February 23, 2026
জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) অভ্যন্তরে ৩৮ শতাংশ জায়গায় অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখা মঙ্গলবার ঘেরাও করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্যাংকের শাখাটিকে ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন হল পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম। জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করার পর বিভিন্ন সময় ব্যাংকের ওই শাখাটিকে সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়। এ ব্যাপারে বহুবার সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কোন সুরাহা হয়নি।
২০০৪ সালের ১ নভেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের প্রধান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান (পরিকল্পনা), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও আরডিসি কলেজ পরিদর্শন করেন। সরেজমিন প্রতিবেদনে তারা জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিৎ তাদের স্থাপনাটি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা।’ এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্র্রতিষ্ঠা হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর মুর্শিদ কুলী খান জানান, সরকার বললেই শাখাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।
পরবর্তী সময়ে শাখাটি সরিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার চিঠি চালাচালি হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ ছাড়াও ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি হল উদ্ধার, নতুন ভবন নির্মাণ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়। এর পর আবারও শাখাটি স্থানান্তরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে উভয় মন্ত্রণালয়ই শাখাটি সরানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু সবার নির্দেশ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে বহাল তবিয়তে আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাটি।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখাটি স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানান শরীফুল ।