May 2, 2026
কুষ্টিয়া: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর হল ছেড়ে রাস্তায় নেমে অবরোধের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে শনিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি হলের শিক্ষার্থীরা।
দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিহতের পর গত ৩০ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা ৩৫টি বাস পুড়িয়ে দিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ৩৮ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস খোলে।
শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও ২০দলীয় জোটের চলমান অবরোধের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে তারা।
তবে সকাল ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি হলের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজ নিজ গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অবরোধের মধ্যে কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অনেক শিক্ষার্থী।
শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকারের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকার বলেন, আবরোধের কারণে চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনিবার্য কারণ বশত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বুধ ও বৃহস্পতিবার অবরোধের সর্মথনে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির মিছিল করে। এসময় তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এনিয়ে প্রশাসন বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।
৩০ নভেম্বর বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া করা ৩৫টি বাস পুড়িয়ে দিলে দীর্ঘ ৩৮দিন বন্ধ থাকার পর ক্যাম্পাস চালু হয় ৮ জানুয়ারি। মাত্র একদিনের মাথায় ক্যাম্পাস বন্ধ করা হয়েছে।
কিন্তু অবেরাধের কারণে যানবাহন না চলায় বাড়ি ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের।
স্বল্প দূরত্বের শিক্ষার্থীরা টেম্পো, নসিমন, করিমনে করে রওনা হলেও অন্য জেলাগুলো থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তা নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।
দূরপাল্লার বাস না চলায় দূরের শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা ট্রেন। অনেক শিক্ষার্থীকেই টেম্পোসহ বিভিন্ন ছোট যানে করে কুষ্টিয়া সদরে রেলস্টেশনের দিকে যেতে গেছে।