পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বৃষ্টিতে বেহাল সড়কে ভোগান্তির শঙ্কা কাটছে না

Posted on September 26, 2014 | in জাতীয় | by

ঢাকা: কোরবানির ঈদ আর দুর্গাপূজার মতো বড় দুটো ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে মেরামতের ঘোষণা থাকলেও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে করুণ হয়ে উঠেছে ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন সড়কের অবস্থা। ফলে সরকারি আশ্বাসে ঘরমুখো যাত্রী আর চালকদের শঙ্কা কাটছে না । তারা বলছেন, সময়মতো মেরামত শেষ না হলে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন ব্যবসায়ীরাও বিপদে পড়বেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজয়া দশমীর ছুটি ৪ অক্টোবর। তার এক দিন পর ৬ সেপ্টেম্বর মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ। এই হিসাবে ৪ অক্টোবর থেকে সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। তবে আগের দিন শুক্রবার হওয়ায় দুয়েক দিন আগে থেকেই সড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড় শুরু হয়ে যাবে। সে অনুযায়ী ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে পরিবহন সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ

বলেন, “ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। অন্যান্য মহাসড়কগুলো এখনো মেরামত চলছে।” অবশ্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলে আসছেন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কগুলোর মেরামত কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। গত ঈদের মতো এবারও যাত্রীরা স্বস্তি নিয়েই যাতায়াত করতে পারবেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, টানা বৃষ্টি সড়কের কতোটা ক্ষতি করেছে তা দেখতে এবং সার্বিক বিষয় তদারকির জন্য শুক্রবার থেকে কয়েকটি দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যাবে।

তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর দ্রুত মেরামত করা হবে এবং গত ঈদের চেয়ে এবার সড়কপথে যাতায়াত আরো স্বস্তিদায়ক হবে বলেই আমার বিশ্বাস।” জোড়াতালি দিয়ে মহাসড়ক মেরামতের পর মোটামুটি ভালভাবেই পার হয় গত রোজার ঈদ। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কের অবস্থা শুনে অস্বস্তি কাটছে না যাত্রীদের। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আকবার হোসেন কোরবানির ঈদ করতে পরিবার নিয়ে রংপুরে গ্রামের বাড়িতে যেতে চান। তবে রাস্তার অবস্থা নিয়ে তিনি খানিকটা শঙ্কিত। “বিশেষ করে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় যানজটে পড়লে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লেগে যায়। এ আতঙ্কেই আছি।” ঢাকায় কর্মরত চট্টগ্রামের বাসিন্দা আবু হোসেন রতন বলেন,
“কুমিল্লা অংশের যানজট আর রাস্তা নিয়ে চিন্তায় আছি। অনেক সময় দেখা যায় পরিবার পরিজন নিয়ে বাসের মধ্যেই ১২ ঘণ্টা কাটাতে হয়।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, বর্ষা মৌসুম বিদায়ের প্রাক্কালে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। “অক্টোবরের প্রথমার্ধে বিদায় নেবে বর্ষা। এর আগ পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হতে পারে।” কুমিল্লা: আতঙ্কের নাম যানজট, সড়কও বেহাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার ১০০ কিলোমিটার এলাকার অবস্থা গত কয়েক বছর ধরেই নাজুক। এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মাঝে পিচ উঠে গেছে, রাস্তা উঁচু-নিচু ঢেউয়ের আকার ধারণ করে যান চলাচল বিপদজনক হয়ে পড়েছে। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা দেবে গেছে। ধীর গতিতে যানবাহন চলাচলের ফলে বাড়ছে যানজট, জনদুর্ভোগ। পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শেষ সীমানা মোহাম্মদ আলী বাজার পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।

এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলার হাছানপুর, শহীদনগর, গোমতা ও হরিপুর এলাকায় মহাসড়ক জুড়ে রয়েছে অসংখ্য গর্ত। বিভিন্ন স্থানে সড়কে ফাটলও রয়েছে। গৌরীপুর বাজার, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, চান্দিনা বাজার, মাধাইয়া বাজার, কুমিল্লা সদর উপজেলার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা থেকে আলেখারচর পর্যন্ত এলাকাতেও মহাসড়কের বেহাল দশা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দত্তসার থেকে লালবাগ পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন স্থান অসমান হয়ে পড়েছে। চৌদ্দগ্রামের বাবুর্চি রাস্তার মাথার দক্ষিণে, চৌদ্দগ্রাম বাজারের পূর্ব অংশ, বিসিক শিল্পনগরীর সামনে, কালির বাজার, আমানগণ্ডা, মিয়াবাজার, নানকরা, আমজাদের বাজার, চিওড়া, লাটিমি, দত্তসার, জগন্নাথদিঘির পাড় ও ফাল্গুনকরাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য উচু-নিচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী এশিয়া লাইনের স্বত্ত্বাধিকারী জলিল আব্দুর রব জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলতে গিয়ে তাদের বাসগুলো খানা- খন্দে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। মহাসড়কের প্রকল্প-২ এর ব্যবস্থাপক মাসুম সারোয়ার বলেন, “মহাসড়কের এ অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নতুন সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়েছিল। এ কারণে হয়তো রাস্তা দেবে গেছে। তবে চার লেইনের কাজের পাশাপাশি সংস্কারের কাজও করা হচ্ছে।”

মহাসড়ক প্রকল্প-১ এর ব্যবস্থাপক দিদারুল আলম তরফদার বলেন, “অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে দাউদকান্দির কিছু এলাকা, মাধাইয়া, চান্দিনা, ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা, আলেখারচরে কিছু গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিটুমিন দিয়ে গর্তের জায়গা ভরাট করে দিচ্ছি।” মহাসড়কের ত্রুটিপূর্ণ অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা না করলে এবারের ঈদ ও পূজার ছুটিতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কষ্টসাধ্য হবে বলে মনে করছেন পূর্বাঞ্চল মহাসড়ক পুলিশের সুপার (এসপি) মো. রেজাউল করিম।0200802f16ae21a4496a6c9135401428-4 c3207384066deeedc5e05ab677afeeea-6 (1)

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ২৫ কিলোমিটার অংশের সড়কে একাধিক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে গর্ত তৈরি হয়েছে।রোজার ঈদের আগে জোড়াতালি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও গত কয়েক দিনের বর্ষণে রাস্তা আগের চেহারায় ফিরে গেছে। মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক সালেহ আহম্মদ পাঠান জানান, গর্তে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে একদিকে সংস্কার করলে অন্যদিকে আবার গর্ত তৈরি হচ্ছে। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের (ফেনী অংশ) উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক জয় প্রকাশ চৌধুরী বলেন, “পুরাতন সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। পানিতে বিটুমিন নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও বিভিন্ন অংশের মেরামত কাজ শেষ হয়েছে।”ঢাকা-ময়মনসিংহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেইনে উন্নয়নের কাজ শেষ না হওয়ায় টানা বৃষ্টিতে ছোট বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে অসমাপ্ত অংশে। ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কের ত্রিশাল ও ভালুকা অংশের ৫৭ কিলোমিটার সড়কে মেরামত ও সংস্কার চললেও এখনও অনেক স্থানে গর্ত রয়ে গেছে। অবশ্য মহাসড়ক সচল রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতিই নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এ মহাসড়কের জয়দেবপুর ময়মনসিংহ চার লেইন প্রকল্পের উপ ব্যবস্থাপক মোকাদ্দেসুল হক। সালনা মহাসড়ক থানার ওসি এসএম শাহরিয়ার হাসান জানান, গাজীপুর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কের কোনাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও মৌচাক এলাকায় খানা-খন্দ তৈরি হওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। “এ ব্যাপারে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার জানিয়েও সুরাহা হয়নি।” গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিবুল হক জানান, তারা সংস্কার কাজ চালিয়ে গেলেও বৃষ্টির কারণে তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সুত্র….. বিডিনিউজ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud