পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জীবনাবসান

Posted on January 17, 2014 | in জাতীয় | by

Fhpuvgen-Fra120140117111023কলকাতা: বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি তুল্য মহানায়িকা সুচিত্রা সেন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শুক্রবার কলকাতার স্থানীয় সময় সকাল আটটা ২৫ মিনিটে বেলভিউ হাসপাতালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় সুচিত্রা সেনের মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  শ্বাসকষ্টের কারণে গত ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুচিত্রা সেনকে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি সর্দি, জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। হাসপাতালে ডা. সুব্রত মৈত্রের তত্ত্বাবধানে ছিলেন সুচিত্রা সেন। ওপার কিংবা এপার-দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়তা পাওয়া এ অভিনেত্রীর বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র জীবনের পর একটা পর্যায়ে হয়ে যান লোক চক্ষুর আড়াল। দর্শকের মনিকোঠায় এক অনন্ত যৌবনা নায়িকা হিসাবে স্থান করে নেন  তিনি। এই জন্যই হয়ত তিনি কোন ফটোসাংবাদিকের সামনে নিজের চেহারা দেখাতে চাননি কখনো।

সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সাথে অভিনয়ের কারণে তিনি সারা বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয় হন। উত্তম-সুচিত্রা জুটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ জুটি হিসেবে পরিচিত।  তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে কোন আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পান।  সাত পাকে বাঁধা ছবির জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। চলচ্চিত্র জীবন : ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। পরবর্তী বছরে উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স-অফিসে সাফল্য লাভ করে এবং উত্তম-সুচিত্রা জুটি উপহারের কারণে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাংলা ছবির এই জুটি পরবর্তী ২০ বছরে ছিলেন আইকন স্বরূপ।

১৯৫৫ সালের ‘দেবদাস’ ছিল তার প্রথম হিন্দি ছবি। উত্তম কুমারের সাথে বাংলা ছবিতে রোমান্টিকতা সৃষ্টি করার জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী। ১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকে তার বেশকিছু অভিনীত ছবি মুক্তি পেয়েছে।

স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন, যেমন হিন্দি ছবি আন্ধি। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বলা হয় যে চরিত্রটির প্রেরণা এসেছে ইন্দিরা গান্ধী থেকে। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং তার স্বামী চরিত্রে অভিনয় করা সঞ্জীব কুমার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন।  ১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায়  ব্রতী হন।  ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য সুচিত্রা সেন মনোনীত হন, কিন্তু ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লী যাওয়ায় আপত্তি জানানোর কারণে তাকে পুরস্কার দেয়া হয়নি।

তার মেয়ে মুনমুন সেন এবং নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

তার অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা : সাড়ে  চুয়াত্তর (১৯৫৩), ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪), অগ্নিপরীক্ষা (১৯৫৪), শাপমোচন (১৯৫৫), সবার উপরে (১৯৫৫), সাগরিকা (১৯৫৬), পথে হল দেরি (১৯৫৭), হারানো সুর (১৯৫৭), দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯), সপ্তপদী (১৯৬১), বিপাশা (১৯৬২), চাওয়া-পাওয়া, সাত-পাকে বাঁধা (১৯৬৩), শিল্পী (১৯৬৫), ইন্দ্রাণী (১৯৫৮), রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত (১৯৫৮), সূর্য তোরণ (১৯৫৮), উত্তর ফালগুনি (১৯৬৩) (হিন্দিতে পুনঃনির্মিত হয়েছে মমতা নামে), গৃহদাহ (১৯৬৭), ফরিয়াদ, দেবী চৌধুরানী (১৯৭৪), দত্তা (১৯৭৬), প্রণয় পাশা প্রভৃতি।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud