পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বোনের সুখের জন্য ভাগ্নেকে খুন!

Posted on June 30, 2013 | in সারা দেশ | by

Khun3_1

চট্টগ্রাম: বোনের সুখের জন্য মানসিক প্রতিবন্ধী ভাগ্নেকে (২০) হত্যা করেছে এক পাষ- মামা। সুদূর নারায়নগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে এনে হোটেল কক্ষে খুন করা হয় তাকে। হত্যাকাণ্ডের পর মামা শাহেন শাহ তার ব্যবহৃত সেল ফোনের সীমটি পথিমধ্যে ফেলে দেন। বিপত্তি ঘটে এ জায়গায়। সীমের সূত্র ধরে পুলিশ ২৪ দিন পর উদ্ধার করে সুমনকে। ঘটনার বিবরণে  জানা যায়, ভাগ্নে মো, সুমন (২০) জন্মের পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো। সে সমাজের বিভিন্ন মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করত, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করত।  যা তার মা হালিমা সহ্য করতে পারত না। বোনের অশান্তি দেখে ভাগ্নেকে হত্যার পরিকল্পনা করে সুমনের মামা শাহেন শাহ।

যেমন চিন্তা তেমন কাজ। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ৪ জুন ভাগ্নেকে নারায়নগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। উদ্দেশ্য যেভাবে  হোক তাকে হত্যা করা। চট্টগ্রামে আসার পর একই দিনে ভাগ্নেকে পতেঙ্গা সী বীচে পানিতে ফেলে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহেন শাহ কিন্তু প্রথম দিন তার সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এদিন ব্যর্থ হয়ে ৫ জুন  পিতা-পুত্র পরিচয় দিয়ে কদমতলী এলাকায় আবাসিক হোটেল ডায়মন্ডের ১২৯ নং একটি কক্ষ ভাড়া নেন। ওই দিন রাতে ভাগ্নেকে ১৬টি ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ও গেঞ্জি মুখে ঢুকিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

হত্যার পর লাশ কক্ষে রেখে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান শাহেন শাহ। ৬ জুন পুলিশ ওই হোটেলের তালা ভেঙ্গে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে ও পরে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করে। এ ঘটনায় নগরীর সদরঘাট থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। শাহেন শাহ পালিয়ে যাওয়ার সময় তার ব্যবহারিত সীমটি সীতাকুন্ডে ফেলে দেয়। সে সীমটি কুড়িয়ে পায় বারবকুন্ডের হাসান নামে এক ব্যক্তি। এই সীমের ব্যালেন্স ছিলো ৬৮ টাকা। ওই সীমের সূত্র ধরে পুলিশ হাসানকে আটক করে।

পরে হাসানের  স্বীকারোক্তি অনুযায়ি পুলিশ সীমের কল লিস্ট বের করে ২৯ জুন নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনগঞ্জের লক্ষ্ম্যারচর এলাকার একটি বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠান থেকে তাকে আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রত্যেক্ষদর্শী জানায়, শাহেন শাহ সাংবাদিকদেরকে বলেন, সুমন বাসায় চীৎকার, চেঁচামেচি করত। সর্বদা বাসায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে মারধর করত। তার ছোট বোনকে সবসময় যন্ত্রণা দিত।

সদরঘাট থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হালিমার সৎ মা হালিমাকে এক প্রতিবন্ধীর কাছে বিয়ে দেয়। আর এ ঘরে আসে আরেক মানসিক ভারসাম্যহীন এক পুত্র। প্রথমে ভাগ্নেকে পানিতে ডুবিয়ে, পরে ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহেন শাহ। পরে দু’টিতে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। তবে এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত বা কোন রহস্য আছে কিনা পুলিশ তদন্ত করছে।

ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শাহেনশাহকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud