগস্ট ভোরে ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহী বাসের ১২ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির দেওয়া রিপোর্টে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তিনটি কারণ উল্লেখ করা হলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনও ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি।
কারণ তিনটির মধ্যে রয়েছে, তৎকালীন স্টেশন মাস্টার আবু সুফিয়ান তুর্কি ও গেইট ম্যান আব্দুর রহমানের দায়িত্বে অবহেলা। তারা ঘুমিয়ে থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে দেখা গেছে, রেল লাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মাছ বাজার ও অবৈধ স্থাপনা। এসব অবৈধ স্থাপনের কারণে রাতে যানবাহনগুলো রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রেলের আলো দেখতে পারে না। দুর্ঘটনার রাতে রেলের আলো দেখতে না পারার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তৃতীয় কারণ হলো বরযাত্রীবাহী বাসের ঢোল বাজনার কারণে ড্রাইভার ট্রেনের হর্ণ শুনতে পারেননি। যে কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু দুর্ঘটনার তিন বছর পার হলেও অজ্ঞাত কারণে রেল লাইনের ওপর থেকে মাছ বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেন্ড হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎকালীন এডিসি জেনারেল নাসরিন জাহানকে আহ্বায়ক ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবপ্রসাদ পাল ও সার্কেল এএসপিকে সদস্য করে তিন সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ঘটনার ৯ দিন পর ১০ আগস্ট স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি স্টেশন মাস্টার আবু সুফিয়ান তুর্কি, গেইট ম্যান আব্দুর রহমান ও বাসের ড্রাইভারকে দায়ি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনার নেপথ্যে বেশকিছু ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে। তদন্ত কমিটির সদস্য ওই সময় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার জেলার এডিসি দেবপ্রসাদ পাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ বেশকিছু সুপারিশ করেন।
দুর্ঘটনার পর কয়েক দফা রেল লাইনের উপর গড়ে উঠা বাজার ও আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই অভিযান আজও হয়নি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ রেল লাইনের উপর দিয়ে প্রতিদিন ৯ টি আপ ও ৯ টি ডাউনসহ মোট ১৮টি ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া স্থানীয় অনেকে নাকি রেলওয়ে থেকে ডিসিআর কেটে এনে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। মাছের পানিতে স্লিপারগুলোর নীচে পানি জমে মাটি নরম হয়ে রেল লাইন সরে যায়। স্লিপারগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সেই সময়ের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলার এডিসি দেবপ্রসাদ পাল জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটানার কয়েকদিন পর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রিপোর্টটি মন্ত্রণলায়ে পাঠানো হয়।
এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন জানতে চাইলে
বর্তমান কালীগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঘটনার সময় যারা এখানে ছিল তারা সবাই বদলি হয়ে গেছে। তবে আমি খুব শিগগির স্থানীয় সার্ভেয়ারদের ডেকে রেলওয়ের জায়গাটা মেপে আইনানুগ ব্যাবস্থা নিব।’