পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বাহারি পিঠায় নবান্ন উৎসব

Posted on November 21, 2014 | in লাইফস্টাইল | by

pitha-utsob (1)বাহারি পিঠায় নবান্ন উৎসবঢাকা: গ্রাম বাংলার বাহারি পিঠায় ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব চলছে রাজধানীর রমনার বটমূলে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও বাহারি পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় সকাল থেকেই রমনার বটমূলে বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। উৎসবের প্রথম দিনে বেচা-কেনা ভালো না হলেও দ্বিতীয় দিনে প্রত্যশা অনুযায়ী বিক্রি হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৭ থেকে শুরু হওয়া উৎসব চলছে রাত ৯টা পর্যন্ত। এ উৎসবে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ এলাকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে গড়া পিঠাপুলিসহ বিভিন্ন পণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। নবান্ন উৎসবে প্রায় শতাধিক রকমের পিঠা বিক্রি করা হচ্ছে।
ডা. সুরাইয়া রহমান স্বামীর সঙ্গে এসেছেন নবান্ন উৎসবে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ব্যস্ত ভাপ ওড়া গরম পিঠা খেতে। উৎসবে এসে কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতেই জবাব, ‘খুবই ভালো লাগছে এমন একটি আয়োজনে আসতে পেরে।’ অতীতের স্মৃতি চারণ করে সুরাইয়া বলেন, গ্রামের বাড়িতে যখন আম্মা পিঠা বানাতেন, তখন বাড়িতে এক ধরনের উৎসব হত। গরম পিঠা খাওয়ার জন্য ভাই-বোনদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও চলতো।
তিনি বলেন, সেগুলো মনে হলে অনেক খারাপ লাগে। আর কি সেসব দিন ফিরে পাবো? জানি কখনোই পাব না। তাইতো নবান্ন উৎসবের কথা শুনেই ছুটে এলাম।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রোজিনা আক্তার বলেন, নবান্ন উৎসবে এসে নতুন নতুন পিঠা সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছি। বাসায় গিয়ে এগুলো বানানোর চেষ্টা করবো। এছাড়া ছেলে মেয়েদের তো আর গ্রামে নিয়ে গিয়ে পিঠা খাওয়াতে পারছি না। তাই এখানে নিয়ে এলাম।
বাহারি পিঠায় নবান্ন উৎসব
সকাল থেকে উৎসবে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান একাধিক বিক্রেতা। নেত্রকোনো ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্য পিঠা ঘরের বিক্রেতা হুমায়ন আহমদ বাংলামেইলকে বলেন, বেচা-বিক্রি ভালো না। গতকালও বিক্রি ভালো হয়নি। প্রত্যাশা ছিল আজ শুক্রবার ভালো বিক্রি হবে। কিন্তু আজও বিক্রির অবস্থা খারাপ।
নেত্রকোনো ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্য পিঠা ঘরের প্রায় ৩০ প্রকারের পিঠা রয়েছে, এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ঝিনুক, সন্দেশ, নকসী পিঠা, ফুল পিঠা, ডিম পিঠা, পাটিশাপটা, পুলি পিঠা, পুলিভাঁজা, মাল পোয়া, গজা, খেজুর, ফুল পাকান, ঝাল পোয়া, নারকেল পিঠা, নাড়ু, ভাপা পিঠা। প্রতি পিচ পিঠা ৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ক্রেতারা কিনে খেতে পারবেন।
মানিকগঞ্জ পিঠা ঘরে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ধরনের পিঠাপুলি। এ দোকানের বিক্রেতা মাহবুবা বাংলামেইলকে বলেন, ১২ হাজার টাকা দিয়ে এই দোকান নিয়েছি। কিন্তু বিক্রির যে অবস্থা, মনে হচ্ছে আসল টাকায় উঠবে না।’
উৎসবে শুধু পিঠায় বিক্রি হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। উৎসবে অংশ নেয়া অন্য পণ্যের দোকানে বিক্রির অবস্থা ভালো না। বউনি না হওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক দোকানে। চারু মেলাতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি, জামদানি, সিল্কের শাড়ি আয়োজন থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত একটিও শাড়ি বিক্রি হয়নি তাদের।
চারুমেলার বিক্রিতা নাহিদ কবির জানান, নবান্ন উৎসবে গ্রাম বাঙলার শাড়ি-চাদর বিক্রি না হওয়াটা সত্যি আশ্চর্যের বিষয়। দেশের মানুষ দেশীয় সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে।
তিনি জানান, ৮শ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি এবং ৮শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা মূল্যের চাদর পাওয়া যাচ্ছে তাদের স্টলে।
স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংস্কৃতিক সংগঠন শোবিজ এন্টারটেইনমেন্ট চাষী নবান্ন উৎসবের আয়োজন করেছে।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud