পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

‘পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে রাখুন’

Posted on September 23, 2014 | in জাতীয় | by

Abu-shufian (61)ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমাকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দীনও ভয় দেখিয়েছিল। আমাকে দেশ থেকে বের করতে পারেনি। হাসিনার গ্রেফতারের ভয়কে আমি ভয় পাই না। আমাকে বন্দি করার আগে নিজেদের পথ পরিষ্কার করে রাখবেন। পালানোর ভিসা রেডি করে রাখবেন। যাতে চটপট চলে যেতে পারেন। কারণ তখন পালানোর পথ থাকবে না। জনগণ, দেশের আলেম-ওলামা, সাধারণ মানুষ আপনাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে।’ খুন, গুম, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা বাতিলসহ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। খালেদা জিয়া তার নামে হওয়া মামলা প্রসঙ্গে বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় হাসিনার নামে কত মামলা হয়েছিল। আমাদের নামেও হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর নিজের ও দলের নেতাদের মামলা তুলে নিয়েছে। আমাদের মামলা তোলেনি। এখন ভয় দেখায় গ্রেফতারের। কিন্তু আমি গ্রেফতারের ভয় পাই না। ওয়ান ইলেভেনের সময় তারা আমাকে দেশের বাইরে পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি যাইনি। এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না।

বিএনপি চেয়ারপারসন আওয়ামী লীগকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি জেলে যেতে ভয় পাই না। তবে পরের বিষয়টি ভেবে রাখবেন। আমাদের কাছে সব তথ্য আছে। কীভাবে বাঁচবেন? তাই জেলখানার ভয় দেখাবেন না।’ বিচারপতিদের অভিশংসন আইন বাতিল না হলে হরতালের চেয়েও কঠিন কর্মসূচি খালেদা জিয়া সমাবেশের উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ঈদের পর যে কর্মসূচি দেওয়া হবে, তাতে আপনারা সাড়া দেবেন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমাকে যাই করুক, আমাদের দল আছে, জনগণ আছে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘অভিশংসন আইন বাতিল করতে হবে। বিচারপতিদের ভয় দেখানোর জন্যই এ আইন করা হয়েছে। বিচারকদের হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এটা বন্ধ করুন। এই আইন বাতিল না করলে একদিন হরতাল নয়, যে কোনো কর্মসূচি দিতে আমরা প্রস্তুত।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই, সরকার যা বলে সেই ভাবেই রায় দিতে হয়। সংবিধানের নতুন সংশোধনীর ফলে এখন বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে সরকার রায় করাবে। সরকারের পছন্দমতো রায় না দিলে অভিশংসন আইনে বিচারকদের অপসারণ করা হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কথা বললেও স্বাধীন করা হয়নি। আজকে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে তারা। বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তা মানবে না।’
আওয়ামী লীগ হলো যা পাই তাই খাই
দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য এ সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে- এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানে হাঁটি হাঁটি খাই খাই, যা পাই তাই খাই। আওয়ামী লীগের কাছে দেশ বড় নয়, দেশের মানুষও বড় নয়। এ দলের কাছে সবচেয়ে বড় হচ্ছে টাকা ও ক্ষমতা। তারা মানুষের জমিজমা, হাটবাজার, নদীনালা সবকিছু দখল করছে।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও লুটপাটের কথা যাতে প্রকাশ না হয়, জনগণ যাতে জানতে না পারে, সে জন্য সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে অবৈধ সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিনা ভোটে ক্ষমতায় বসে একের পর এক অবৈধ আইন করছে সরকার। জনগণের টাকা লুট করছে। এক দিন জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে তাদের।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। কুইকরেন্টালের নামে জনগণের টাকা লুট করছে সরকার।
সাত খুনের ঘটনায় আ’লীগ সভানেত্রী সব জানেন
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কারা জড়িত, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সব জানেন। ওই ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে। র‌্যাবের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জিয়া ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি কীভাবে পদে থাকেন। তাকে ধরলেই সব বেরিয়ে যাবে, তাই তাকে ধরা হচ্ছে না। তার বিচার করতে হবে।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এ সরকার কীভাবে র‌্যাবকে অন্যায়-অত্যাচারের কাজে ব্যবহার করছে। আমরা র‌্যাব গঠন করেছিলাম সন্ত্রাস দমনের জন্য। সন্ত্রাস দমনও করেছিলাম। কিন্তু তাদের দিয়ে এ সরকার মানুষ ধরে নিয়ে হত্যা করছে। এখন পর্যন্ত আমার দলের ৩১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে, ৫৬ জনকে গুম করা হয়েছে। র‌্যাব পচে গেছে। গ্যাংগ্রিণ হয়ে গেছে। এদের ফেলে দিতে হবে। এদের রাখা যাবে না।’
