February 21, 2026
ঢাকা: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিমোট কন্ট্রোল বোমা তৈরির সার্কিটসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের পাঁচ সদস্যকে আটক করার পর র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে এসেছে। গোয়েন্দারা দাবি করছেন তারা সিরিয়ার নুসরা ব্রিগ্রেডে প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশে আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিল। এজন্য এরা তাবলীগ জামায়াতের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া যেতে চেয়েছিল। এতদিন দেশে জঙ্গি মানেই জামায়াত শিবির বা বিএনপিকে রাজনৈতিক ভাবে দোষারোপ করার মধ্যে দিয়ে একটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মানসিকতার মধ্যেই দায়সারা গোছের রাজনৈতিক দায়িত্ব শেষ করতেন রাজনীতিবিদরা। সময় পাল্টেছে। জঙ্গিরা আরো তৎপর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশকে ভূকৌশলগতভাবে কোনো বৃহৎশক্তি জঙ্গি ফাঁদে ফেলে ব্যবহার করার আগেই এদের বিরুদ্ধে আরো কঠিন অভিযান পরিচালনা দরকার হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মো. আসিফ আদনান (২৬) এবং ফজলে এলাহি তানজিল (২৪) দেশের দুই প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। এরা দুইজনে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। তবে তিনি তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেননি।
অপর একটি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসিফ আদনানের পিতা সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি আব্দুস সালাম। তিনি বর্তমানে অবসরে রয়েছেন। আদনান দীর্ঘদিন ধরে হুজির হয়ে কাজ করছে। আলকায়েদা নেতা জাওহিরির সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিও দেখে তারা অনুপ্রানিত হয়েছিল। অপরদিকে অপর জেএমবি সদস্য ফজলে এলাহি তানজিলের মা ওএসডি যুগ্ম সচিব উম্মে ফাতেমা। তিনি সর্বশেষ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তানজিল একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করেছে।
এতদিন এমন ধারণা ছিল যে গরিব ও পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর এলাকার মানুষকে জঙ্গি তৎপরতায় সহজেই জড়িয়ে ফেলা যায়। জঙ্গিদের টার্গেট এমন হয়ে থাকে। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত করে শিক্ষিত পরিবার ও উন্নতমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করতে পারছে জঙ্গিরা। গোয়েন্দাদের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেলেও আরো আগে এধরনের তৎপরতা প্রয়োজন ছিল যাতে তারা জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুযোগ না পায়। জঙ্গি তৎপরতা বিনাশ করা হয়েছে এমন রাজনৈতিক কৃতিত্ব জাহির করার আড়ালে এটা এখন স্পষ্ট যে জঙ্গিরা থেমে থাকেনি। তারা নতুন আঙ্গিকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এধরনের ঘটনাগুলো এমন এক সময় ঘটছে যখন সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের ঘায়েল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলো এক সঙ্গে জঙ্গি বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করছে। এজন্যে সিরিয়ার অনুমতির কোনো প্রয়োজন বোধ করেনি দেশুগুলো। যদিও মার্কিন মিডিয়া বলছে, এতদিন এসব দেশই আইএস জঙ্গিদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারকে ফেলে দিতে দেশটিতে পাঠিয়েছিল। নুসরা সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় যেখানে ইরাক সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর মাধ্যমে আইএস জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র এসেছে।
আইএস জঙ্গিদের তালিকায় পশ্চিমা দেশগুলোর বেশ কয়েক হাজার পথভ্রষ্ট যুবক এমনকি যুবতিরাও নাম লিখিয়েছে। যেমন বাংলাদেশের তরুণরাও পথভ্রষ্ট হয়ে এধরনের জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছে এবং র্যাব তাদের গ্রেফতার করতেও সক্ষম হচ্ছে। এখন সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক চেতনা দিয়ে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এসেছে। নাহলে শিক্ষিত পরিবারের ছেলেমেয়েরা এধরনের তৎপরতায় আশঙ্কাজনক হারে জড়িয়ে পড়তে পারে। এখানে রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ করে দায়িত্ব শেষ করার কোনো অবকাশ নেই। কারণ জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত থাকলে একদিন তা লক্ষ্য করে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, পাকিস্তানের মত মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জঙ্গি বিমানও যে বাংলাদেশে এসে বোমা বর্ষণ করবে না বা ড্রোন হামলা হবে না তার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।