ঢাকা: মন্ত্রিসভা শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান শ্রম আইন সংশোধনে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’তে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। তিনি জানান, সরকার এই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর কলকারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার আশা করছে, শ্রম আইনের আরো উন্নয়ন ঘটলে বাংলাদেশকে প্রদত্ত জেনারেলাইজ্ড সিস্টেম অব প্রিফারেন্স (জিএসপি) প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভা আজ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন করেছে। এতে খাদ্যে ভেজালদানের মত গুরুতর অপরাধ একাধিকবার সংঘটনের ক্ষেত্রে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভা মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি) আইন-২০১৩’র খসড়ারও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
সচিব বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বর্তমানে বলবৎ ১৯৫৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশের স্থলাভিষিক্ত হবে। তিনি বলেন, ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেবিনেট বৈঠকে পেশের আগে মন্ত্রিসভার অনুশাসনের ভিত্তিতে এই আইনটি আরো উন্নত করা হবে। এই আইনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রশাসনিক ও কারিগরি ক্ষমতাসম্পন্ন ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই কর্তৃপক্ষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ২২ প্রকার অপরাধের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং খাদ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং ও বিতরণের সকল পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আইনগত কর্তৃত্ব থাকবে। খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি কর্তৃপক্ষকে নীতিগত নির্দেশনা দেবে এবং একটি কারিগরি কমিটি কারিগরি সহায়তা দেবে। এ আইনে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা এবং এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাবার জন্য ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন ভূইঞা বলেন, বিদ্যমান মাতৃদুগ্ধ বিকল্প (নিয়ন্ত্রণ ও বিপণন) ১৯৮৪ সংশোধন করে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুদের বাড়তি খাদ্য এবং উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বিপণন ও বিতরণ সংস্থাগুলো নিবন্ধন এবং শিশু খাদ্যের বিকল্প ক্রয় ও বিপণনের জন্য সরকারের পূর্বানুমতির বিধান রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইন লংঘনের জন্য তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ ব্যাপারে একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য ২০১০ সালে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকারের আলোকে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সম্পৃক্ত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।