পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় জয়ের জন্ম

Posted on November 15, 2014 | in রাজনীতি | by

001ঢাকা: ‘জিয়াউর রহমানের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে রাখা যায় না’ বলে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় যে মন্তব্য করেছেন তার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘অর্বাচীন বালকের মতো কথা বলা বন্ধ করুণ। ইতিহাস জেনে কথা বলুন, নইলে নতুন প্রজন্মের নেতা হিসেবে আপনাকে এদেশের মানুষের মেনে নিতে কষ্ট হবে।’
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘শহীদ জিয়া ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় জয়ের জন্ম। বেশির ভাগ সময় তিনি ভারতে অবস্থান করেছেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। এখনও বেশিরভাগ সময় সেখানেই অবস্থান করছেন। এদেশের সঙ্গে তার স্ট্রে কতটুকু তা তিনিই ভালো জানেন। বয়সে অনেক ছোট্ট, তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সম্পর্কে কোনো কথা বলতে চাই না। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় বলবো অর্বাচীন বালকের মতো কথা বলা বন্ধ করুন।’ বিএনপির একটি স্বৈরাচার দল- জয়ের এই বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘জয় নিতান্তই একজন অবুঝ শিশুর মত কথা বলে। বিএনপিকে স্বৈরাচার বলার আগে নিজের চেহারা একবার আয়নায় দেখো।’
কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্পাদকীয়তে সরকারের সমালোচনা করা হয় বলে জয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘জয় গণমাধ্যমকে এক হাত নিয়েছেন।’
জয়কে ২ লাখ ডলার বেতন দেয়া হয়- লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, লতিফ সিদ্দিকী হজ্জ নিয়ে বক্তব্যে দেয়ার জন্য তার চাকরি হারিয়েছেন নাকি জয় সম্পর্কে বক্তব্যে দেয়ার জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে? তা আজ দেশের জনগণ জানতে চায়।’ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বক্তব্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আওয়ামী লীগের নীলনকশা তিনি ফুাঁস করে দিয়েছেন। তাই তাকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’ছাত্রলীগ সম্পর্কে এইচটি ইমামের বক্তব্যের কোঠর সামালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরসহ সারাদেশের আজ চলছে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজী। জায়গা দখলসহ মানুষের ওপর নির্যাতনে ছাত্রলীগের নজির দেখার মতো।’ মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কোনো মূল্য ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। কারণ তারা ভালো করেই জানে তারা ক্ষমতা ছাড়লে কোর্ট আর জেলের মধ্যে ঘুরপাক খেতে হবে।’ আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আপনারা কোথায় ছিলেন? সেদিন কি ছাত্রলীগ রাস্তায় কোনো মিছিল বের করতে পেরেছিল, আওয়ামী লীগ কি কোনো প্রতিবাদ করতে পেরেছিল? বরং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী একমাত্র ব্যক্তি যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদ করেছিলেন। তাই এর জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’ বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ সুদিন আসবেই, নতুন সূর্য উঠবেই। আর সেই সূর্য হবে বাংলাদেশের।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও জিয়াকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। বাংলাদেশের ইতিহাস বলতেই শহীদ জিয়ার ইতিহাস। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু তাদের হাতেই গণতন্ত্র নিহত হয়েছিল। আর শহীদ জিয়া সেই গণতন্ত্রকে উদ্ধার করেছেন। তাই যতোদিন বাংলাদেশ থাকবে ততোদিন শহীদ জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকবেন।’ আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud