February 23, 2026
ঢাকা : পেশাগত জীবনের চিন্তা-ভাবনা আপতত বাদ; মুশফিকুর রহিমের চারপাশে এখন কেবল শুভ পরিণয়ের আবহ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও তার পরিবারের ব্যস্ত সময় কাটছে বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজনে। এই তো আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান; এরপরই জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডির সঙ্গে গাঁটছাড়া বাধবেন মুশফিক। ‘এলিজিবল ব্যাচেলর’ মুশফিক প্রবেশ করবেন দাম্পত্য জীবনে। পাত্রী জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। সম্পর্কে তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শ্যালিকা। গত বছর অক্টোবরে মন্ডিকে আংটি পরিয়েছেন মুশফিক। আর বুধবার, মানে ২৪ সেপ্টেম্বর এই জুটির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান। বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিবাহত্তোর সংবর্ধনা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিয়ের সফল আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে দুই পরিবারকে। বুধবার বিমানবাহিনীর ফ্যালকন কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে মুশফিক-মন্ডি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটি। এর আগে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে কথা বলেছেন মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ। জানিয়েছেন, ‘ঢাকা ছাড়াও মুশফিকের বিয়ে নিয়ে বগুড়ায় একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করব ১০ অক্টোবর। সেখানে পারিবারিক আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করা হবে। দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনেরা মিলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’
অতিথি হিসেবে কাদের দাওয়াত করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুশফিকের বাবা বলেছেন, ‘এটা আসলে বলতে চাই না। এভাবে বললে অনেকে ভাবতে পারেন অহংকার প্রকাশ করছি। তবে এতটুকু বলতে পারি, আমরা আমাদের সাধ্যমতো বিয়ের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছি। এতে আত্মীয়-স্বজনরা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। আশা করি সবাই বিয়েতে আসবেন এবং আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা ও সাবেক বিরোধী দলের নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনেককেই দাওয়াত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাহবুব হামিদ বলেছেন, ‘নেতা-নেত্রীদের মধ্যে অনেককেই দাওয়াত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকেও দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু উনি জাতিসংঘের সাধারণ সভার ব্যস্ততার কারণে থাকতে পারবেন না। সাবেক বিরোধীদলীয় নেতাকেও দাওয়াত করেছি। উনি আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন শুনছি জামালপুর ওনার বিশেষ অনুষ্ঠান আছে। সুতরাং উনি আসতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া এরশাদ সাহেব এবং রওশন এরশাদকেও দাওয়াত করেছি। উনারাও আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।’ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদেরও দাওয়াত করা হয়েছে। এই বিষয়ে দ্য রিপোর্টকে তিনি বলেছেন, ‘সাবেক দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকাদের সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সবাইকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। দোয়া করবেন যেন সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারি।’ মুশফিকের বাবার মতে, ‘সকাল (মঙ্গলবার) থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছি।
’ নিজের হাতে কিছু না করলেও এদিক-সেদিকে নানান কাজ কর্মের তদারকি করতে হচ্ছে তাকে। বলেছেন, ‘খুব ব্যস্ততার মধ্যে আছি। ছেলের বিয়ে বলে কথা; অনুষ্ঠান বাইরে হলেও ইতোমধ্যে অনেক আত্মীয়-স্বজন চলে এসেছে বাসায়। তাদের খাওয়া-দাওয়া, সাজ-সজ্জ্বা… সব মিলিয়ে অনেক কিছুর আয়োজন; আমার দুই ছেলে এবং মেয়েসহ সবাই ব্যস্ত।’
জাতীয় দলের অধিনায়কের বিয়ে বলে কথা। স্বাভাবিকভাবেই একটা কৌতূহল থেকে যায় সবার-মুশফিকের বিয়ের কেনাকাটা কেমন হয়েছে? উত্তরে অধিনায়কের বাবা বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে কিছু জিনিস কেনা হয়েছে; আবার বাইরে থেকে কিছু জিনিস আনা হয়েছে। সব মিলেই অনেক কেনাকাটা হয়েছে। সাধ্যের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব সবটুকুই করব আমরা।’
উল্লেখ্য, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটির পুরো আয়োজন করছে ওয়েডিং ডায়েরি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মুশফিকের চুক্তি হয়েছে।