April 16, 2026
রাজশাহী: প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যার কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটান করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে পৃথকভাবে আটক করেছে র্যাব ও পুলিশ। তবে ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসেবে র্যাব যাকে চিহ্নিত করেছে সেই জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জলকে এখনও পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, উজ্জল ভারতের মুর্শিদাবাদে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে । তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের এক নেতা। পুলিশ বলছে, উজ্জল গ্রেফতার না হওয়ায় মামলার তদন্তেও অগ্রগতি হচ্ছে না। এদিকে হত্যার দায় স্বীকার করা আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ এর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে র্যাবের বক্তব্যর সঙ্গে মিল রেখেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। গত ১৫ নভেম্বর দুপুরে নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম লিলনকে। বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামের একটি সংগঠন ফেসবুকে পেজ খুলে হত্যার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনায় পুলিশ এ ঘটনায় জামায়াত শিবিরের ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর র্যাব সদস্যরা যুবদলের ছয়জনকে আটক করে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন।
সেই সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক, কর্মী আব্দুস সামাদ পিন্টু, সিরাজুল ইসলাম কালু, সবুজ, মামুন ও টোকাই বাবু হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেন। র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আটককরা জানিয়েছে-যুবদল নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুর স্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ ও হিসাব বিভাগের সেকশন কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের সঙ্গে শফিউল ইসলাম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন। এর প্রতিবাদ করতে তার স্বামী যুবদল নেতা আব্দুস সামাদ পিন্টু ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জল শিক্ষক শফিউলের কাছে গেলে তাদের সঙ্গেও তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এর প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জল। তার পরিকল্পনাতেই ওই ছয়জনসহ পুলিশের হাতে আটক শিবির ক্যাডার জিন্নাত আলী, আরিফ ও সাগরসহ ১১ জন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে জেলা যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জল পলাতক। জেলা ছাত্রদলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, ঘটনার পরপরই আনোয়ার হোসেন উজ্জল ভারতের মুর্শিদাবাদ এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে অবস্থান নিয়ে তিনি তার ‘অনুগত’ জেলা ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতা ও যুবদলের এক সদস্যর সঙ্গে নিয়মিত ইন্টারনেটে যোগাযোগ রাখছেন। ওই সূত্র আরও জানায়, র্যাবের হাতে আটক যুবদলের ছয় নেতাকর্মী তাদের স্বীকারোক্তিতে উজ্জলের নাম বলার পর উজ্জল জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একটি অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে বিএনপির ওই নেতাকে কল করলে নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কেটে দেন। এরপরই ভারতে চলে যান উজ্জল।
তবে আনোয়ার হোসেন উজ্জলের ‘অনুগত’ হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জামান পরাগ সমকালকে বলেন, ‘তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নাই। এগুলি কে বলে?’ মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘উজ্জল পুলিশের নেটওয়ার্কের বাইরে। শুনেছি সে এখন ভারতে অবস্থান করছে। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ ওসি দাবি করেন, উজ্জল ও যুবদল নেতা পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে আটক করতে পারলে এই মামলার সব রহস্যর জট খুলে যেত। তারা গ্রেফতার না হওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছেনা।
তিনি আরও জানান, আসামিরা র্যাবের কাছে হত্যার যে বর্ণনা দিয়েছে পুলিশের কাছেও তাই বলেছে। ওসি আলমগীর বলেন, আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ এই হত্যার খবর টিভিতে দেখে নিজেদের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য ফেসবুকে পেজ খুলেছিল। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হবে। নিহত শিক্ষক একেএম শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ জেভিন বলেন, ‘একটু অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য একটা মানুষকে এভাবে খুন করা হবে এটা বিশ্বাস হতে চায়না। এখন দেখি পুলিশী তদন্ত কোন দিকে যায়?’ সুত্র….. সমকাল