March 6, 2026
গোলাম রিয়াদ : বিশ্ব বাবা দিবস নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, সমালোচনাও। কেউ বলেন সারা বছরে বাবার খোঁজ না রেখে একটা দিন বাবা নিয়ে মাতামাতি করার কোনো মানে নেই। কেউ আবার বলে থাকেন, সারা বছর যেভাবেই কাটুক না কেন, যতোই দূরে থাকা হোক না কেন বাবার থেকে-এই একটা দিনে হোক বাবার ভালোবাসায় বসবাস।
বাবা সন্তানের কাছে বটবৃক্ষের মতো। বাবার শাসন আমাদের জীবনকে বাস্তবতার মুখোমুখী হতে শিক্ষা দেয়। আর সবার মতো তারকাদেরও বাবা নিয়ে আবেগ আছে আকাশ ছোঁয়া। আজ শুনব
প্রিয় তারকাদের মুখে তাদের বাবাকে নিয়ে সেই আবেগের কিছু গল্প-
পরিমনী
বাবা দিবসে অনেক সাংবাদিক জানতে চেয়েছেন আমার অনুভ’তি কি?আসলে এই দিবস নিয়ে নির্দিষ্ট কোন ভাষা জানা নেই। আমার মনে হয় ভালবাসার প্রতিটা দিনই স্পেশাল। দিবস এলেই সবাই ফেইসবুক টুইটারে ছবি দেয়। পৃথিবীর কিছুতেই আমি আমার কষ্ট শেয়ার করতে পারবো না। আমার অনুভুতি সেই বুঝতে পারবে যাদের বাবা মা নেই…..
সায়মন
ছোট বেলায় যখন কোন কিছুর জন্য মা এর কাছে বায়না করতাম মা বলত বাবা কে বলো,আর বাবার কানে কথা টা যাওয়া মাএ ই সেই জিনিসটি সামনে এনে হাজির করত বাবা।কিনতু এখন অনেক বড় হয়ে গেছি,কাজের ব্যসতর কারনে বাবার সাথে খুব ই কম দেখা হয়, সারা দিন শুটিং শেষে যখন বাসায় ফিরি তখন ঘুমিয়ে পড়ি আর ,আর যখন আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি আবার তখন দেখি বাবা অফিসের জনা বেরিয়ে পড়ল,এখন ও বাবার সেই ভালোবাসা টা আনুভব করি যত দূরে থাকি না কেন, যখন শুটিং এর জন্য দেশের বাহিরে যাই সেই ছোট বেলায় মত বাবা কে আজ ও জালাই ,একটু পর পর ফোন দিয়ে বাবা কেমন আছো,কি কর আর ও কত রকমের পাগলামি করি বাবার সাথে,বাবা কখনোই রাগ করতো না, একটু মিষ্টি হেসে বলে বাপিপ তুই সেই ছোট ই রয়ে গেলি,সেই ছোট ছোট দুষটমি,এক সাথে বসে গলপ করা সব গুলো খুব মিস করি,আজ বাবা দিবস তাই আমি আমার বাবা কে ও পৃথিবীর সব বাবা কে জানাই অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
মৌসুমী
আমার বাবা মো. নাজমুজ্জামান মনি শুধু আমাকে জন্ম দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ করেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। আমার কাজ ছিল শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করা। আর বাকি সবকিছুই বাবা দেখতেন। আজ বাবা আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে। প্রতি মুহূর্তেই বাবাকে মিস করি।
কিন্তু বাবা যে শিক্ষা আমাকে দিয়েছেন তা আজও আমাকে পথ দেখায়। বাবার দেখানো পথেই আমি এখনও হাঁটছি। মনে হয় বাবা আমাকে হাত ধরে রয়েছেন। আমি নিশ্চিন্তে হাঁটছি। বাবাকে নিয়ে আমার স্মৃতির কোন শেষ নেই। আমরা তিন বোন।
আমি, স্নিগ্ধা আর ইরিন। বাবা তিন বোনকেই সমান দৃষ্টিতে দেখতেন। আমরাও তিন বোনের কেউই বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হইনি। তবে সিনেমায় আসার কারণে আমার প্রতি বাবার দায়িত্বটা ছিল অনেক বেশি। মূলত বাবার পরিকল্পিত নির্দেশনার কারণেই আমি আজ মৌসুমী হতে পেরেছি।[
নির্মাতাদের চেষ্টা আর দর্শকদের ভালবাসায় আমি আজকের মৌসুমী। সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু বাবা আমার জন্য যা যা করেছেন সেটা আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। বাবার ঋণ এক জীবনে তো নয়ই, কয়েক জীবনেও শোধ করতে পারবো না। বাবার ঋণ শোধ করা যায় না।
দিঘী
বাবাই আমার সব। তাকে দেখে দিনের শুরু, তাকে দেখেই বিছানায় যাই। রোজ রোজ আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেন। এরপর ব্রাশ করা থেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, স্কুল থেকে নিয়ে আসা সব কিছুতেই বাবা আমার পাশে থাকেন। আমার তো মা নেই। মা মারা যাওয়ার পর বাবায় আমার কাছে বাবা ও মা। বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসেন। বাবা আমার স
কল ইচ্ছে পূরণের দৈত্য।
ববি
আমি আমার বাবাকে ছাড়া কিছুই কল্পনা করতে পারি না। আমার কাছে আমার বাবা পৃথিবীর নির্দোষ ব্যাক্তি। বাবা ছাড়া সবার জীবন অর্থহীন । আমার বাবা সামান্য অসুস্থ । সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।
মৌটুসী
বাবা চট্টগ্রামে থাকেন। এখন তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভাল না। বুঝ হওয়ার পর থেকে দেখেছি বাবা কতটা কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। নিজের পেশাগত কাজে আমাকে ঢাকায় থাকতে হচ্ছে।
নিয়মিত বাবার খোঁজ নিচ্ছি। আসলে বাবার ভালবাসা যে কি সেটা বলে বোঝাতে পারব না। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
সম্রাট
দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক আমার বাবা-এই প্রাপ্তি আমাকে গর্বিত করে। পর্দার অনেক বড় নায়ক তিনি, দুর্দান্ত অভিনেতা। দীর্ঘ ৪৮ বছর দর্শকদের মোহিত করে রেখেছেন নিজের অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে। আজ তিনি নায়করাজ। তবে আমার কাছে পর্দার হিরোর চেয়ে রিয়েল লাইভের হিরো রাজ্জাক হচ্ছেন বেশি প্রিয়। কারণ, আমি তো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছি। নায়করাজের ছোট ছেলে আমি। কিন্তু আমার বাবা জীবনে যে সংগ্রাম করেছেন, কষ্ট করেছেন, পরিশ্রম করেছেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি আমাদের পুরো পরিবারকে যতেœর সঙ্গে ভালবাসার সঙ্গে একই সুতায় বেঁধে রেখেছেন, তা আমাদের কাছে বড় একটা শিক্ষণীয় বিষয়। আমার বাবার মতো কেয়ারিং বাবা আমি খুব একটা দেখিনি। শত ব্যস্ততার মাঝেও বাবা আমাদের প্রচুর সময় দিয়েছেন। কাজের অজুহাতে, ব্যস্ততা দেখিয়ে পরিবারকে বঞ্চিত করেননি।