April 22, 2026
কলকাতা : সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। একই সাথে সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও দু’জন রাজনৈতিক নেতার সাথে গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন নূর হোসেন। অন্যদিকে নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের জবাবের অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে গত ১৬ জুন সোমবার ভারতকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া নূর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যে ভবন থেকে, সেই একই ভবন থেকে ২০১২ সালে গ্রেফতার হয়েছিল বাংলাদেশের পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপার্টমেন্ট নামের ওই ভবনের পাঁচতলার যে ফ্ল্যাট থেকে দুই সহযোগীসহ নূর হোসেন গ্রেফতার হয়েছে, তার মালিককেও এখন খুঁজছে কলকাতা পুলিশ। নূর হোসেনকে ভারতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা ভাবছে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি। ৭ খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি র্যাবের ৪ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাইন (সুব্রত) দুই বছর আগে এই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গ্রেফতার হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে জাল মুদ্রার ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অবশ্য সুব্রত বাইন এর আগেও একবার নেপালে গ্রেফতার হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কলকাতার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, কলকাতা পুলিশের অনেক কর্মকর্তাই এসব বাংলাদেশি অপরাধীদের আটক না করে উল্টো জাল মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ব্যবহার করে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। জয়, পিচ্চি হান্নান, জাফর মানিকের মতো বাংলাদেশের বড় বড় সন্ত্রাসী ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপার্টমেন্টে যে বিভিন্ন সময় ছিল, সে ব্যাপারেও তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। কিন্তু আমরা যখনই এসব সন্ত্রাসীর অবস্থান সম্পর্কে কলকাতা পুলিশকে তথ্য দিয়েছি, তখনই তারা ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অভিযান চালাতে গড়িমসি করেছে। এসব সন্ত্রাসীদের মধ্যে অনেকের রাজনৈতিক যোগাযোগও ছিল বলে মনে করেন তিনি। নূর হোসনকে ফিরিয়ে আনতে কতটা সময় লাগতে পারে? এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারতের জবাবের অপেক্ষা করছি। ভারতের জবাবের পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে নূর হোসেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানানোর পরই সরকার এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানাবে। সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। সাত অপহরণ ও খুনের ঘটনায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় এবং এর সঙ্গে র্যাবের কয়েকজন জড়িত থাকার কথাও মেনে নিয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াডের (এটিএস) ধারাবাহিক জেরার মুখে স্বীকার করে নিয়েছে নূর হোসেন।