May 8, 2026
সান্তিয়াগো : একবছর পর আবার দেখা দুই দলের। সেবার ছিল নক আউট। এবার গ্রুপের ম্যাচ। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে ব্রাজিল। কোপার দ্বিতীয় ম্যাচ। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে একটা জয়, পরের রাউন্ডে খেলা নিশ্চিত করবে ব্রাজিল।
এই ম্যাচের থেকেও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নেইমার ও জুনিগা। এবং নেইমার ও জেমস রডরিগেজের দ্বৈরথ।
ব্রাজিল গত ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। পেরুর বিরুদ্ধে জিততে, অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক ভুল অনেক ত্রুটিও ধরা পড়েছে মানসচক্ষে। কিন্তু তারপরেও ব্রাজিল জিতেছে। জয় দিয়ে যখন যাত্রা শুরু করতে পেরেছে দুঙ্গার দল। তখন জোস পেকারম্যানের দল শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। জেমস রড্রিগেজ, রাদামেল ফালকাওদের নিয়েও তিন পয়েন্ট আদায় করতে পারেনি। ফলে কলম্বিয়ার কাছে যখন প্রতিযোগিতায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই, তখন ব্রাজিলের জন্য পরের রাউন্ডে খেলা পাকা করার।
আর এই ম্যাচেই পুরো ব্রাজিলের ভার একা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ২৩ বছরের নেইমার জুনিয়র। লাতিন আমেরিকার ফুটবল জগতে মেসি- রোনাল্ডোর দ্বৈরথ অপ্রয়োজনীয়। মেসির সঙ্গে নেইমারের তুলনা টানা হলেও, বয়সের দিক থেকেও দু’জনের ফারাক অনেক। বরং কলম্বিয়ার বছর ২৩’য়ের জেমস রড্রিগেজের তুলনাই চলে বেশি। এবং মানানসইও। শুধু দেশের হয়েই নয়, ক্লাব ফুটবলেও একে অপরের চির প্রতিদ্বন্দ্বী। রিয়াল মাঝমাঠকে যখন রড্রিগেজ আলোকিত করেন, তখন বার্সার ফরোয়ার্ড লাইনের ধার বাড়ান নেইমার। সেই জের টেনেই, সেই ছন্দ বয়ে এনেই নেইমার প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে জয়ের পরশ দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলীয়রা যাকে নিয়ে এতটা গর্ব করে নেইমার তার যোগ্য। নেইমারের সঙ্গে অদৃশ্য ছায়াযুদ্ধ চললেও, জেমস রড্রিগেজ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি। তবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোল করা এবং করানোর বিষয়ে আশাবাদী কলম্বিয়ান এই তারকা। কারণটাও নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘জানি ব্রাজিলকে হারানো সহজ নয়। কিন্তু আমাদের আরও এক হয়ে খেলতে হবে যদি ওই ম্যাচ জিততে চাই।’ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয় কেন সম্ভব। কেন তার দল গোলের আশা করতেই পারে তাও জানাতে ভোলেননি। ভেনেজুয়েলা যেমন রক্ষণে ভিড় বাড়িয়ে খেলে, ব্রাজিল ততটা রক্ষণশীল নয়। তার কথায়, ‘ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আরও ওপেন খেলা আশা করতে পারি। ওরা অনেকবেশি আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলবে, অনেকবেশি জায়গাও পাওয়া যাবে আক্রমনের। এটা আমাদের জন্য ভালো।’ তারকার উপস্থিতির দিক থেকে ব্রাজিলের থেকে এগিয়ে রয়েছে কলম্বিয়াই।
ব্রাজিলের আক্রমণকে সঠিক মাত্রা দেওয়ার মতো ফুটবলার কম। নেইমার একা একটা দলের সঙ্গে যুঝে উঠবেন কি করে! দিয়েগো তারদেলি ততটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেননি। উইলিয়ান চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি। নেইমারকে যে অস্কার সাহায্য করতে পারতো দুঙ্গার দলে সেও নেই। তবে ব্রাজিলের বর্তমান সমস্যা গোল করার থেকেও রক্ষণ সামলে রাখা।
নেইমার সান্তিয়াগোতে খেলবেন। একবছর আগেও খেলেছিলেন। কলম্বিয়ার রক্ষণ তাকে আটকে রাখতে পারেনি। ফোর্তালেজার ওই ম্যাচে নেইমারের গতি রোধ করার জন্য কশেরুকার হাড়ে চিড় ধরিয়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার জুয়ান জুনিগা। যদিও পরে নিজের ওই রুক্ষ খেলার জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে এই ম্যাচে ফের মুখোমুখি হবেন জুনিগা এবং নেইমার। নেইমারকে রোখার চ্যালেঞ্জ থাকবে এদিনও। সেদিনের নেইমারের থেকে অনেকবেশি শাণিত এই নেইমার। অনেকবেশি পরিণত। একা জুনিগাতে নেইমার আটক থাকবেন কিভাবে তাও একটা প্রশ্ন। হাজারো প্রশ্ন উঁকি দিলেও, তার উত্তর খুঁজতে হবে কলম্বিয়ার কোচ জোস পেকারম্যানকে। ব্রাজিলকে আটকে রাখার জন্য নেইমারকে বোতলবন্দি করতে হবে। কোপায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যও ব্রাজিলকে পরাজিত করতে হবে। রাদামেল ফালকাও, জেমস রড্রিগেজদের কাঁধে এখন সেই দায়িত্বই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে সান্তিয়াগো যেন ফোর্তালেজা না হয়ে যায়!-সংবাদসংস্থা