April 4, 2026
ঢাকা: বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে বিদ্যুৎ বিভাগে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। কোনো তথ্য গোপন করা হবে না। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব জানিয়েছিলেন, অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অটোমেটিক ডাটা রেকর্ডার নেই। সময় রেকর্ড করা হয় ম্যানুয়ালি। যে কারণে ঠিক কোথা থেকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এতে একক কারণ চিহ্নিত করা না হলেও, সম্ভাব্য অনেকগুলো কারণ চিহ্নিত করে রিপোর্টে ২০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। লো-ভোল্টের কারণে ‘ব্লাক আউট’ হয়েছে। কিন্তু লো-ভোল্ট ঠেকানোর জন্য অনেকগুলো গেটওয়ে ছিলো, সেগুলো কাজ করেনি।

কমিটি সূত্র জানিয়েছে, ১ নভেম্বর বেলা ১১টা ২৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে লো-ভোল্টেজ শুরু হয়। এরপর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়। কিন্তু ঠিক কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রথম বসে গেছে তা চিহ্নিত করা যায়নি। কারণ সবগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র একই সময়ে চলছে না। একেকটি একেক টাইমিংয়ে চলেছে। কোনোটি আবার ম্যানুয়ালি রেকর্ড করা হয়। সদস্য সচিব মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ২০০৭ সালে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর জিপিএস চালুর সুপারিশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু চিহ্নিত করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরণের পরিস্থিতি এড়াতে ২০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এতে রয়েছে সবগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র টাইম সিক্যুয়েন্স করে জিপিএস টাইমিং করা, রেকর্ডার ও ডিএফডিআর স্থাপন। বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে গেলে দ্রুত বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করার জন্য ব্লাক স্ট্যাটার জেনারেটর সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশও থাকছে। দেশের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশের নীচে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা। যাতে ভারতের বিদ্যুৎ ট্রিপ করলেও গ্রিডে কোনো সমস্যা না হয়। অনেক সময় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে, ভারত থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এতদিন এমনটি করা হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ হোসাইন।
স্ক্যাডা বৃদ্ধি, ১৩২ কেভি লাইনের আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি রিলে বাড়ানো, উৎপাদন ও ফিডারের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ন্যাশনাল লোড ডেসপার্স সেন্টারকে (এনএলডিসি) আরও শক্তিশালী, এনএলডিসিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও এনএলডিসির সফটওয়ার ও হার্ডওয়ার প্রতি পাঁচ বছর পরপর আপডেট করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। ওই দিনই উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে ব্যর্থ হয়ে পঞ্চম কার্যদিবসে প্রাথমিক রিপোর্ট দেয় কমিটি। অভ্যন্তরীণ কারণেই বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, প্রাথমিক রিপোর্ট বলা হয়।