May 5, 2026
ঢাকা: ভারতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার এক বাংলাদেশী নারীর লাশ ফেরত দিয়েছে দেশটির পুলিশ। নিহত নারীর নাম নার্গিস আক্তার (৩৪)। তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩/১, কেডিএ এপ্রোস রোডের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিনের মেয়ে। প্রায় চল্লিশ দিন আগে ভারতে ধর্ষনের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। সোমবার সকালে নিহতের লাশ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আসলাম খান।
বেনাপোল চেকপোস্টে লাশ নিতে আসা নিহতের মা মনিমালা নয়া দিগন্তকে জানান, আজমির শরীফ যাওয়ার জন্য মেয়ে নার্গিস আক্তার ও নার্গিসের মেয়ে কহিনূর কাকলীকে (০৯) নিয়ে ৯ মার্চ পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তিনি ভারতে যান। ওই দিনই হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা হন তারা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪/৫ জন যুবক দিল্লি এসে গেছে বলে আমাদেরকে নামতে বলে। এসময় আমরা সবাই ট্রেন থেকে নেমে যাই। নার্গিস ট্রেনে ভুলে রেখে আসা একটি ব্যাগ আনতে গেলে ৩/৪জন ওর মুখ চেপে ধরে ট্রেনের গার্ডের রুমে নিয়ে যায়।
মনিমালা বলেন, আমি অন্ধ মানুষ চোখে দেখি না। কেবল মেয়ের চিৎকার শুনতে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। পরে স্টেশন এলাকায় জিজ্ঞেস করে জানতে পারি এটা কানপুর স্টেশন। তিনি জানান, তাদের তিনটি পাসপোর্টই নার্গিসের কাছে ছিল। কয়েকদিন ধরে তিনি ওই স্টেশনে বসে কাঁদতে থাকেন। আর মানুষের কাছে মেয়ের খোজ জানতে চান। এ সময় কেউ বলেন, তোমার মেয়ে বাংলাদেশে চলে গেছে। পরে অপরিচিত কয়েকজন ১৬ মার্চ তাদের দু’জনকে পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধ পথে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়ে যায়।
গত ১৬ মার্চ হঠাৎ খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ নার্গিস ভারতে মারা গেছে বলে বাড়িতে খবর দেয়।
নার্গিসের মা আরো জানান, থানা থেকে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওই দিনই আমি থানায় একটি জিডি করি। মেয়ের ক্ষতিপূরণ ও লাশটি ফেরত এনে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ ৯টি দফতরে আবেদন করি। আমি এ হত্যার বিচার চাই।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ১৯ মার্চ খুলনা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিষয়টি বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনকে জানায়। ওই সময় নিহতের লাশ আগ্রার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছিল। দু’দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে লাশটি ফেরত এসেছে।