February 23, 2026
নেপিতো থেকে: ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগকে আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এমন একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বাংলাদেশ সম্মত হওয়ায় বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
মনমোহন সিং বিমসটেক সম্মেলনে তার দেওয়া বক্তব্যে আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এ জোটের মূল্যায়নে এই সচিবালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি বলেন, আজ এই শীর্ষ সম্মেলনে আমরা যারা সমবেত হয়েছি, আমরা বিমসটেকের অব্যাহত অগ্রগতিতে অত্যন্ত আনন্দিত হতে পারি। আমি আশা করি ঢাকায় বিমসটেকের সচিবালয় স্থাপিত হলে বিমসটেকের লক্ষ্য পূরণে যা প্রয়োজন তার ওপর আমরা সুনির্দিষ্টভাবে আলোকপাত করতে পারবো।
বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রাকৃতিকভাবেই এক জোটাবদ্ধ উল্লেখ করে মনমোহন সিং বলেন, আমরা ভৌগলিকভাবে যেমন একে অন্যের কাছাকাছি তেমনি ঐতিহাসিকভাবেও এক দেশ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। স্থল ও নৌ উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের রয়েছে অভিন্ন সীমারেখা।
মনমোহন বলেন, একইভাবে আমাদের চ্যালেঞ্জগুলোও অভিন্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত। তবে একই সঙ্গে আমাদের সুযোগ-সুবিধাগুলোও একই ধরনের। বিশেষ করে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তঃদেশীয় সংযোগ এসব কিছুই আমাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে। উন্নয়ন অগ্রযাত্রার এই পারস্পরিক সহযোগিতায় বিমসটেক অন্যতম উদাহরণ।
ভারতের জন্য বিমসটেকের অংশীদাররা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মনমোহন সিং বলেন, আশা করি, বিমসটেক এশিয়া তথা গোটা বিশ্বে শান্তি, সংহতি, নিরাপত্তা ও সম্মৃদ্ধি স্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন মনমোহন সিং। ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল উভয় ধরনের যোগাযোগ এ অঞ্চলের সমন্বয় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে চালিকাশক্তি হতে পারে বলেই মত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর।
বাণিজ্য, জ্বালানি, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে আন্ত:দেশীয় সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলতে বিমসটেক ভূমিকা রাখবে বলেও মত দেন মনমোহন সিং।