পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাত তদারকিতে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Posted on July 2, 2014 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাতের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকটা শিথিল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে ব্যাংকিং খাতে জাল-জালিয়াতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ঋণের নামে হয়েছে হরিলুট। অনেকটা ব্যাংকের সুরক্ষিত ভল্ট থেকে টাকা বের করে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব টাকা এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ফলে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। সিএসআরের নামে ব্যাংকগুলোতে খোলা হয়েছে হরিলুটের আরেক জানালা। এর নামে সিবিএ, সরকার ও পরিচালকদের ঘনিষ্ঠ লোকজন ব্যাংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকে পরিচালকদের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে, তাদের এখন আর নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। তাদের প্রভাব ও বেআইনি সুবিধা দেয়া-নেয়ার কারণে সবল আর্থিক ভিত্তির ব্যাংকগুলো এখন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বিধি-বিধানের কোনো তোয়াক্কা করছেন না পরিচালকরা। আমদানি-রফতানির নামে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এ সব মিলে অর্থনীতিতে রক্তসঞ্চার করার মতো ব্যাংকিং খাত তদারকিতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।BD BANK LOGO

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালাউদ্দিন আহমেদ পত্রিকাটিকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি দুর্বলতা হচ্ছে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দক্ষতা আছে বলেই ঘটনাগুলো শনাক্ত করতে পারছে। বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা আছে। এগুলো কাটিয়ে উঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিচ্ছে। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মামলা করার এখতিয়ার নেই। এ প্রতিষ্ঠান শুধু তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। আর্থিক ক্রাইমগুলো তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে দক্ষ জনবল নেই। দুর্নীতির মামলা হচ্ছে। কিন্তু আর্থিক অপরাধ হচ্ছে একটি টেকনিক্যাল বিষয়। এজন্য দুদককে আর্থিক অপরাধ তদন্তে দক্ষ জনবল নিতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে হবে। দুদককে অতিদ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে বড় বড় আর্থিক অপরাধের জন্য আইন আছে। এসব ঘটনায় অন্য এজেন্সি দিয়ে তদন্ত করার জন্য সরকার চিন্তা করতে পারে।

পত্রিকাটি জানায়, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে চারটি বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হল সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারি। এর পরেই রয়েছে বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেংকারি ও বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি। এছাড়া রয়েছে ডেসটিনির কেলেংকারি। এর মধ্যে হলমার্ক কেলেংকারির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকসহ ২৭টি ব্যাংক থেকে বের করে নেয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিসমিল্লাহ গ্রুপ ৪টি ব্যাংক থেকে নিয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংক থেকে বের করে নেয়া হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। ডেসটিনি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এরা প্রত্যেকেই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে মোট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়েছে। এর বাইরে ছোটখাটো আরও অনেক জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। যেগুলো এখনও আলোচনায় আসেনি। এর বাইরে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডেসটিনি আত্মসাৎ করেছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। বিদেশে পাচার করেছে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৭ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, হলমার্কের জালিয়াতির আগে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখায় ২০০৯ ও ২০১০ সালে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার স্বাভাবিক ছিল। ওই সময়ের তুলনায় ২০১১ সালে শাখার ঋণ প্রবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে প্রায় ৬৯৬ শতাংশে দাঁড়ায়। যখন সবেমাত্র হলমার্কের কেলেংকারির শুরু। ওই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ওই শাখায় একটি ব্যাপক তদন্ত করা হয়। ওই সময়ে রূপসী বাংলা শাখায় জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud