February 23, 2026
ঢাকা: ঋণখেলাপের অভিযোগ থাকায় দশম জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো, হাবিবুল গণির হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন। সম্প্রতি আ স ম ফিরোজ এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ক্রেস্টের পরিবর্তে নগদ অর্থ চেয়ে আলোচিত-সমালোচিত হন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান ও ব্যারিস্টার এম মাইনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান।
ব্যারিস্টার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঋণখেলাপের অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাই তার সংসদ সদস্য পদে থাকা অবৈধ। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক। আ স ম ফিরোজ পাঁচবার পটুয়াখালী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আইনের কোন কর্তৃত্ব বলে আ স ম ফিরোজ সংসদ সদস্য পদে রয়েছেন, রুলে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে আ স ম ফিরোজ, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর পরিচালক, সোনালী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, ওই ব্যাংকের বৈদেশিক বিনিয়োগ শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক, পটুয়াখালী জুট মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী (১২(এম)মনোনয়নপত্র দাখিলের ৭ দিন আগে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করতে হয়। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে দশম জাতীয় সংসদদের মনোনয়নপত্র দাখিলের মাত্র ৪ দিন আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ঋণ পুনঃতফসিল করেন আ স ম ফিরোজ। এর পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের পুনঃতফসিল অনুমোদন করে। এ কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১২(এম) অনুসারে তিনি সংসদ সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য নন।
তিনি আরো বলেন, আইন অনুসারে কোনো ঋণ তিন বারের বেশি পুনঃতফসিল করা যায় না। অথচ ওই ঋণ এ নিয়ে মোট আটবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ওই পুনঃতফসিলে সোনালী ব্যাংক ১৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬৪ টাকা ঋণ মওকুফ করে। এখনো সেখানে তার ২০ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার ২১৩ টাকা ঋণ রয়েছে।