অর্থমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার ধন্যবাদ
খালেদা জিয়া বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী দেরিতে হলেও স্বীকার করেছেন, ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ। আওয়ামী লীগ সত্য বলে না। কিন্তু তিনি সত্য প্রকাশ করলেন, এই জন্য তাকে ধন্যবাদ। শেয়ারবাজার থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে তারা। কুইকরেন্টাল পাওয়ার করেছে। কিন্তু ঢাকায় বিদ্যুতের অবস্থা আসে আর যায়। এতে ভতুর্কি দিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে বলে কুইকরেন্টাল করেছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। তারা দাবি করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। কিন্তু উৎপাদন সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতের অভাবে কলকারখানা বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ দিতে পারে না। কিন্তু দফায় দফায় দাম বাড়ায়। কমিশন পেতে বিদেশ থেকে ডাবল দামে সার আমদানি করা হচ্ছে। অথচ তারা বলেছিল, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেবে।’
দেশে লুটপাট ও দুর্নীতির নানা চিত্র তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। এগুলোর বিহিত করতে হবে। এই আওয়ামী লীগের আমলে পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, বিচার হয়নি। পিলখানায় এতকিছু হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকারপ্রধান কিছু জানেন না। ঘটনার সময় তিনি বাড়ি বদল করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য মানুষের বুঝতে বাকি থাকে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, “মাহমুদুর রহমান সত্য কথা বলত। তাই তাকে বন্দি করে রেখেছে, তার কাগজ ‘আমার দেশ’ বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ যেন তারা মানুষের কথা বলতে না পারে। এখন সম্প্রচার নীতি করছে সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে। বিশিষ্ট নাগরিকরা সত্য কথা বলেন টিভি টকশোতে। ভয় দেখিয়ে তাও বন্ধ করতে চায় সরকার।”
দেশের শিক্ষার মানের অবনতি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘শিক্ষার উন্নয়নে এ সরকার অনেক দাবি করে। শিক্ষার যা উন্নতি হয়েছে, তা আমাদের সময়। আমরা নকল বন্ধ করেছি। স্কলারশিপ দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীরা শুধু পাস করে যায়। দেশে এখন মেধাশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এভাবে চললে কোনো প্রতিযোগিতাতেই তারা টিকতে পারবে না। দেশের মেধাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন সার উৎপাদন হয় না। সরকার বিদেশ থেকে সার আনে, কেননা এতে কমিশন পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে খবরে দেখলাম- মসজিদ, এতিমখানা, মন্দিরের টাকা মেরে দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন।’
এ সরকার টাকা দেখলে লোভ সামলাতে পারে না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার মানুষের জন্য কাজ করে না, টাকা দেখলে নিজেদের লোভ সামলাতে পারে না। বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা নেয় কিন্তু কাজ করে না। রাস্তা করার নামে তারা কোটি কোটি টাকা নিয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ করছে না।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন খালবিল পর্যন্ত ভরাট করে ফেলছে, বাড়িঘর দখল করে ফেলছে। কিন্তু তাদের কেউ কিছু বলছে না।’
খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘টিভিতে আমাদের কথা প্রচার পায় না। বিটিভি আওয়ামী লীগের টিভি। তাদের কথা ছাড়া প্রচার করে না। এখন বেসরকারি টিভিগুলোকেও আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার। সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে, যার জন্য আজ দেশের এ দূরাবস্থা। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। প্রতিদিন খুন, গুম ও রাহাজানি হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে জামায়াত স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জামায়াতকে এখন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে তারা নাকি খারাপ। অথচ এরা এক সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। জামায়াত ছিল তাদের বন্ধু। তখন জামায়াত ছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। আর এখন তারা হয়ে গেছে রাজাকার। এদের নাম আওয়ামী লীগ।’
২০ দলীয় জোট শক্তিশালী হচ্ছে এমন দাবি করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০ দলীয় জোট ভাঙবে না, শক্তিশালী আছে, থাকবে। যারা দেশপ্রেমিক তারা এই জোটে আছেন। তারা কখনও দালালদের সঙ্গে যেতে পারেন না। তারা এই দুর্দিনে বেশি ঐক্যবদ্ধ হবেন।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেন, তার দলের সকলকে কেনা যায় শুধু তাকে ছাড়া। আপনি তো বহু আগেই বিক্রি হয়ে গেছেন। ৮৬-তেই বিক্রি হয়েছিলেন এরশাদের কাছে। চট্টগ্রামের জনসভায় আপনি বলেছিলেন, যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান। এরশাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনি জাতির সঙ্গে বেইমানি করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আপনি জাতীয় বেইমান হিসেবে জাতির কাছে পরিচিত হয়েছেন।’
সরকারকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এ সরকারের হাতে সেনাবাহিনীর রক্ত, তাদের হাতে আলেমদের রক্ত, বিএনপির নিরীহ নেতাকর্মীদের রক্ত ও সাধারণ মানুষের রক্ত লেগে আছে। ক্ষমতায় থাকার এখতিয়ার তাদের নেই।’
তিনি বলেন, ‘আলেমরা শাপলা চত্বরে গিয়েছিলেন তাদের ঈমানী দাবি নিয়ে। তাদের হাতে ছিল জায়নামাজ, তসবিহ আর কোরআন। তারা বলেছিল তাদের নেতা আল্লামা শফি সাহেব এসে বক্তব্য দিলেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শেষ রাতে এই আলেমদের ওপর সরকার হামলা করল। বহু আলেমকে হত্যা করে লাশ গুম করল, কোরআন শরিফ পোড়াল। হাসরের মাঠে আল্লাহ তাদের মাফ করবেন না।’
বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘শুধু আলেম বা মুসলমান নয়; আওয়ামী লীগের হাতে কোনো ধর্মের লোকই নিরাপদ নয়। কক্সবাজারের বৌদ্ধদের ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। আগুন দিয়ে তাদের উপাসনালয় পুড়িয়ে দিয়েছে। সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জুলুম-নির্যাতন করছে। তাদের মন্দির দখল করা হচ্ছে। এরা খুনি সরকার।’
তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “আপনারা কি ভোট দিয়েছিলেন?’ জনতা তীব্র নিনাদ তুলে সমস্বরে আওয়াজ দেন ‘না’, ‘না’। তাহলে কী করে এই অনির্বাচিত সরকার সংসদে বসে থাকে। তারা কীভাবে লম্বা লম্বা কথা বলে আর আইন পাস করে। তাদের সব আইন অবৈধ। এ সব আইন বাতিল করা হবে।”
তিনি একটি পত্রিকা তুলে ধরে বলেন, ‘এই পত্রিকায় বের হয়েছে, গত এক মাসে শতকরা ১৯ ভাগ কর্মসংস্থান কমেছে। ৮২ ভাগ বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আর বিনিয়োগ করতে আসছে না।’
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা নিরপেক্ষ ব্যবহার করবেন। অন্যায়ভাবে মিছিল-মিটিংয়ে গুলি চালাবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে দেখিয়ে দিতে চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তরুণদের এ অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’
হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননের দিকে ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা কোনো নির্বাচনে জিতে নাই। নৌকায় উঠে জিতেছে। এখন শুনছি তারা হজ করতে যাচ্ছেন। তারা এত এত মানুষ মেরেছে, আল্লাহর ঘরে গিয়ে তওবা করে এসে যদি ভালো হয়।’
তিনি বলেন, ‘মুফতি ফজলুল হক আমিনী সাহেব ছিলেন নামকরা আলেম, ভালো বক্তা, দেশপ্রেমিক। তিনি সত্য কথা বলতেন। তাকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ঘরে বসে থাকতে থাকতে তিনি মারা যান।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জাগপার সভাপতি সফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব ডা. রেদওয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আমিনী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, সাম্যবাদী দলের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাধারণ সম্পাদক সাঈফুদ্দিন মনি প্রমুখ।
খালেদা জিয়া সকাল সাড়ে ১১টায় তার গুলশানের বাসভবন থেকে এ জনসভায় যোগদানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। নয়াপল্টন, যাত্রাবাড়ী, নরসিংদী হয়ে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পথপরিক্রমা শেষে স্থানীয় সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। তিনি ৪টা ১৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিণত হয়েছিল জনারণ্যে। জনসভার মাঠ এবং শহরের বিশাল অংশজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অবধি সড়কের স্থানে স্থানে মানুষ ছিল স্লোগানমুখর, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
খালেদা জিয়া রাত ৮টার দিকে স্থানীয় সার্কিট হাউসে বিশ্রাম শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud