পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বনাম মেধা বিতর্ক

Posted on May 29, 2015 | in নির্বাচিত কলাম | by

MY PHOTO॥ সাজ্জাদ হোসেন ॥
ইদানিং সরকারি চাকুরিতে কোটা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম, প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে ফেইসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি ও প্রচারণা বেশ জোরেসুরে চলছে। আর সবারই আঁড়চোখা দৃষ্টি একটা বিষয়ের দিকেই, সেটা হলো ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা’। এ ব্যাপারে তাদের খুঁড়া যুক্তি হলো-‘এটা বাতিল করতে হবে, না হয় মেধাবীরা পেছনে পড়ে যাচ্ছে, গোবর-গবেটরা চাকুরিতে নিয়োগ পাচ্ছে, প্রশাসন মেধাশুন্য হয়ে পড়ছে’। ইনিয়ে-বিনিয়ে এসব কথা বলতেই যেন তারা ব্যতিব্যস্ত। কিংবা এমনও হতে পারে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলতে পারলে হয়তো তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর তালিকায় নাম লেখানো সহজ হবে, তাই তারা কোটা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা কোটার উপর সওয়ার হচ্ছেন। আবার অনেক ‘চেতনা ব্যবসায়ী’ তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাকেও ইদানিং এই কোটার বিরুদ্ধে বলে প্রতিপক্ষের কাছে উদারতা দেখিয়ে ওই পক্ষের বাহবা কুঁড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামতে দেখছি। সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে সরকার দলীয় কতেক সংসদ সদস্যদের ইদানিং সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই কোটার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করতে দেখছি। তারা আবার মুক্তিযোদ্ধা বান্ধব বর্তমান সরকারকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন – কোটা নয়, মেধাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’, মেধার বিকল্প কখনো কোটা হতে পারে না’। এ প্রসঙ্গে কিছু জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক বিভিন্ন অনলাইনে বেশ লেখালেখি করছেন। তাদের লেখা ও প্রতিবেদন দেখে আমি বিষ্মিত হয়েছি। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন এসব কথা লেখেন, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া কিইবা করার আছে। আমার কথা হচ্ছে-তিনি বা তারা কি মেধা-কোটা-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন না? না, আমি অন্তত এটা বিশ্বাস করতে চাইনা। তাদের জ্ঞানের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। আমার মতো ছাপোষা মানুষের চেয়ে অন্তত: অনেক বেশি জ্ঞান রাখেন তারা। তাহলে কি বলবো-তারা জেনে বুঝে মানুষের মগজ ধোলাইয়ের কাজে নেমেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে বিসিএস-এর মুখোমুখি হতে হয় না। কিন্তু সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলীতো এটা নিশ্চয়ই জানেন যে, বিসিএস’র কোন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কার্যকর হয়। আমি যতদুর জানি সাধারণ অন্যান্যের সাথে প্রথমে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় পাশ করে তারপর লিখিত পরীক্ষায় অন্যান্য মেধাবীদের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার পর মৌখিক পরীক্ষার সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিবেচনায় নেয়া হয়। এরপরও কি সম্মানিতরা বলবেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মেধাবী নয়, এরা সবাই ‘গোবর-গবেট’, নিশ্চয়ই না।
সম্প্রতি ফেইসবুকের বদৌলতে দেখলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন সম্মানিত শিক্ষক একটি অনলাইনের মতামত পাতায় লিখেছেন-‘মুক্তিযুদ্ধের নামেও কোটা পদ্ধতিকে জায়েজ করা হয়। তবে ইতোমধ্যে বহু ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকেই কলঙ্কিত করায় তার যৌক্তিকতা হারিয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবাবের স্বচ্ছলতার জন্য তাদের ভাতা বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার উদ্যোগী হতে পারে। কিন্তু কোটার নামে অযোগ্য, কম মেধাসম্পন্নদের সরকারি চাকরিতে অধিক সুযোগ বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর এই ধরনের পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে অন্তরায়ও বটে।’
ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক তার কথাটি আমার খুব মনে ধরেছে। বিগত সময়ে কিছু সংখ্যক মানুষ এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে কোটায় চাকুরি নিয়েছেন। এরমধ্যে বেশির ভাগই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। এই সংখ্যাটি খুব বেশি নয়, এদের চিহ্নিত করা উচিত। এ জন্য ১৯৯৬ সালের পর থেকে এ যাবৎকালে যাদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরি হয়েছে তাদের প্রত্যেকের সার্টিফিকেট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাই বলে গুটি কয়েক ভূয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ কলঙ্কিত হতে পারে না। মশারীর ফাঁক-ফোকর দিয়ে দু’একটি মশা ঢোকে গেলে পুরো মশারী পুড়িয়ে ফেলার পরামর্শ আমি অন্তত: শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, কোটা বিরোধী তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা বা মাননীয় সাংসদের কাছে আশা করতে পারি না। আর কম-বেশি মেধার বিষয়টি নিয়ে আমি আগেই আলোচনা করেছি। কারা মেধাবী? যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরি পাচ্ছে তারা, নাকি বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনের ভাষায় ‘চাকুরি চাও টাকা দাও’-এই নীতির ভিত্তিতে চাকুরি নিচ্ছেন তারা। কোন কোটাই মেধার বিরুদ্ধে নয়, বরং ঘুষ দিয়ে চাকুরি নেয়ার প্রথাই মেধার প্রধান এবং অন্যতম অন্তরায়। এটির বিরুদ্ধেই আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক আরো লিখেছেন- সরকারের পক্ষ থেকে নাকি মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের চিন্তা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া অনেকদুর এগিয়েছে। সংসদীয় কমিটিতেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সবাই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পক্ষে। তার এই কথা যদি সত্যি হয় তাহলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগ ও দুঃশ্চিন্তার বিষয়। যেখানে সয়ং প্রধানমন্ত্রী কোটর পক্ষে, সেখানে সরকার বা সংসদীয় কমিটির বেশির ভাগের কারা সরকার প্রধানের বিপক্ষে গিয়ে কোটা বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদের ব্যাপারে সরকারের উচিত খোঁজ-খবর নেয়া। এ ছাড়া আমি যতদুর জানি এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে উচ্চ আদালতেরও একটি নির্দেশনা রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বঞ্চনার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বরণের মধ্যদিয়ে সে বঞ্চনার শুরু। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় জাতির পিতার হত্যান্ডের পর মুক্তিযোদ্ধাদের কলা দেখিয়ে মূলা খাওয়ানো হয়েছে। চাকরির বয়স পেরিয়ে ৫০ বছরের বয়োবৃদ্ধ হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই কোটা দীর্ঘ ২১ বছর পর্যন্ত ছিল। ওই সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে অমুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের এই কোটায় চাকরি হয়েছে। এই সময়ে পদে পদে মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্চনা আর বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা তাদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ করেন এবং প্রজ্ঞাপন জারি করেন যে, এই কোটায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না পাওয়া গেলে পদ খালি রাখতে হবে। তৎকালীন সরকার এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ওই সময় চাকুরি হয়। দেশপ্রেমিক বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকারের শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য একটি স্পেশাল বিসিএস ঘোষণা করে। প্রিলিমিনারী এবং লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারলেও চূড়ান্ত নিয়োগের ব্যবস্থা করার আগেই ২০০১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাহীন হয়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে পরবর্তী সরকার এই স্পেশাল বিসিএস নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। তখন পরীক্ষার্থীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে মৌখিক ও মনস্তাত্বিক পরীক্ষা সম্পন্ন করলেও পরবর্তীতে ফলাফল স্থগিত করে দেয়। আমি যতদুর জানি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কয়েকজন সরকারের এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্দ হয়ে আবারো হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। এই রিটের রায়ের প্রেক্ষিতে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই বিসিএস’র ফলাফল ঘোষণার উদ্যোগ নেয়। পিএসসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. শাহাদাৎ হোসেনের তত্ত্বাবধানে ওই সময় পিএসসি একটি গুজামিলের ফলাফল ঘোষণা করে অতি অল্প সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হয়। এতে শতশত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান চাকুরি বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এই বিসিএস’র আশায় থেকে চাকুরির বয়সও হারিয়েছে। অথচ পিএসসি’র চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি- চাকুরির বিজ্ঞপ্তি দিলে নাকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পাওয়া যায় না! যেখানে লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বেকার সেখানে এ ধরনের কথাবার্তা মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের জন্য নিতান্তই পরিহাসের বিষয় বলে আমি মনে করি। আর প্রিলিমিনারী ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার পর পদ শূণ্য রেখে মৌখিক পরীক্ষায় একজন প্রার্থীকে বাদ দেয়া ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এটা পাগলেও জানে মৌখিক পরীক্ষা কোনভাবেই মেধা যাচাইয়ের একমাত্র মানদন্ড হতে পারে না।
বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ৩০ শতাংশ কোটা সামান্যই মানা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। উপরন্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করে এই কোটায় অমুক্তিযোদ্ধা ও কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তানদের চাকরি দেয়া হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। ওই আমলে অনুষ্ঠিত ২৪তম, ২৫তম, ২৬তম এবং বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক আমলের ২৭তম বিসিএস এ মৌখিক পরীক্ষায় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অনেক সদস্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সনদ ছুঁড়ে ফেলে দেয়াসহ অনেক কটুক্তি করেছে এবং মৌখিক পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃত ফেল করিয়ে তাদের চাকুরি বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বর্তমানেও পিএসসি’র বিশেষ বিশেষ সদস্যের বিরুদ্ধেও এরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ শোনা যায়। অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিসিএস’গুলোতেও শত শত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান চাকুরি বঞ্চিত হয়েছে। অপরদিকে পিএসসির ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধার কোটায় সিট ফাঁকা রয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে মৌখিক পরীক্ষা দেয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চাকুরি পায় না কেন? এই পরীক্ষার পর তাদের আর কি যোগ্যতার প্রমান দিতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক থাকলেও পিএসসি’র কতিপয় চেয়ারম্যান ও সদস্যের কোটা বিরোধী অবস্থান, শঠতা ও ষড়যন্ত্রে এই কয়েক বছরে ৩০ শতাংশ কোটায় সামান্য সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাই চাকুরি পেয়েছে বলে দাবি সয়ং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের। পাশাপাশি কয়েক লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ভবঘুরের মতো জীবন-যাপন করছে। এই মুহুর্তে বিসিএস ঘোষণা করা হলেও শুধুমাত্র বয়সের কারণে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আবেদনই করতে পারবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি-পিএসসি’র মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কোটা বিরোধী এই চক্রটি চাচ্ছে প্রশাসনের মূল যে চালিকা শক্তি অর্থাৎ ‘সাধারণ ক্যাডারের (পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ, কাষ্টমস্, কর, নিরীক্ষা ইত্যাদি)’ পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘টেকনিক্যাল ক্যাডারে (ডাক্তার, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, শিক্ষক ইত্যাদি)’ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দিতে, যাতে মূল প্রশাসন কখনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গঠিত হতে না পারে। তাদের এই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য শুধু টেকনিক্যাল ক্যাডারে ঘোষিত ৩২তম স্পেশাল বিসিএস। পিএসসি’র এই সিদ্ধান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চরম অপমান ও অবমাননাকর ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের আরেকবার কলা ঝুঁলিয়ে মূলা খাওয়ানোর চক্রান্ত হয়েছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে সরকার ওই বিসিএস ঘোষণা করে সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। এ ধরনের হোমিওপ্যাথিক মার্কা টেকনিক্যাল ক্যাডার দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় যুগ যুগ ধরে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে বয়সসীমা ৩৫ বছর করে শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেশাল বিসিএস ঘোষণা করা উচিত।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা কারো দয়ার বিষয় নয় বরং এটি মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক অধিকার। মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তানরা কখনোই মেধার বিপক্ষে নয়। এ ক্ষেত্রে জেলা কোটাসহ অন্যান্য কিছু কোটা বাতিল বা সমন্বয় করে কোটা সংস্কার করা যায়। আমার জানামতে কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানই আজীবন এই কোটা চান না। দীর্ঘদিন কোটা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সাথে কুটচালাকি হয়েছে। তাই তারা এই মুহুর্তে এই কোটায় হাত দেয়ার সম্পূর্ণ বিপক্ষে। তবে সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই এই কোটা পর্যায়ক্রমে সংস্কারে তাদেরও কোন বিরোধীতা থাকার কথা নয়। বিসিএস বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ভাইভার টেবিল থেকে বিদায় করে দিয়ে, উপযুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পাওয়া যায়না বলে পদ শুন্য রাখলে দিনদিন এই জটিলতা বাড়বে বরং কমবে না।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud