May 6, 2026
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বললেন, জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ অহংকার স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীরউত্তম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ দাবি করেন। ৪৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা দল রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিবি) মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মেনে নিতে পারে না আওয়ামী লীগ। কিন্ত পৃথিবী, বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিয়েছেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বলেই যুদ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারাও স্বীকার করেন, জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিহাস থেকে এটি মুছে ফেলা যাবে না। জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই নন, তিনি প্রথম রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযোদ্ধা। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির স্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গর্বিত নই, আমি গর্বিত স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী হিসেবে।’সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দেশের ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক সব শ্রেণীর মানুষ অংশ নিয়েছে। তারা অংশগ্রহণ না করলে দেশ স্বাধীন হতো না।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নিজেদের দেশকে ছোট করে অন্য দেশকে বড় করা ঠিক না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) বিদেশিদের অনুষ্ঠান করে সম্মাননা দেন, বিদেশিদের অবদানকে বড় করে দেখান।বিদেশিদের প্রতি অতি ভক্তি পরায়ণ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে এই দেশের মানুষ।
আওয়ামী লীগ কেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নয়, সে যুক্তিও দেন বিএনপি প্রধান। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়ন, জনগনে বিশ্বাস করে না। যারা বৈষম্য করে তারা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়।উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনারা কি একটি দেশের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে আরেকটি দেশের শৃঙ্খলে থাকতে যুদ্ধ করেছিলেন?মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনের সঠিক ইতিহাস লেখার জন্য কিছু না কিছু লিখে যান।
অনুষ্ঠানে একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ৫জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সভার প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- বিবিসিখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান, অনারারি লেফটেন্যান্ট (অব.) আবদুল হাই বীর প্রতীক, আবুল হাশেম বীর বিক্রম, বেগম আলম তারা ও ২ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। এদের মধ্যে বেগম আলম তারা ও নুরুল ইসলামকে এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সভা মঞ্চে আসন নেন খালেদা জিয়া।
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, নজরুল ইসলাম খান, ড. মইন খান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, শমসের মবীন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ। এর আগে লন্ডনে তার ছেলে তারেক রহমান এক আলোচনা সভায় প্রথম এ কথাটি বলেন। এরপরই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এ নিয়ে স্বপক্ষে কথা বলছেন।