March 5, 2026
চাঁদপুর প্রতিনিধি : মেয়ে ফাতেমা ও শিশু নাতি ফুয়াদকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন একজন বাবা আব্দুল গফুর। দুই ছেলে তিন মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ও আদরের ধন ফাতেমার করুণ মৃত্যু তিনি মানতে পারছেন না।
রোবাবার রাতভর ফরিদগঞ্জ থানা কমপাউন্ডে তার আর্তচিৎকারে কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিল না। মেয়ে ও নাতির নিথর দেহ পোস্টমর্টেমের জন্য চাঁদপুরে পাঠানোর জন্য সকালে থানায় এসে আবারো কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা গফুর। অবুঝ মনকে শান্তনা দিতে পারছে না কিছুতেই। কান্না জড়িত কণ্ঠেই ফাতেমার বাবা বলেন, ‘তার জামাই রাসেল তার মা ও বোন মিলে আমার মেয়ে ফাতেমা ও নাতি ফুয়াদকে ঘরের ভেতরে পুড়িয়ে হত্যা করে। পরে লাশ ঘরের পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। আব্দুল গফুর অভিযোগ করে বলেন, শুধু যৌতুকের দাবিই নয়, তারা ষড়যন্ত্র করেই তার মেয়েকে বাপের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে মেরে ফেলেছে। একথা বলতে গিয়ে আবারো মা মা বলে চিৎকার দিতে থাকেন। পরে জানান, সকালে ওই এলাকার আমিন পাটওয়ারীর কাছ থেকে খবর পেয়ে আদশা গ্রামে গিয়ে একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে পোড়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। এরপর মেয়ে ও নাতির খোঁজ করলে রাসেল ও রাসেলের মাসহ অন্যরা পালিয়ে যায়।
এদিকে, মা ছেলে হত্যার ঘটনায় ফাতেমার ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে রাসেলকে প্রধান আসামি করে অন্য আরো নয়জনের বিরুদ্ধে যৌতুকের কারণে নির্যাতন ও পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। রোববার রাতে এ হত্যা মামলাটি করা হয়েছে ফরিদগঞ্জ থানায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ইতোমধ্যে আসামিদের আটক করতে রোববার রাতে ও সোমবার দুই দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।