পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

থিয়েটার অব স্পনটিনিউটি

Posted on May 19, 2015 | in নির্বাচিত কলাম | by

download (1)মোস্তফা কামাল
মহড়া ছাড়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আবেগ কেন্দ্রীক তাৎক্ষনিক অভনয় শৈলীই থিয়েটার অব স্পনটিনিউটি যার মধ্য দিয়ে অভিনয়শিল্পী সৃজনশীল ও স্বত¯ফূর্ত ভাবে অভিনয় করে থাকেন। প্রকৃত পক্ষে আর্ট অব ইমপ্রোভাইজেশন এই ক্ষেত্রে রেভুলেশনারি ভূমিকায় অবতীর্ন হয়। এই ধারার থিয়েটার এর প্রবক্তার জ্যাকব লিভি মোরিনো।
১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে মোরিনো যখন ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা মেডিকেল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন; তখন সেখানে অধ্যাপনা করতেন সিগমুন্ড ফ্রয়েড। এ সময় ফ্রয়েড তাঁর সাইকোএনালাইসিস তত্ত্বের বিকাশ ঘটাতে খুঁজছিলেন কিছু বরপুত্র। যাদর মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোরিনো। কিন্তু মোরিনো পরবর্তীকালে ফ্রয়েড এর অনুসারি না হয়ে; প্রতিনিবিপ্লবির মত ফ্রয়েডকে প্রত্যউত্তর দিয়েছিলেন এই বলেঃ ‘ড. ফ্রয়েড আপনার যেখানে সমাপ্তি আমার সেখানে শুরু। আপনি মানুষের স্বপ্ন বিশ্লেষন করেন; আর আমি তাদেরকে পুনরায় স্বপ্ন দেখাতে উৎসাহিত করি; শিখাই কিভাবে নিজেই নিজের স্রষ্টা হতে হয়। আপনি মানুষের সাথে মেশেন আপনার অফিসে একটি কৃত্রিম পরিবেশ। আর আমি মিশি তাদের বাড়িতে, রাস্তায় সর্বপরি প্রকৃতির সংস্রবে’।
সৃজনশীলতাবর্জিত ও স্বতস্ফূর্ততাহীন অভিনয় ধারা মূলত “হিমায়িত পন্য” সমতুল্য। যদি এমন হত পান্ডুলিপি নেই; চরিত্র নেই- কিন্তু নাট্যাভিনয় চলছে। অভিনয়শিল্পী স্বতস্ফূর্ত এবং সৃষ্টিশীল অভিনিবেশ সহকারে তার নিজস্ব চিন্তা ও সমস্যার রূপায়ন ঘটাচ্ছে। তবে অভ্যগত দর্শক কি ক্যাথারসিস মুক্ত থাকবে?
দর্শনের ছাত্র হিসাবে এরিস্টটলের পোয়েটিকস এর আলোকে ক্যাথারসিস অভিধাকে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে গিয়ে মোরিনো আবিস্কার করেছিলেন যে, নাট্যাভিনয় উপভোগ করে দর্শক চরিত্রের প্রতি একাত্ব হয় এবং নবতর আত্ম উপলব্দি অর্জন করে। কিন্তু অভিনয়শিল্পী অভিনিত চরিত্রের সামগ্রিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ রূপে নিজেকে মুক্ত করতে সমর্থ হন না। প্রকারান্তরে অভিনয়শিল্পীর উপর বিভিন্ন সময়ে অভিনিত চরিত্রের অন্তরাত্মার প্রভাব ভগ্নাংশ তথা অখন্ডায়িতরূপে তাদের অভ্যন্তরে রয়ে যায়। যার প্রভাবে অভিনয়শিল্পীগণ প্রায়সই “হিসট্রিওনিক নিউরোসিস’ – এ ভোগেন। যা তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে করে তোলে ভারসাম্যহীন।
জীবন নাট্য মঞ্চে প্রত্যেক মানুষই ইমপ্রোভাইজিং এ্যাক্টর। এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী মোরিনো ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ভিয়েনায় অভিনয়শিল্পীদের এই করুণ পরিণতি থেকে মুক্তি দিতে খুঁজছিলেন এমন একটি নতুন ও ভিন্ন কাঠামো; যার মধ্যে দিয়ে বিকাশ ঘটবে এমন এক থিয়েটার- এর যেখানে গুরুত্ব পাবে সৃজনশীলতা ও স্বতস্ফূর্ততা এবং তৈরী হবে মনের গভীরতম স্তরের সাথে নিবিড় যোগাযোগ এবং স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বেশী জীবন্ত, সমৃদ্ধ ও সামর্থ অনুযায়ী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ভোক্তা(অভিনয় শিল্পী) এবং উপভোক্তা(দর্শককুল) -এর জীবনকে সাবলীল করে তুলবে । অর্থাৎ বিকাশ ঘটাবে থিয়েটার অব স্পনটিনিউটি ঘরণার।
যে নাট্য ঘরণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে মোরিনো ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ভিয়েনায় গড়ে তোলেন থিয়েটার অব স্পনটিনিউটি। ১৯২২ থেকে ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত থিয়েটার অব স্পনটিনিউটি কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রমের মাধ্যমে মোরিনো যেমনি অভিনয়শিল্পীদের ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ থেকে পরিত্রাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন; তেমনি থিয়েটারকে দিয়েছিলেন পান্ডুলিপির দাসত্ব থেকে মুক্তি। ইমপ্রোভাইজেশনাল থিয়েটার এসময় রূপান্তরিত হয় থিয়েটার অব থেরাপি রুপে। যার পরিণত রূপ হল ‘সাইকোড্রামা’।
সমসাময়িক বিখ্যাত অভিনেত্রী বারবারা একই চরিত্রে বার বার অভিনয় করার ফলে ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বারবারা ইস্টারের ফ্যাশন প্লেতে পরিশুদ্ধ নারীত্বের মডেল রুপে মাদার ম্যারীর ছবি আঁকাতেন একনিষ্ট হয়ে। যা তার মধ্যে স্থায়ী অবয়ব নিয়ে বসবাস করতে করতে ‘হিস্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ এ পরিণত হয় । মোরিনো এই পরিস্থিতি থেকে বারবারাকে মুক্তি দিতে লিভিং নিউজপেপার নাট্য ধারায় কাজ করতে গিয়ে তাকে একটি পতিতা চরিত্রে অভিনয় করান। কারণ মোরিনো মনে করতেন পতিতা হিসাবে বারবারা যখন নতুন নতুন খদ্দেরের মুখোমুখী হবে তখন তার মধ্যে জন্ম নেবে সৃষ্টিশীলতার অপার সম্ভাবনা। কার্যত ঘটেছেও তাই; বারবারা পতিতা চরিত্রটিতে স্বতস্ফূর্ততার সাথে সৃজনশীল অভিনয়শিল্পীর স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং পর্যায়ক্রমে ‘হিষ্ট্রায়নিক নিউরোসিস’ রোগ থেকে অবমুক্ত করেছিলেন নিজেকে । মোরিনো এই নাট্য প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে বারবারার স্বামী জর্জকেই অংশগ্রহণ করান জনৈক খদ্দের চরিত্রে। ফলে তারা সমর্থ হয়েছিল চমৎকার এক চিত্র দৃশ্যায়িত করতে; যা ছিল হৃদয়গ্রাহীও বটে। পরবর্তীতে মোরিনো এই অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণকে কাজে লাগিয়ে বিবাহিত দম্পত্তিদের উপর প্রয়োগ করে ‘ম্যারাইটাল থেরাপি’। সত্যিকার অর্থে থিয়েটার -এর সেই কাঠামো হয়ে উঠেছিল থেরাপির ফলপ্রসূ কৌশল হিসাবে; যা একই সাথে এনে দেয় অভিনয়শিল্পী ও দর্শকের উপর কার্যকরভাবে প্রয়োগ সাফল্য ।
মোরিনো মনোস্থির করেছিলেন থিয়েটার-এর এই প্রতিবিধানমূলক কাঠামেরার পরিচর্যাই হবে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। যেখানে এই ধারার নাট্যক্রিয়া একই সাথে অভিনয়শিল্পী ও দর্শকের উপর সৃষ্টি করবে একটি থেরাপিউটিক অভিপ্সা। সমালোচকগণ ‘মোরিনোর ডীপ ইর্ন্টালেকচুয়াল ন্যাচারাল ক্যাথারসিস’ অভিধা হিসাবে এই পর্যায়টিকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন ।
১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ মোরিনো ভিয়েনা ছেড়ে চলে যান আমেরিকায়। মূলত আমেরিকায়ই তিনি তাঁর নাট্য চিন্তাগুলোর চূড়ান্ত বিকাশ ঘটান। তাঁর নিজের মত হল ঃ ‘সাইকোড্রামা কনসিভ করেছিল ভিয়েনায় কিন্তু জন্মগ্রহণে করেছিল আমেরিকায়। ’
যুথবদ্ধ শিল্পের প্রকাশ পরিলক্ষিত হয় আলোচ্য থিয়েটার অব স্পনটিনিউনিটি তথা সাইকোড্রামার অনুশীলন প্রক্রিয়ায়। যেখানে দর্শক ও অভিনয়শিল্পীকে পৃথক না করে পারস্পরিক সহযোগীতার মধ্য দিয়ে ঘটে ভাবের বিমোক্ষণ বা ক্যাথারসিস।
যা প্রচলিত থিয়েটার চর্চায় সম্ভব নয়। কারণ নানাবিধ সীমাবদ্ধতার পরাকাষ্টায় শিল্পীর সৃজন শীলতার পূর্ণ বিকাশ এই থিয়েটারে ঘটে না, যদিও দর্শকের ক্যাথারসিস হয়। কিন্তু স্বয়ং শিল্পী তা কতটুকু উপলগ্ধী করতে পারে তা প্রশ্ন স্বাপেক্ষ। এই বৈপারিত্যের উর্ধে উঠে মোরিনো গবেষণায় ব্রতী হয়ে যে স্বতস্ফূর্ততার থিয়েটার- এর ভূবন সৃষ্টি করেন; তা বর্তমান বিশ্বে নানা রুপে ও সরে সমৃদ্ধ হয়ে- মনোবিশ্লেষক নাট্য বা ব্যাপক অর্থে থেরাপিউটিক নাট্যক্রিয়া হিসাবে সফলভাবে চর্চিত হচ্ছে।
প্রকৃতপক্ষে সাইকোড্রামা হচ্ছে সংকটের কার্যকারণ খুঁজতে স্বতঃস্ফুর্ততার মধ্যে দিয়ে চরিত্রাভিনয়ের বিশেষ এক প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়া অংশগ্রহণকারীদের শরীর, মন ও অন্তরাতœাকে প্রসন্ন এবং প্রশান্ত করে পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে জীবন অন্বেষণের উপায় উপস্থাপনের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের অপরাপর চরিত্রের বা ব্যক্তির সাথে স্বতস্ফূর্ত ও যৌক্তিক জীবনাচারের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দক্ষতা বৃদ্ধির সহায়তা করে। ব্যক্তিক ও সামষ্টিক স্বতস্ফূর্ততাকে জাগ্রত করে সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে সৃজনশীলতার বিস্তার ঘটানোই হচ্ছে সাইকোড্রামার মূল উদ্দেশ্যে।
প্রথাগত থিয়েটারের নির্দেশকের মতই; তবে শাসক নয়, সহায়ক হিসাবে একজন সঞ্চালকের তত্ত্বাবধানে চলে সাইকোড্রামার প্রয়োগ প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন- কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রোটাগোনিষ্ট, সহযোগী চরিত্র বা ওগজিলিআরি ইগো এবং দর্শক। সুনির্দিষ্ট মঞ্চ ও দর্শকাসন এই প্রক্রিয়ায় অনিবার্য না হলেও; স্বাস্থ্যকর ভাবে অংশগ্রহণকারীদের সহঅবস্থান উপযোগী একটি কার্যক্ষেত্র অত্যাবশ্যক।
সৃজনশীল বিন্যাস ও বিনির্মাণের মধ্যে দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পথ পরিক্রমণের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রোচাগোনিষ্ট (স্বতর্স্ফূত ভাবে যিনি ব্যক্তি জীবনের কোন বিশেষ মূহুর্ত বা ঘটনা উপস্থাপন করে থাকেন) নিজের নাট্য ক্রিয়াকে পরিপূর্ণতা দিতে বা জীবন সত্যকে চিত্রায়িত করতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকেই এক বা একাধিক সহযোগী চরিত্র ও ওগজিলিআরি ইগো -এর সহযোগীতা নিয়ে থাকে। কখনও কখনও ‘ইনার ভয়েস’ রুপে কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রোটাগোনিষ্ট অনুভূতি গুলোকে প্রাণ দিতে তথা ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়ায় অংশ নিতে, সমর্থনযোগাতে সহযোগী চরিত্র বা ওগজিলিআরি ইগোদের ব্যবহার করা থাকে। ওগজিলিআরি ইগো বা সহযোগী চরিত্র ‘ডাবল’ হিসাবে কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রোটাগোনিষ্টের অন্তরাতœার বিভিন্ন সত্ত্বা হিসাবেও ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে সাইকোড্রামায়।
তাৎক্ষণিক ও স্বতস্ফূর্ত এই নাট্যভিনয়র অন্তে দর্শক উপস্থাপিত নাট্যক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট স্বীয় অভিজ্ঞতার ঐক্য-অনৈক্য, মিল-অমিল প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শেয়ার করে থাকেন। এই পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আদান প্রদান করে সামষ্টিক মানসিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা একটি দলগত উপলগ্ধির জন্ম দেয়। তাই সাইকোড্রামা গ্রুপ সাইকোথেরাপি হিসাবে স্বীকৃত।
সঞ্চালক তথা নির্দেশক পুরো প্রয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পাদনে নেতৃত্ব দেন বটে; তবে শুধুমাত্র অনুঘটর রূপে পথ প্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে । সূচনা থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত একটি অনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সাইকোড্রামার সেশন বা অধিবেশনটি সম্পন্ন হয়। যেখানে অংশগ্রহণকারীগণ শারিরীক বা দৈহিক অথবা উভয়ের সমন্বয়ে সম্পাদন করেন নানান নাট্যক্রিয়া। সত্যিকার অর্থে পরিচালিত পর্বসমূহের মধ্যে দিয়ে জাগ্রত করা হয় অংশগ্রহণকারীদের স্বতস্ফূর্ততা ও সৃজনশীলতা।
ওয়ার্ম আপ বা কর্ম প্রস্তুতি শীর্ষক এই কৃত্যমূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সঞ্চালক অংশগ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নীতির মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি সুসম্পন্ন করতে চুক্তিবদ্ধ করান। যার মধ্যে প্রধানতম প্রসঙ্গগুলো হলো-
ক) স্বেচ্ছায় স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বা ভলেন্টারী পার্টিসিপেশান ঃ যেহেতু ব্যক্তির স্বতস্ফূর্ততা ও সৃজনশীলতার উপর নির্ভরশীল করেই বিকশিত হয় সাইকোড্রামার প্রযোগ প্রক্রিয়া। তাই ব্যক্তির স্বাধীন মত প্রকাশ এবং ইচ্ছা ও অনিচ্ছা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাতে স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারীগণ অংশগ্রহণ করে তা নিশ্চিত করা হয়। কেউ কাউকে এই বিষয়ে প্রণোদনা বা উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারবে না। বিষয়টি একেবারেই একান্ত এবং স্বতন্ত্রভাবে ঘটবে এই নিশ্চয়তা বিধান করার জন্য সকলে একমত হওয়া এবং তা অনুসরণ করা।
খ) অন্যের মতামতের উপর মন্তব্য নিরপেক্ষ থাকা এবং নিরপত্তা বিধান করা অর্থাৎ ননজাজমেন্টাল রেসপেক্ট ও সেফটিঃ অংশগ্রহণকারীদের আচরণ ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ থেকে পরস্পর পরস্পরের উপস্থাপনা বা মতামতের প্রতি মনোযোগী হবে এবং মতামত ও অনুভূতির প্রতি নিরপেক্ষ মন্তব্যহীন অভিব্যক্তি প্রকাশ করবে। যাতে ব্যাক্তি নিজের আবেগ ও অনুভূতি সঠিক ও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সমর্থ হয়। সর্বপোরি বিশেষভাবে সজাগ ও সচেষ্ট থাকতে হবে যেন অন্যর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। যাতে দলের কেউই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব না করে। এই নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি তিনটি স্তরে নিশ্চিত করা জরুরী।
১। সামাজিক নিরাপত্তা
২। মানসিক নিরাপত্তা
৩। শারীরিক নিরাপত্তা
গ) গোপনীয়তা বা কনফিডেনশিয়ালিটি ঃ সাইকোড্রামায় কেন্দ্রীয় চরিত্র বা প্রেটাগোনিষ্টের পাশাপাশি অপরাপর অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা উঠে আসে। যা দলের বাইরে প্রকাশ পাবে না; এমন নিশ্চয়তা বিধানের নিমিত্তে সকল অংশগ্রহণকারী চুক্তিবদ্ধ হন। যাতে ব্যক্তি তার একাধিক ব্যক্তিসত্ত্বাকে এবং ব্যক্তিগত আনন্দ-বেদনা, কষ্ট দলের সামনে উপস্থাপনে স্বাচ্ছন্ধ অনুভব করেন । কার্যত এই ক্ষেত্রে ব্যক্তির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে সামষ্টিক অস্থিত্বের আবহ ব্যক্তিকে একা তাড়িত না করে দলের মধ্যে প্রবাহিত হয়। গোপনীয়তার অঙ্গীকার ব্যক্তি বা সমষ্টিকে উজ্জিবিত করে, প্রণোদনা যোগায় তার বা তাদের অন্তরাতœাকে উন্মোচিত করতে।
উল্লেখিত কৌশলসমূহ সংযোগ ব্যক্তির সহযোগী মনোভাব বা সম্পূরক আচরণ বা ভূমিকাকে সামাজিক, শারীরিক ও অন্তর্নিহিত অভিপ্রায় -এর বিবেচনায় চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া ঘটানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। যে সুযোগ ব্যক্তিকে তার মধ্যে অন্তর্গত রোল বা ভূমিকাকে বিশ্লেষণ করার অভিপ্রায় তৈরী করে। এই রোল বা ভূমিকা মূলতঃ তিন ধরণের হয়ে থাকে। যেমন-
অ) সোমাটিক রোল- ব্যক্তির জৈবিক প্রবৃত্তি থেকে সৃষ্ট ভূমিকা বা সত্ত্বাকেই সোমাটিক রোল বলা হয়।
আ) সোশ্যাল রোল- কাজের সম্পকর্, পেশাগত সম্পর্ক এবং সামাজিক সম্পর্কের বিবেচনায় ব্যক্তির মধ্যে যে- ভূমিকা বা অবস্থা ও অবস্থান সৃষ্টি হয়; তাই সোশ্যাল রোল।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud