April 22, 2026
ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোনে পাচ্ছেন না বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ বার ফোন দিয়েও ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি। দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সবগুলো ফোন বন্ধ পেয়ে অন্য মাধ্যমে যোগাযোগ করেও ফখরুলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে। এ নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ তারেক রহমান। এ অবস্থায় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদটি নিয়ে তিনি নতুন করে চিন্তাভাবনা করছেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এদিকে মহাসচিবের আত্মগোপন ও শীর্ষ নেতাদের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতিতে চরম বিরক্ত দলের এ কান্ডারি। নির্বাচন প্রতিরোধের আন্দোলনে সারা দেশ যখন উত্তাল, তখন ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পালিয়ে বেড়ানোয় চরমভাবে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও। তারেক রহমানও বিষয়টি জানেন।
দেশে-বিদেশে এ নির্বাচন ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় নেতাদের দূরদর্শিতার অভাবে আওয়ামী লীগের কৌশল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ জন্য দলের প্রবীণ নেতাদের কিছুটা কোণঠাসা রেখে আন্দোলন জমাতে দলের ভবিষ্যৎ তরুণ নেতাদের সামনে আনতে নিজেই কথা বলা শুরু করেছেন তারেক রহমান। গত কয়েক দিনে একাধিক নিবেদিতপ্রাণ এমন তরুণ নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন তিনি। দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থায়ও দলের মহাসচিব কেন প্রকাশ্যে না এসে আত্মগোপনে থাকছেন, তা নিজেই বুঝতে পারছেন না তারেক রহমান। মির্জা আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে অভিযোগের পাহাড় জমেছে তার কাছে।
মহাসচিবের কার্যক্রম আগে থেকেই খুব একটা ভালো চোখে দেখেননি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তারেক যেভাবে তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা-ও যথাযথভাবে পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এ নিয়েও রয়েছে চরম ক্ষোভ।
এ অবস্থায় মহাসচিব পদটি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন দলের কান্ডারি। যেকোনো সময় এ পদটিতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুর নাম রয়েছে। তবে এর মধ্যে তরিকুল ইসলাম এ পদটি নিতে চান না। কারণ, এর আগেও তাকে মহাসচিব পদটি দেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি রাজি হননি। তিনি এখন যেখানে আছেন সেখানে থেকেই কাজ করতে চান।
এদিকে দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতায় চলমান এ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা। নির্বাচন-পরবর্তী ‘অবৈধ সরকারের’ সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারেক রহমান।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আত্মত্যাগকে অর্থবহ করে তুলতে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে যেকোনো মূল্যে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পর পর দুটি ভিডিও বার্তায় তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছে। তারেক রহমান নিজেও জানেন তৃণমূলে কতটা জনপ্রিয় তিনি। এ জন্য কিছুদিন পরপরই আরো ভিডিও বার্তা পাঠাবেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক আন্দোলনে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার ভূমিকায় তাদের ওপর অসন্তুষ্ট তারেক রহমান। ওই নেতাদের ওপর আস্থা রেখেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তিনি নিজেই এখন থেকে আন্দোলনসহ সার্বিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপাতত দেশে ফিরতে না পারলেও লন্ডনে বসেই তিনি দল গোছানোর কাজ সারবেন এবং আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।