পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ভূমধ্যসাগরের অভিবাসী ঢেউ ভাসালো ইউরোপ

Posted on September 9, 2015 | in আন্তর্জাতিক | by

ঢাকা: নজিরবিহীন অভিবাসী সংকটে পড়েছে বিশ্ব। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ আর দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী সংকট রীতিমত কাঁপিয়ে দিচ্ছে বিশ্বের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের আসন। নীতি-নির্ধারকদের নড়নে-চড়নে বঙ্গোপসাগরের ‘অভিবাসী ঢেউ’ সম্প্রতি কিছুটা ‘শান্ত’ হলেও এখন ভীষণ উত্তাল ভূমধ্যসাগর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল। ওই সাগরের ‘অভিবাসী ঢেউ’ থামাতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ইউরোপের নেতারা। কিন্তু তাদের কোনো পরিকল্পনা-পদক্ষেপই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বরং দিনে দিনে নিয়ন্ত্রণের বাইরেই চলে যাচ্ছে অভিবাসী সংকট। photobg_615781799

বিশ্লেষকরা খুঁজছেন এ ‘মহাসংকট’র নেপথ্য কারণ, খুঁজছেন সম্ভাব্য সমাধানের পথও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্তরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্স ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য বিশ্লেষণ করে এ সংকটের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য সমাধানের পথগুলো তুলে ধরছে বাংলানিউজ।


চলতি সপ্তাহে ইউএনএইচসিআর’র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের আট মাসে অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৪শ’র বেশি অভিবাসী- শরণার্থী প্রবেশ করেছে। তুরস্ক রুট হয়ে গ্রিসে উঠেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার শরণার্থী বা অভিবাসী। আর ইতালিতে উঠেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ শরণার্থী বা অভিবাসী। এছাড়া, স্পেনে প্রায় দু’ হাজার এবং মাল্টায় প্রায় ১০০ অভিবাসী বা শরণার্থী উঠেছে। তবে, এ পথে নেমে প্রাণ হারিয়েছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে ২ হাজার ৮শ’ মানুষ।
ইউরোপ অভিমুখে কেন এই শরণার্থী-অভিবাসীস্রোত?

জাতিসংঘ, ফ্রন্টেক্স এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একবাক্যে স্বীকার করেন, ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থী-অভিবাসী স্রোত ঠেলে দিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র। আর এ স্রোত নামার প্রধান কারণ, সিরিয়া-ইরাক-আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশগুলোর যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উত্থান। দ্বিতীয় প্রধান কারণ, এশিয়া ও আফ্রিকান দেশগুলোর অতি-দারিদ্র্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিশ্চিত জীবিকার আকাঙ্ক্ষা বা জীবনমান উন্নয়নের অভিলাস। আর এ দু’টি কারণ ‘একসঙ্গে’ মিলে শরণার্থী-অভিবাসীস্রোতের কেবলই গতি ‘বাড়াচ্ছে’।


দু’টো কারণ ‘একসঙ্গে’ মেলার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে, বিশেষত তুরস্ক-জর্ডান-লেবাননে শরণার্থী ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-সংঘাত বিধ্বস্ত দেশগুলোর মানুষ সরাসরি ইউরোপে যেতে চাইছে। কারণ, তারা মনে করে, সেখানকার ক্যাম্পগুলো তাদের ‘অস্থায়ী জীবন’ দেবে। কিন্তু তারা চান, নতুন করে ‘সুন্দর স্থায়ী জীবন’। সেক্ষেত্রে ইউরোপের বিকল্প হতে পারে না মধ্যপ্রাচ্য বা তৎসংলগ্ন অঞ্চল।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থী-অভিবাসীদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য জার্মানি, সুইডেন ও ব্রিটেন। এরপর আছে, ফ্রান্স-ইতালি-অস্ট্রিয়া-সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি দেশ।

কোথা থেকে নামছে এই স্রোত?
ফ্রন্টেক্সের মতে, ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি আসছে সিরিয়া-আফগানিস্তান-ইরিত্রিয়া-ইরাক থেকে।
ইউএনএইচসিআর’র মতে, এ বছরের আট মাসে ইউরোপে যে শরণার্থী বা অভিবাসীরা প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার নাগরিক। আফগানিস্তানের আছে ১৪ শতাংশ আফগান, ৮ শতাংশ ইরিত্রিয়ান, ৪ শতাংশ নাইজেরিয়ান, ৩ শতাংশ ইরাকি, ২ শতাংশ সোমালিয়ান, ১ শতাংশ করে বাংলাদেশি, গাম্বিয়ান, ও সেনেগালিজ। আর ১৫ শতাংশ এশিয়া-আফ্রিকার কয়েকটি অনুন্নত দেশের নাগরিক। এই ১৫ শতাংশের মধ্যে আছে লিবিয়ান, ইথিওপিয়ান, মালিয়ান, উগান্ডানসহ সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের জাতিগুলোর লোকেরা।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud