পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

দেশি মুরগি নিয়ে মুরাদের গবেষণা

Posted on October 20, 2013 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

untitled-14 copy_29147 (1)নওগাঁ:  নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলা চষে বেড়িয়েছেন তিনি বছরের পর বছর। প্রত্যন্ত পল্লীর আনাচে-কানাচে চলছিল তার অনুসন্ধান। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি পেয়ে যান তার কাক্সিক্ষত মোরগটি এক আদিবাসীর বাড়িতে। এর প্রায় ১ মাস পর নওগাঁ শহরের পৌর মুরগি বাজারে বাজার করতে গিয়ে পেয়ে গেলেন আরও একটি মুরগি। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁর মুরাদ আলী তার ছোট্ট খামারে গবেষণা শুরু করেন সেই মোরগ-মুরগি দুটি নিয়ে।

মুরাদ আলী জানান, মার্চে আমার সংগৃহীত মুরগিটি ডিম দিতে শুরু করে। মুরগিটি ১৩টি ডিম দেয়ার পর তার সঙ্গী মোরগটি হঠাৎ মারা যায়। আমার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশি জাতের প্রাচীন প্রজাতির উন্নত মোরগ-মুরগি সংগ্রহ করে মোরগ-মুরগির একটি উৎপাদনশীল জাত সৃষ্টি করা। সে লক্ষ্যেই আমি কাজ শুরু করি। কেননা ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনে আমাদের দেশি জাতের মুরগি লাভজনক নয়। ফলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল মানুষ। আজ হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি মোরগ-মুরগি। তবে ওই ১৩টি ডিম নিয়ে পড়লাম মহাবিপাকে। মুরগিটি উম ধরছে না। আবার ডিমও দিচ্ছে। ডিমে তা দেবে কে? মাত্র ১৩টি ডিম কোনো ইনকিউবেটর মালিক ফুটিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে আনিসুর রহমান তার ইনকিউবেটরে ডিম ফুটিয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন।

গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখে ১৩টি ডিম থেকেই মিশমিশে কালো রঙের ১৩টি বাচ্চা ফুটল। এর মধ্যে ৫টি মোরগ ও ৮টি মুরগি। জন্মের কিছুদিন পর একটি মোরগ মারা যায়। বাচ্চাগুলোর খাঁচার ভেতরেই শারীরিক বিকাশ হতে থাকে। ৭৫ দিন বয়সে বাচ্চাগুলোর শারীরিক বিকাশ লক্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ৯০ দিনের মাথায় দেখা গেল বাচ্চাগুলোর দ্রুত শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজননক্ষম মোরগ-মুরগির ন্যায় দেহাবয়ব লাভ করেছে। ১১৫ দিনের মাথায় আমার সহযোগী আলি হাসান খাঁচায় খাবার দিতে গিয়ে দেখেন খাঁচার ভেতরে ডিম। ১২৫ দিনের মাথায় ৮টি মুরগিই ডিম দিতে শুরু করেছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। বর্তমানে মোরগগুলোর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম আর মুরগিগুলোর ওজন ৬৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম। প্রতিদিন খাবার গ্রহণের মাত্রও কম, মাত্র ৪৫ গ্রাম। বিদেশি উন্নত প্রজাতির মুরগিগুলো সাড়ে ৫ মাসে যেখানে ডিম দিতে শুরু করে সেখানে এ মুরগিগুলো ডিম দিতে শুরু করেছে মাত্র ৩ মাস ২৫ দিনে। দেশি মুরগি ১৩-১৫টি ডিম দেয়ার পর উম ধরে। কিন্তু এ মুরগিগুলোর সে লক্ষণ নেই। আর উন্মুক্ত স্থান প্রয়োজন হবে না দেশি মুরগি পালনের জন্য। এখন থেকে খাঁচায় বা খামারে পালন করা সম্ভব। ডিমের ওজন ২৭ থেকে ২৮ গ্রাম। তবে মুরগির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিমের ওজন বাড়ছে।

প্রতিবেশী মানিক জানান, মুরাদের ওই গবেষণা ছিল মূলত দেশি জাতের মুরগি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা। আমার মনে হয় তিনি তা করতে পারবেন। তার গবেষণায় সেই সফলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওই মহল্লার হাসান জামান সিদ্দিক বলেন, মুরাদের ওই খামারটি আমি দেখেছি। আমি আনন্দিত তার ধৈর্যের সফলতা দেখে। এবার মুরগিগুলোর ডিম থেকে যে বাচ্চা উৎপাদিত হবে তার মান আরও উন্নত হবে। এ ছাড়াও মোরগ-মুরগিগুলো দেখতেও ভালো লাগে।

খামারের মুরগির মাঝে দেশি মুরগির ঝগড়াটে স্বভাব আমি দেখেছি। আমি জেদ ধরে মুরাদের কাছ থেকে একটি ডিম নিয়েছিলাম। ডিমটি ভেজে খেয়ে মনে হয়েছে একবারেই সেই দেশি মুগির ডিমের স্বাদ। প্রতিবেশী কামরুজ্জামান কামাল জানান, মুরাদ আলী অনেক দিন থেকেই তার চেষ্টার কথা বলছিলেন। অবশেষে তার সফলতা এখন ছড়িয়ে দেয়ার সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আশা করছি তার এই সফলতার মাধ্যমে আমরা দেশি প্রজাতির মোরগ-মুরগি রক্ষা করতে পারব। নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহবুবুর রহমান বলেন, মুরাদ আলীর সংগৃহীত মুরগি থেকে যে পরিমাণ নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিম পাওয়া যাচ্ছে তা অত্যন্ত আশাপ্রদ। মুরগিগুলোর খাবার গ্রহণও কম। আমি মনে করি আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে যদি এ প্রজাতির দেশি মুরগি ছড়িয়ে দিতে পারি তা হলে গ্রামের মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের জানাব।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud