May 8, 2026
অঙ্কুশ হাজরা। কলকাতার চলচ্চিত্র অভিনেতা। ‘কেল্লাফতে’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করে পরিচিত হয়েছিলেন দর্শক মহলে। এরপর ‘ইডিয়ট’, ‘কানামাছি’ ও ‘খিলাড়ি’সহ মোট চারটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবি হিট না হলেও তার প্রতি দর্শকের আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। এর কারণ হলো তিনি ভালো নাচেন।
বর্তমানে তার অভিনীত পঞ্চম ছবি ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ এর শুটিং চলছে বাংলাদেশে। সেই সুবাদে বাংলাদেশে এসেছেন অঙ্কুশ। বর্তমানে ছবির শুটিং করছেন কক্সবাজারে। এর আগে পূবাইলের এক শুটিং স্পটে শুভশ্রীর সাথে গানের শুটিং করেছেন।
সেখানেই গানের প্রয়োজনে পিঠে কাকতাড়ুয়া বেঁধে শুটিং করতে হয়েছিল তাকে। দুইবার শট নিয়ে সেই বেশেই চলে এলেন ছাতার নিচে। পাশেই বসা ছিলাম। তার বিশ্রামের ফাঁকে জেনে নিলাম অঙ্কুশের কিছু কথা।
কি ব্যাপার কলকাতার ছেলে এখানে এসে একেবারে কাকতাড়ুয়া?
হ্যাঁ। গানের জন্য সাজতে হয়েছে এমন।
বাংলাদেশে এর আগে আসা হয়েছে?
না। আমার মা এবং দিদার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু আমার জন্মের পর তারাও কখনো আসেননি। আমারও আসা হয়নি। তবে না এসে মনে হয় মিস করেছি। বাংলাদেশ ভালো লাগছে অনেক।
অভিনয়ে এসেছেন কিভাবে?
অনেক সিনেমা দেখতাম আগে থেকে। বন্ধুরা শখ করে কয়েকটা ছবি তুলে দিয়েছিল। সেই ছবিগুলো স্টুডিওতে রেখে এসেছিলাম। এরপর কিভাবে জানি ভাগ্য খুলে গেল। ব্যস, কেল্লাফতে! তবে এটা ঠিক আমার জীবনে কারও কাছ থেকে ‘ধুর ছাই’ টাইপের কিছু পাইনি।
আর নাচ?
ছোটবেলায় টিভিতে দেখে দেখে আমি নাচ শিখেছি। নাচে আমার কোন জ্ঞান নেই। সবাই বলে আমি ভালো নাচি। এটা শুধু নিজে নিজে চর্চা করার কারণে হয়েছে।
অভিনেতা অঙ্কুশ কি অশান্ত?
না। বেশ শান্ত স্বভাবের। বন্ধুরা বলে আমি নাকি অনেক চাপা। তবে গ্রুপ হয়ে গেলে পাগল করে দেবার মত ছেলে আমি।
আর কি পাগল করার মত আছে আপনার?
পাগল করার মত আর তেমন কিছু নেই। কিন্তু মেয়েরা অনেকে বলে তোমার জন্য পাগল আমি।
যেমন? একটা উদারহণ শুনতে পারি?
একজন আমাকে ফোন দিয়ে বলছিল আমার জন্য অনেকখানি নাকি হাত কেটেছে। জানি না কতখানি সত্য, তবে বলেছে তো! অনেকে অবশ্য বাবা মাকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আবার কেউ বাসার নিচে এসে বলে আমি নিচে দাঁড়িয়ে আছি প্লিজ আমাকে বিয়ে করো। এই ভাবে অনেকে অনেক পাগলামি করে।
কি করেন তখন?
কিছুই করতে পারি না। অভিনেতা হবার পর থেকে নিজের ইমেজটা বজায় রাখতে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয়- ইস, যদি তাদেরকে বিয়ে করতে পারতাম!
অভিনেতা হবার আগের অঙ্কুশ আর পরের অঙ্কুশের মধ্যে পার্থক্য কী?
আগে ধৈর্য্য অনেক কম ছিল এখন বেশি। পরিশ্রমও করতে পারি অনেক। যেটা আগে পারতাম না। আবার আগের তুলনায় দায়িত্ব এবং দায়িত্ববোধ দুটোই বেড়ে গেছে আমার।
আইডল কে আপনার?
সাধারণ মানুষ। একজন রিকশাওয়ালাও আমার আইডল, কারণ কোনো কোনো সময় আমাকে রিকশাওয়ালার চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। সেদিক থেকে আমি একজন রিকশাওয়ালাকেই অনুসরণ করার চেষ্টা করি। অভিনয়ের জায়গায় আমি একেবারেই অন্যরকম।
এবার কাজের জায়গায় আসি। এর আগে বাংলাদেশের ছবি দেখেছেন?
দেখেছি। আমাদের ওখানে তো বাংলাদেশের ছবি বা নাটক দেখার সুযোগ নেই। তবুও বিভিন্ন সোর্স থেকে দেখা হয় বাংলাদেশি সিনেমাগুলো। তবে সব দেখা হয় না।
কিন্তু আমরা তো আপনাদের ছবি, নাটকগুলো দেখি? সেক্ষেত্রে আপনাদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া কি উচিৎ নয়?
অবশ্যই উচিৎ। বাংলাদেশে শুটিং করতে এসে আমার ভীষণ ভালো লাগছে। শুধু একটি ছবির শুটিং নয় এখানে দুই বাংলার মিলন ঘটেছে। সেদিক থেকে আমাদেরও বাংলাদেশের সিনেমা বা নাটকগুলো দেখার সুযোগ করে দেওয়া দরকার।
কেন এই সুযোগ হচ্ছে না আপনাদের?
জানি না কেন এটা আটকে আছে। তবে আমার দেশের জন্য আমাকে প্রেজেন্ট করেতে হলে শুধু আমার দেশ নয় বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করা দরকার। সেদিক থেকে এগিয়ে আছে হলিউড। তারা এমন ভাবে প্রচার করে সবকিছু যেটা আপনার আমার সব দেশের মানুষকে আকর্ষণ করে। ভারত আর বাংলাদেশেরও এমন কিছু করা উচিৎ যাতে বিশ্বব্যাপী এপার বাংলা ওপার বাংলা সম্পর্কে অবগত থাকে। এটা একদিনে নয়, সময় নিয়েই চেষ্টা করা উচিৎ। আর এইজন্যই তো আমরা বাংলাদেশে এসেছি। আমার মনে হয় এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করবেন?
করব না কেন? আমার কোন ভাষায় ছবি করতে আপত্তি নেই। সেখানে বাংলাভাষায় ছবি করা তো আনন্দের ব্যাপার।
সামনে কি নিয়ে কাজ করছেন?
‘রোমিও জুলিয়েট’ নামের একটি সিনেমায় কাজ করব। আর আমি বছরে দুটি ছবির বেশি করি না।
ভবিষ্যতে…
ভবিষ্যতে কি করব জানি না। তবে আমি যেটুকু পেয়েছি সেটুকু ধরে রাখতে চাই। বিধাতা যেন এইটুকু থেকে কেড়ে না নেন। এটাই চাওয়া।
…..বাংলানিউজ