পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

নির্বাচনকালীন সরকারের ‘দুই ফর্মুলা’

Posted on August 14, 2015 | in জাতীয় | by

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকারের প্রকৃতি কেমন হবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বাকযুদ্ধের মাঝেই নতুন দুই ‘ফর্মুলা’র প্রস্তাব দিয়েছে হাইকোর্ট।
ফর্মুলা দুটির একটিতে সকল দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনকালীন ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলা হয়েছে যার নের্তৃত্বে থাকবেন সদ্যবিলুপ্ত সংসদের প্রধানমন্ত্রী।
অপরটিতে, পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদের শেষ বছর বিরোধী দলের হাতে দেশ শাসনের ভার দেবার কথা বলা হয়েছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ এমপির বৈধতার রিট শুনানির পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার এবং বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকার এ প্রস্তাব দেন।pools_formula
বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ এমপির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুস সালামের করা রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার এবং বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের আদালত ২০১৪ সালের ১৯ জুন এ রায় প্রদান করেন।
ঐ রিটে আব্দুস সালাম বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল কিংবা জাতীয় নির্বাচনকালীন একটি গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থার আবেদন জানান।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ লিপি অনুযায়ী এই দুই ফর্মুলা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।
হাইকোর্টের দেয়া প্রথম ফর্মুলা মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবার ৯০দিন আগে কিংবা মেয়াদ শেষ হবার পর তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ম জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের সদস্যদের নিয়ে ৫০ সদস্যদের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১০ম জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত হিসাব করা যেতে পারে বলে ফর্মুলায় বলা হয়েছে।
১০ম জাতীয় সংসদে যেহেতু বিএনপি-জামায়াত জোট অংশগ্রহণ করেনি তাই নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য টেকনোক্র্যাট কোটায় ৫ জন মন্ত্রীর কথা বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, আইন, অর্থ, লোকপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো লটারির মাধ্যমে বণ্টনের পক্ষে মত দেয়া হয়েছে ফর্মুলায়।
একাদশ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এই ফর্মুলা অনুসরণ করা যেতে পারে বলে রায়ে বলা হয়।
হাইকোর্টের দ্বিতীয় ফর্মুলায় ক্ষমতার সমবণ্টনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ ফর্মুলা অনুযায়ী সংসদের মেয়াদের প্রথম চার বছর নির্বাচনের জয়ী দল এবং শেষের এক বছর বিরোধী দল সরকার পরিচালনা করবে।
বিরোধী দল যদি জাতীয় নির্বাচনে জয়ী দলের প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেক ভোট লাভ করতে সক্ষম হয় তবেই তারা সংসদের মেয়াদের শেষ বছর সরকার পরিচালনা করতে পারবে। নয়তো নির্বাচনে জয়ী দল পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে প্রথম ফর্মুলা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে।
দ্বিতীয় ফর্মুলার বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলেও প্রথমটির জন্য তার প্রয়োজন হবে না বলেও রায়ে উল্লেখ হয়েছে।
সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে কোন ফর্মুলার চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ বেশি জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার এবং বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের আদালত।
হাইকোর্টের এ রায়ের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং বিএনপি নেতারা।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud