May 7, 2026
ঢাকা: তৎকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর মতো বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ছাড়তে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ছাত্র হত্যায় জড়িতদের সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ দেশকে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে তাতে দেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর থাকা হবে কি না তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেই। ছাত্রলীগের এহেন কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ছাড়তে হতে পারে।
তৎকালীন পাকিস্তান বাহিনীর মতো বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনীর আচরণ তৎকালীন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে আজ যে মহাসংকট চলছে তা হলো গণতন্ত্র ও দুর্নীতির। দেশে সঠিক গণতন্ত্র না থাকার কারণেই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না বলেও দাবি করেন তিনি।সবশেষে তিনি সবাইকে এক হয়ে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের মতো কথা বলেন। পাশাপাশি অসাংবিধানিক পদে থাকায় এই নির্বাচন কমিশনারদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে ইমপিচমেন্ট করা উচিত।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। কিন্তু সংবিধানের কোথাও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে কিছু নেই। এটি আইনগতভাবে বৈধ নয়। সুতরাং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছুটিতে গিয়ে আরেক জনের ওপর ভারপ্রাপ্তর দায়িত্ব দিয়ে মূলত আইনের লঙ্ঘন করেছেন। আর দায়িত্ব নিয়ে মোবারকও অবৈধ কাজ করেছেন।
ভারতকে বিদ্যুতের ট্রানজিট দেওয়ার সমালোচনা করে রফিক বলেন, দেশের স্বার্থ না দেখে সরকার ভারতের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। দেশের মানুষের কষ্ট দেখার সময় তাদের নেই, সে সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারনা নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সকল শ্রেনীর মানুষ ঐকবদ্ধ হয়ে একই কাতারে এসে আন্দোলন গড়ে তুলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
জিয়াকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিহিত করে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনার পর থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাধীন দেশের কোনো রাষ্ট্রপতি ছিলো না। ১০ এপ্রিল জাতীয় সরকারর গঠনের আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানই ছিলো দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মুখলেছ তালুকদারের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পলাশের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন আলম, সহ দফতর সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক প্রমুখ।