April 18, 2026
শরীয়তপুর প্রতিনিধি : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সব বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও গতিশীল নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছি।’
শুক্রবার দুপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য লঞ্চ ও ফেরিঘাট স্থানান্তর প্রয়োজন। সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঘাট স্থানান্তরের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসে লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়ায় ঘাট স্থানান্তর করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘১০ নভেম্বর সিনো হাইড্রো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির পর তারা মোবালাইজেশন শুরু করেছে। জানুয়ারিতে তারা নদী শাসনের কাজ শুরু করবে। মূল সেতুর ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ সেতু নির্মাণের কিছু কাজ শুরু করেছে। সেতুর কিছু যন্ত্রাংশ সিঙ্গাপুর,চায়না ও জার্মানীতে তৈরি করা হচ্ছে।’মন্ত্রী বলেন,‘পদ্মা সেতুর সবগুলো কাজ একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মাপাড়ে হংকং ও সাংহাইয়ের মত নয়ন জুড়ানো শহর গড়ে উঠবে। এখানে শিল্পায়ন করা হবে। বিমানবন্দর, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হবে।’
পদ্মা সেতুতে শ্রমিক সরবরাহের কথা বলে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। অনেক মানুষকে প্রতারিত করা হয়েছে। এসব প্রতারক চক্রের কাছ থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ পরির্দশন করেন। দুপুরে তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে সেতু বিভাগ, পরার্মশক, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, সেনা বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সাজ্জাদ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের পরিচালক আবিদ হাবীব, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক এ এস এম জাফর উল্লাহ, শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহশান শাহ উপস্থিত ছিলেন।
সেতু বিভাগ জানায়, জাজিরা ও শিবচরে পদ্মা সেতুর সাড়ে ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। এক হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম ও মালেশিয়ান কোম্পানি এইচসিএম যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
সংযোগ সড়কে ২০টি কালভার্ট, পাঁচটি সেতু ও আটটি আন্ডারপাস রয়েছে। সেতুর ২৫ শতাংশ, সড়কের ২১ শতাংশ ও কালভার্টের ৪৭ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়। ৩০ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।