April 16, 2026
ঢাকা: গতি যাই হোক না কেন থ্রিজি বা টুজি সেবা এখন ভাঙতে ভাঙতে মিনিপ্যাকে চলে এসেছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর ভাষ্য, কম খরচ বা গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মিনিপ্যাকে ছাড়া হয়েছে ইন্টারনেট। এর অাগে একই কথা বলে অপারেটরগুলো ব্রডব্যান্ডের (উচ্চগতির) পাশাপাশি ন্যারোব্যান্ডেও (কম গতির) ইন্টারনেট সেবা চালু করে। অপারেটররা ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করায় থ্রিজি সেবায় ন্যারোব্যান্ড পেলেও বিষয়টি ধরতে পারছে না মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। বাংলাট্রিবিউনে প্রতিবেদক হিটলার এ. হালিম বিশেষ প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক গ্রাহকদের অভিযোগ সম্পর্কে লিখেছেন, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো ফ্রি ফেসবুকিংয়ের কথা বলে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করছে বিভিন্ন প্যাকেজ কিনতে। কারণ মোবাইলে ইন্টারনেট প্যাকেজ না থাকলে ফেসবুক ব্যবহার করা যায় না। এ হিসেবে ফেসবুক ফ্রি হলেও অন্যকোনও লিংকে যেতে স্ট্যান্ডার্ড চার্জ দিতে হয়। অথচ অধিকাংশ গ্রাহকই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। অন্য দিকে অপারেটরগুলোর দাবি, ব্রডব্যান্ডে সেবা দিলে গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহার খরচ বাড়বে। এ কারণে ব্রডব্যান্ডের পাশাপাশি ন্যারোব্যান্ডেও ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে। অথচ বিষয়টি ব্রডব্যান্ড সংজ্ঞার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ-২-এ ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ‘যাহার ন্যূনতম ব্যান্ডউইথ ১ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) হইবে। ১ এমবিপিএস হইতে কম ব্যান্ডউইথকে ন্যারোব্যান্ড বলা হইবে।‘ ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ২০১৩ সালের মে মাসের ১ তারিখ থেকে এই গতি উপভোগ করার কথা থাকলেও মোবাইলফোন অপারেটরগুলো ব্রডব্যান্ডের নীতিমালার ১ মেগা গতিকে ভেঙে কয়েক ভাগ করায় গ্রাহকরা কম গতির ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গত বছরের এপ্রিলের ১ তারিখে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনার পরে মোবাইলফোন অপারটররা থ্রিজি সেবার যেসব প্যাকেজ বাজারে ছাড়ে তাতে ব্রডব্যান্ড প্যাকেজের পাশাপাশি ন্যারোব্যান্ডও অফার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেলিটক, গ্রামীণফোন ও রবি ন্যারোব্যান্ডে থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। এসব সেবার প্যাকেজ ও ট্যারিফের অনুমোদন বিটিআরসি থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলালিংক ও এয়ারটেল ন্যূনতম এক মেগা গতিতে থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। বিটিআরসির অনুমোদনে বলা হয়েছে, থ্রিজি সেবার ক্ষেত্রে কোনও গ্রাহক যে প্যাকেজ নেবেন কমপক্ষে তার ৭০ শতাংশ গতি না পেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটর তা অভিযোগ আকারে নেবেন। অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিঅাইএম নুরুল কবীর বলেন, ন্যারোব্যান্ডে সেবা না দিলে গ্রাহকের থ্রিজি ব্যবহারের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। চাইলেও তখন সবাই থ্রিজি ব্যবহার করতে পারবে না।
বাংলাট্রিবিউন জানাচ্ছে, এই ন্যারোব্যান্ডের ইন্টারনেটকে অাবার ছোট ছোট প্যাকেজে ভেঙে বা মিনিপ্যাক অাকারে বাজারে ছেড়েছে বিভিন্ন অপারেটর। অপারেটরগুলো মিনিপ্যাক ইন্টারনেটের প্রচার-প্রচারণায় গতির (ব্যান্ডউইথ) বিষয়টি প্রকাশ না করায় অারও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অপারেটরগুলোতে যোগাযোগ করে জানা যায়, বর্তমানে মিনিপ্যাক ইন্টারনেট গ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বেশি বেশি মিনিপ্যাক কেনায় অপারেটরগুলোর ডাটা বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গেছে। গ্রামীণফোনের করপোরেট কমিউনিকেশন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসান বলেন, মিনিপ্যাকের ফলে গ্রাহকরা এখন সারাদিন ১ টাকায় ফেসবুক ব্যবহার করতে পারছেন। খুবই স্বল্প খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন তারা। মিনিপ্যাক না হলে সবার পক্ষে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হতো না। তিনি জানান, ইন্টারনেটের মিনিপ্যাক বাজারে ছাড়ায় অপারেটরটির ডাটা বিক্রির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তবে গ্রামীণফোন ১৮ ঘণ্টা ফ্রি ফেসবুক ব্যবহারের সুবিধা চালু করলেও ৫ কোটি গ্রাহকের মাইলফলক স্পর্শ করার পরে ওই সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে।
তরুণদের অভিযোগ, সবার মধ্যে ফ্রি ফেসবুকিংয়ের নেশা ঢুকিয়ে দিয়ে গ্রামীণফোন তা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন অাকর্ষণীয় অফারের কথা বলে মিনিপ্যাক ইন্টারনেট বিক্রি করছে। এদিকে মোবাইল অপারেটর রবিও ১০০ মেগাবাইটকে ভেঙে অন্তত তিনটি (১০০, ২৫ ও ৪ মেগাবাইট) মিনিপ্যাক প্যাকেজ তৈরি করেছে। অপারেটরটি ফেসবুক ফ্রি ব্যবহারের কথা বললেও গ্রাহকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি প্যাকেজে ঢোকার অাগে ও পরে ব্যালেন্স চেক করলেই বিষয়টি বোঝা যায় ফেসুবক ফ্রি কি না। মোবাইল অপারেটর এয়ারটেলও মিনিপ্যাক ইন্টারনেট বিক্রি করছে। অার প্যাকেজ মিনিপ্যাক করায় অপারেটরটির ডাটা বিক্রির পরিমাণও অনেক বেড়ে গেছে বলে জানান অপারেটরটির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সমিত মাহবুব শাহাবুদ্দীন। থ্রিজির ন্যূনতম গতি যেখানে ১ এমবিপিএস হওয়ার কথা সেখানে তা ভেঙে অল্প গতির প্যাকেজ করেছে অপারেটররা ব্রডব্যান্ড নীতিমালার সুযোগ নিয়ে।
বাংলাট্রিবিউনের সৌজন্যে।