পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ইজতেমার শেষ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে হেফাজতের নতুন কৌশল

Posted on December 21, 2013 | in জাতীয় | by

hefajat dhakaনিজস্ব প্রতিবেদক: অরাজনৈতিক ধর্মপ্রাণ মুসলানদের সংগঠন তাবলিগ জামায়াতকে ধোঁকা দিতে এবার হেফাজতে ইসলাম আগামী ২৪ ডিসেম্বর শাপলা চত্বরেই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে । এদিন টঙ্গীতে জোড় ইজতেমার শেষ দিনে ইসলামের দাওয়াতের নামে সাধারণ মুসল্লি বেসে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলানদের জড়ো করার গোপন প্রস্তুতি নিয়েছে হেফাজতের কয়েকজন নেতা। এ ক্ষেত্রে নেপথ্যে ইন্ধন যোগাযোগ জামায়াতসহ নিষিদ্ধ কিছু জঙ্গী সংগঠন। সমাবেশের অনুমতি পেলে কিংবা না পেলেও তারা পরিকিল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং তাবলিগ জামায়াতকেও ক্ষেপিয়ে তোলার কূটকৌশল এঁটেছেন তারা। এতে দারুন ক্ষুব্ধ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ৫ মে’র শাপলায় মহাসমাবেশের মতোই তারা ১৩ দফা দাবিতেই বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন নিয়ে এ সমাবেশকে মহাসমাবেশে রূপান্তর করার পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশের তরফ থেকে গত ৫ মের মত নাশকতার আশঙ্কা থাকায় হেফাজতকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না বলে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বারিধারা মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির এবং ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী বলেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর সমাবেশের জন্য বিরোধী দলের অবরোধ শিথিলের অনুরোধ জানানো হবে। প্রথম দফা অবরোধ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলেও বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদি তিনি। যদি অনুমতি পাওয়া না যায় তাহলে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান নূর হোসেন কাশেমী।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, ঢাকা মহানগরীর সদস্য সচিব মাওলানা জোনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আবদুল রব ইউসূফী ও ড. আহম্মদ আবদুল কাদেরসহ আরও অনেকেই।
হেফাজতের একাধিক নেতা বলেন, হেফাজতের সমাবেশের দিন বিরোধী দল তাদের অবরোধ কর্মসূচি রাখবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখার প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহালুল্লাহ ওয়াছেল বতর্মানকে জানান, সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে। অনুমতি পাওয়া না গেলে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সমাবেশে গত ৫ মের মত নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আশা করছি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।
হেফাজতকে আগামী ২৪ ডিসেম্বর মতিঝিলে সমাবেশ করার অনুমতির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সমাবেশকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। মূলত বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদদেই আগামী ২৪ ডিসেম্বর সমাবেশ ডেকেছে হেফাজত। এটি মুলত সরকার হটানোর টার্গেট। হেফাজতের অনেক শীর্ষ নেতাই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন না। এবার সমাবেশকে পূঁজি করে বড় ধরণের নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি চলছে। অনুমতি পেলেও মহাসমাবেশে নাশকতার ঘটনা ঘটবে। অনুমতি না দিলেও হেফাজত বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত বিএনপি-জামায়াত হেফাজতের কর্মসূচিকে পূজি করে বড় ধরণের নাশকতা চালিয়ে সরকারকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। হেফাজতের মহাসমাবেশের আয়োজনের নেপথ্যে অর্থায়ন করছে জামায়াতে ইসলামী, এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের কাছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচী পালনকালে পরে তারা বিকেল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার শর্তে মতিঝিলে সমাবেশ করার অনুমতি পায়। এদিকে সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ আশপাশের পুরো এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়। সংঘর্ষে বায়তুল মোকাররমের সামনের অন্তত হাজারখানেক দোকানপাট, ৬ শতাধিক পবিত্র কোরআন শরীফ, বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। ২ শতাধিক যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশ, পথচারীসহ অন্তত ২ শতাধিক আহত হন। অন্তত শতাধিক ভবন ভাংচুর হয়।
ওইদিনই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হেফাজতে ইসলামকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন ও সহযোগীতা করার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলিটমেটাম দেন। এমন ঘোষণার মধ্যেই হেফাজতে ইসলাম মতিঝিলের শাপলা চত্বরে টানা অবস্থান নেয়। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করে তারা ১৩ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মতিঝিল ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন। সরকার পতনের একদফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে গভীর রাত পর্যন্ত মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান করতে থাকে হেফাজত। হেফাজত নেতাকর্র্মী ও জামায়াত শিবির পুরো এলাকার গাছ কেঁটে রাস্তায় ফেলে দেয়। পুরো রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি করে অরাজক পরিবেশের।
রাত আড়াইটার দিকে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব সম্মিলিত অভিযান চালিয়ে হেফাজতে ইসলামকে সরিয়ে দেয়। পরদিন সকালে বিএনপির শীর্ষ নেতা এমকে আনোয়ার অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ওই রাতে অন্তত কয়েক হাজার হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী নিহত হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অপপ্রচারের সত্যতা মেলেনি।

 

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud