April 23, 2026
নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ছোট্ট একটি দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ। নানান বৈচিত্র্যে ভরপুর এই দ্বীপ এখন বাংলাদেশের অন্যতম ভ্রমণ কেন্দ্র। এখানকার জাতীয় উদ্যানে আছে অসংখ্য চিত্রা হরিণ। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোন বনে কাছাকাছি থেকে এত বেশি চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। শীতে নানান রকম পরিযায়ী পাখি এই দ্বীপে বেড়াতে আসে। দ্বীপে পর্যটকদের থাকার ভালো ব্যবস্থাও আছে। এই শীতে তাই ঘুরে আসতে পারেন সুন্দর এই দ্বীপ থেকে। নোয়াখালী জেলার দক্ষিণাংশে হাতিয়া উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ছোট্ট দ্বীপ। কথিত আছে ওসমান নামের এক ব্যক্তি তার মহিষের পাল নিয়ে সর্বপ্রথম এই দ্বীপে নববসতি গড়ার পর তার নামেই দ্বীপটি পরিচিতি পায়। ৭০’য়ের দশকের পর দ্বীপের নামকরণ হয় নিঝুম দ্বীপ। বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের প্রধান চারটি দ্বীপ ও ছোট ছোট কয়েকটি চর নিয়ে এ দ্বীপ। উত্তর দক্ষিণে প্রায় নয় কিলোমিটার লম্বা আর পূর্ব পশ্চিমে প্রায় সাত কিলোমিটার চওড়া।

নিঝুম দ্বীপে আছে বিশাল আকারের শ্বাসমূলীয় বন। ৭০’য়ের দশকে এখানে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু। ২০০১ সালে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা পায়। ১৯৭৮ সালে এই বনে সর্বপ্রথম সুন্দরবন থেকে চার জোড়া চিত্রা হরিণ অবমুক্ত করা হয়। তাদের থেকে বংশ বিস্তার করে এ বনে বর্তমানে হরিণের সংখ্যা বিশ হাজারেরও বেশি। সুন্দরবনের মতো বন হলেও কোন হিংস্র প্রাণী না থাকায় বনে খুব কাছ থেকেই সহজে চিত্রা হরিণ দেখা যায়। নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের প্রধান প্রাণী চিত্রা হরিণ। এ বনে আরও আছে উদ্বিড়াল, মেছো বাঘ, খেকশিয়াল ইত্যাদি। দ্বীপে পাখিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— নিশি বক, কানিবক, গোবক, পানকৌড়ি, ধূসর বক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, লালপা, নানান জাতের মাছরাঙ্গা ইত্যাদি। পৃথিবী বিপন্ন ইন্ডিয়ান ইস্কিমার বা দেশী গাঙচষার অন্যতম বিচরণস্থল এই দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপে বেড়ানোর মূল আকর্ষণ এখানকার বন। ভালোভাবে জঙ্গল দেখতে হলে ‘নামা’ বাজারের পাশের খাল ধরে নৌকায় চড়ে যেতে হবে চৌধুরীর খালে। এই খাল একেবারে জঙ্গলের ভেতরে চলে গেছে। বেশি হরিণ দেখতে হলে নৌকায় কিংবা বনের পাশে কোথাও নিজেদের আড়াল করে নীরবে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া নিঝুম দ্বীপে আছে সমুদ্র সৈকত। জনমানবহীন এই সৈকতেও বেড়াতে পারেন। আর এখানকার অধিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখতে ভুলবেন না।