May 7, 2026
ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের নির্বাচনকালীন সময়ে বিদেশে যাত্রা ও নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও দেশে না আসা নিয়ে কমিশন সংশ্লিষ্ট, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ্র,সুশীল সমাজ সহ সাধারন মানুষের মধ্যে বিপুল কৌতুহল দেখা দিয়েছে ।সিইসির অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে ।সেই সাথে সিইসির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে । স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিইসির দেশে ফেরা নিয়ে ও তার সিইসি পদে থাকা নিয়ে সন্দিহান ।
আগামী ১৪ এপ্রিল সিইসি রকিব উদ্দীন আহমেদের দেশে ফেরার কথা ।সেই সাথে ১৫ এপ্রিল থেকে তার পুনরায় দায়িত্ব পালনের কথা । কিন্তু সব মহলেই সিইসির পদত্যাগের গুঞ্জন চলছে ।কমিশন সচিবালয়ের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে এ বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের একাধিক কর্মকর্তারা প্রতিবেদককে জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশে ফিরলেও তিনি তার পদে নাও থাকতে পারেন ।কারন ইতিমধ্যে কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের জায়গায় আরেক নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ।তার অধীনেই উপজেলা নির্বাচনের অবশিষ্ঠ ৩টি ধাপের নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশন সচিবালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, সিইসি নিজেও আর এ পদে থাকতে চাচ্ছেন না ।দেশে ফেরার পরপরই তিনি ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে পদত্যাগ করবেন ।
সিইসির পদত্যাগ বিষয়ে জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, সিইসির পদত্যাগ বিষয়ে আমি কিছু জানি না ।শুধু এটা জানি যে তিনি ১৪ তারিখ দেশে ফিরবেন ।
শাহনেওয়াজ বলেন, সিইসি যদি পদত্যাগ করতে চান,তবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার । আর সেরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইন অনুযায়ী পরিস্থিতির সমাধান করা হবে ।
উল্লেখ্য,গত ২ মার্চের সফর নিয়ে সিইসি স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই অফিস আদেশে বলা হয়, ৩ মার্চ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। তিনি না ফেরা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন। তবে অফিস আদেশে সিইসি কত দিনের সফরে থাকবেন বা কবে দেশে ফিরবেন, তা উল্লেখ করা ছিল না। অফিস আদেশে এ দুই তথ্যের অনুপস্থিতিই ‘সিইসি পদত্যাগ করছেন’ বা ‘তিনি আর দেশে ফিরছেন না’ এমন গুঞ্জনের সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে নির্বাচন চলাকালে সিইসির অর্ন্তধান সম্পর্কে একটি মহলের ধারনা, সরকারের চাপেই সিইসি নির্বাচনের সময় বিদেশে যেতে বাধ্য হন ।তাদের যুক্তি, নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ক্ষমতাসীন আ’লীগের ভরাডুবি ঘটে । বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা এই দুই ধাপের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ।এর পর পরই সিইসি বিদেশে চলে যান ।তারঁ চলে যাওয়ার পর বাকি ধাপের নির্বাচন গুলোতে ব্যাপক হারে সহিংস ঘটনা ঘটে, সেই সাথে এসব ধাপগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের বিজয় নিশ্চিত হয় ।