পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বিদ্রোহী ঠেকাতে ব্যর্থ উভয় জোট

Posted on February 15, 2014 | in জাতীয় | by

Untitled-1 copyমাজহার খন্দকার: উপজেলা নির্বাচন উভয় জোটের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের অগ্নিপরিক্ষা। তাই এই নির্বাচন স্থানীয় হলেও পূর্ণ রাজনৈতিক আদলেই হতে যাচ্ছে। দুই জোটের প্রধান দুই নেত্রী ইতিমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে সব অšত্মর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একক প্রার্থী দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। অšত্মর্দ্বন্দ্ব মিটাতে উভয় দলের নেতারাই হিমশিম খাচ্ছেন।  উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রায় সমানে সমান। অনেক জায়গায় বিরোধ মিটাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের হেন¯ত্মার শিকারও হতে হচ্ছে। বহু চেষ্টার পরও অর্ধেক কেন্দ্রে একক প্রার্থী দিতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তেমনি প্রতিপক্ষ বিএনপিরও একই অবস্থা। জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি তাদের জনপ্রিয়তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের যে চেষ্টা করছে তা বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্যই সম্ভব হবে না বলে মনে করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
অনেক স্থানেই কেন্দ্রের নির্দেশ মানছেন না উভয় পক্ষের তৃণমূল নেতারা। তাদের অভিযোগ সারাজীবন তিল তিল করে প্রস্তুতি নিয়েছি। আর কেন্দ্রীয় নেতারা গ্রামে বেড়াতে এসে বা¯ত্মবতা উপেক্ষা করে তাদের খেয়াল খুশিমতো সিদ্ধাšত্ম দিয়ে দিচ্ছেন। এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আর এ জন্যেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের পক্ষ থেকেই গতকাল এই বিদ্রোহ দমনে দল থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও রংপুরের পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের তিনজন করে মোট ৬ জন নেতা এবং কিশোরগঞ্জের কমিরগঞ্জে বিএনপির একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের সাথে কেন্দ্রীয় নেতারা মীমাংসা করতে গেলে তাদেরকে আন্দোলনে ব্যর্থ, পলাতক নেতা ও সরকারের দালাল হিসেবেও আখ্যায়িত করছেন বিদ্রোহীরা।
১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৯৭টি উপজেলা নির্বাচনের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোট গ্রহণের আগমুহুর্ত পর্যšত্ম ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সংখ্যা আরও কমে আসবে বলে আশা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এর মধ্যে বিদ্রোহী অনেক প্রার্থীকেই বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একক প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের জন্য গত ২৭ জানুয়ারি সাত বিভাগের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সাতটি টিম গঠন করা হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য গঠিত টিমের সদস্যরা এখন পর্যšত্ম সাংগঠনিক সফরেই বের হয়নি। এ বিভাগের আটটি উপজেলার মধ্যে সাতটিতেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। এ টিমের সমন্বয়ক বীর বাহাদুরের ভাষ্য হলো- আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই বৈঠক করে সফরে যাওয়ার বিষয়টি ঠিক করবেন। তবে উপজেলা নির্বাচনের জন্য গঠিত সক্রিয় বিভাগীয় টিমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগের ১৮টি উপজেলার মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন।

আর বরিশাল বিভাগীয় টিমের লিডার আমির হোসেন আমু ইতোমধ্যে ঝালকাঠি ও বরিশাল সফর করেছেন। এ বিভাগে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচন হতে যাওয়া তিনটি উপজেলার মধ্যে একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। খুলনা বিভাগীয় টিমের প্রধান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এখনো সাংগঠনিক সফরে না গেলেও এ দলের সমন্বয়ক বি এম মোজাম্মেল হক কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর সফর করেছেন। এ বিভাগের ১৪টি উপজেলার মধ্যে নয়টিতেই তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন।

রংপুর বিভাগের টিম লিডার বেগম মতিয়া চৌধুরী। এর সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, ফারুক খান, অসীম কুমার উকিল ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রংপুর, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর সফর করেছেন। এ বিভাগের ১৭টি উপজেলার মধ্যে আটটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। আর সিলেট বিভাগের টিম লিডার ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যেই সিলেট ঘুরে এসেছেন। এ বিভাগের ১২টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কমিটি প্রতি উপজেলায় দল ও জোটের একক প্রার্থী চূড়াšত্ম করছেন। কিন্তু ১৯ ফেব্রুয়ারির প্রথম দফা নির্বাচনে অধিকাংশ কেন্দ্রেই তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে বেশির ভাগ উপজেলায় দলীয় সিদ্ধাšত্ম উপেক্ষা করে অনেকে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকায় জয় হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতারা।

তবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ১১৭টি উপজেলায় একক প্রার্থী দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্তা নেতারা। ১৯ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেয়ার চেষ্টাও চলছে। প্রথম দফার নির্বাচনে বিএনপি এক্ষেত্রে কিছুটা সফলও হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী প্রথম দফা নির্বাচনে ৩৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে জামায়াতকে ১৮টি উপজেলায় ছাড় দেয় বিএনপি। বাকি ১৫টি উপজেলায় জামায়াতের নেতারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু কেন্দ্র থেকে বিএনপি ১৮টি উপজেলায় ছাড় দিলেও স্থানীয় নেতারা ছাড় দিতে নারাজ। এর মধ্যে ১৭টিতেই বিএনপির নেতারা ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বগুড়া জেলা বিএনপি নেতাদের মতে, বিএনপির ঘাঁটি এই জেলায় জামায়াতকে ছাড় দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই। বিএনপির তথ্যানুযায়ী কেবল নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায় জামায়াতের একক প্রার্থী আছে। সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।

সুজনের সম্পাদক ড. বদিউলআলম মজুদার বলেন, স্থানীয় নির্বাচন রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া হতে দেওয়া উচিৎ। রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট প্রাথী দিলে প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। এতে ভোটারদের সৎ, যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে কষ্ট হবে। যার দরুন অযোগ্যরা নির্বাচিত হতে পারেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা যাবে না।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud