April 25, 2026
ঢাকা: পূর্বঘোষিত সোমবারের সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। ৫ জানুয়ারি জনগন ভোট বর্জন করায় তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রায় তিন মাস পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। এর আগে বহুল আলোচিত ২৫ অক্টোবর খালেদা জিয়া এই উদ্যানে ভাষন দিয়েছিলেন। এরপর দু’দফা ঘোষণা দিয়েও অনুমতি না পাওয়ার কারণে সেখানে সমাবেশ করতে পারেননি খালেদা জিয়া।
এজন্যে দশম সংসদ নির্বাচনের পর সোমবারের সমাবেশটি হবে খালেদা জিয়ার প্রথম গণসমাবেশ। এছাড়া ওই দিন সারাদেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা সদরে গনসমাবেশ এবং শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সূত্র জানায়, সোমবারের সমাবেশকে মহাসমাবেশে রূপ দিতে চায় বিএনপি। এজন্য দলের শীর্ষ নেতাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে লোক জড়ো করার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগরসহ রাজধানীর আশপাশের সাংগঠনিক জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। এতে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে দলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন রাইজিংবিডিকে জানান, ঢাকায় স্মরনকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে সোমবার। গাজীপুর থেকেই ১৫ থেকে ২০ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
দলের আরেকটি সূত্র জানায়, শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম মহানগর উত্তরের এক নেতার বাসায় সমাবেশ নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মহানগরের প্রত্যেক ইউনিটকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে বলা হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ারস এসোসিয়েশনের পাশ ঘেষে মঞ্চ করা হবে। অনুমতি পেলেই রোববার রাত থেকে মঞ্চ তৈরীর কাজ শুরু হবে। সোমবার সকালেই সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের আসতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্যে আগামী দিনে সারাদেশ সফরের কর্মসূচি ও তারিখ ঘোষনা করতে পারেন তিনি।
বিএনপি চাইছে নির্বাচন পরবর্তী এ সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে নেতাকর্মীদের মনোবলে বাড়াতে। দলটির আশা, সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হলেও জনস্রোত এত বেশি হবে যে, সেটি শাহবাগ, মৎসভবন ছাপিয়ে রাজপথে অবস্থান নেবে।
এদিকে ডিএমপি এখনো সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান জানান, বিএনপির সমাবেশের অনুমতির ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিএনপি নেতারা আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দেবে পুলিশ। তবে একটু আগে অনুমতি দিলে প্রস্তুতি গ্রহণ সহজ হতো বলে মনে করেন তারা।
জানতে চাইলে দলের প্রাচার সম্পাদক জয়নাল আবদিন ফারুক রাইজিংবিডিকে জানান, এখনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। তবে আজ রাতের মধ্যে অনুমতি পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।