April 20, 2026
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশ দক্ষিণ সুদানে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের। সুদানিজ বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর এই সংঘর্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইতোমধ্যেই মারা গিয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কোনো পদক্ষেপ আজও নেয়া হয়নি।
এখনও দেশটিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত আছে। প্রেসিডেন্ট সিলভা কির তার সেনাবাহিনী নিয়ে বিদ্রোহী সেনাসদস্য রিয়েক ম্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই দেশটিতে সন্ধ্যার পর অলিখিত কার্ফিউ শুরু হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে ভয়ানক কথা হলো, দেশটিতে ক্রমশ মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা যায়, বছর ব্যাপী সংঘর্ষে দেশটিতে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ইতোমধ্যেই মারা গিয়েছে। এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর মৃতের সংখ্যা গননা করা হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে, মৃতের সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি। এদিকে দিনকা গোষ্ঠির সেনারা প্রতিদিনই বাড়ি বাড়ি ঘুরে নুয়ের গোষ্ঠির মানুষদের খুঁজে বের করে হত্যা করছে। পুরো রাতের হত্যাযজ্ঞ সকাল হলে রাস্তায় শুধু লাশ পরে থাকতে দেখা যায়।
দেশটিতে কর্তব্যরত একজন এইড কর্মী জানায়, ‘জুবাতে সংঘর্ষে প্রথম সপ্তাহেই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মারা যায়। এরপর এরকম বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যেতে থাকে। শহরের কিছু কিছু জায়গায় মানুষ মৃতের সংখ্যা গোনা বাদ দিয়েছে। শুধু রাস্তা থেকে লাশগুলো জড়ো করে কবর দেয়া হচ্ছে।’
তেল নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক ধরনের লড়াই চলছে, সেখানে প্রত্যক্ষভাবে পশ্চিমা দেশগুলো লড়াইয়ে অংশগ্রহন করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সুদানের তেলের প্রশ্নে গোষ্ঠি লড়াইকে উস্কে দিয়ে তেলের দখলদারিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যে কারণে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা গেলেও ইউরোপিয় ইউনিয়ন, আফ্রিকা ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে না কোনো বিবৃতি বা নেয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ।