February 1, 2026
ঢাকা: চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্র“তি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপ লি হোয়েরো। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে এখানকার মানুষের উদ্যোক্তাসুলভ মানসিকতা এবং বাংলাদেশের জনগণ পরিশ্রমী। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন না করলেও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যান্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থসহায়তা দিচ্ছে। যার ফলে চলতি অর্থবছরে অর্থসহায়তা ২ দশমিক ৭ বিলিয়নের (২৭০ কোটি ডলার) রেকর্ড হয়েছে। যা অন্যান্য যে কোনো অর্থবছরের তুলনায় বেশি।
এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ দেয়া হচ্ছে তা মুখ্য নয়। বরং অর্থসহায়তা কতটুকু কাজে লাগলো তা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাংলাদেশের কৃষি, সেচব্যবস্থা, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থসহায়তা দিচ্ছি এবং কাজ করছি।
আমরা দেশটির উন্নয়ন আরও কাজ করতে চাই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এজন্য সামনের দিনে এসব খাতেও বিশ্বব্যাংকের অর্থসহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আমরা বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করতে চাই।এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেশের ১৬ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হতে পেরেছে বলেও জানান হুয়েরু। তিনি জানান, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়নের অর্থসহায়তা দিয়েছে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা এটাকে সমর্থন করি। এর জন্য বাংলাদেশকে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তি, অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানি অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তবে তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়মিত তদারকি, ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি আরও বাড়ানোর পস্তাব করেন তিনি।তবে এক্ষেত্রে রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি পোশাকশিল্পকে একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা দরকার।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। কোনো একটি খাতে অর্থ ব্যয় করলে অন্য খাতে অর্থায়ন করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করলেও অন্যান্য বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন করছে। আর অর্থায়ন নয়, বাস্তবায়নটাই আসল।
তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার যে উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে, এতে আমাদের সমর্থন রয়েছে। তবে এ জন্য অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর জোর দিতে হবে।বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্ক আরো বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্বব্যাংকের এই প্রেসিডেন্ট।
ফিলিপ লি বলেন, মধ্য আয়ের দেশ হতে হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬.৫% নয়, ৮% হতে হবে। আর সেক্ষেত্রে পরিবহন অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন ঘটাতে হবে।এছাড়া, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে বাংলাদেশের উদ্যোগ- প্রনংসনীয় বলেও এ সময় মন্তব্য করেন ফিলিপ লি।