April 20, 2026
বানিজ্য ডেস্ক : বাংলাদেশ ‘সার্ক বাণিজ্য’ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না। শুল্কায়ন, পণ্য প্রবেশে বাধা এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে গত তিন দশক ধরে প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতির অতলে ডুবছে বাংলাদেশ। কোনোভাবেই পিছিয়ে পড়া থেকে উঠে আসতে পারছে না সার্কের উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই দেশটি।
রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দক্ষিণ এশিয়ার যে সাতটি দেশের ঐক্যের ভিত্তিতে সার্ক গঠিত হয়েছিল তার প্রত্যেকটিতে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। শুরু থেকেই সেই ঘাটতি আর কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ।
গত ৩৪ বছরে অর্থনৈতিক কৌশলে মাত্র দুটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্য বেড়েছে এবং আটতম নতুন সদস্য আফগানিস্তানের সঙ্গেও বাণিজ্যে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সদস্য সাতটি দেশ থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৬ হাজার ৬৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে একই সময়ে রপ্তানি করেছে মাত্র ৫৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঘাটতি ৬ হাজার ১১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি সার্কে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের মধ্যেও ফেলেছে বলে মনে করেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।
ওই পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে আমদানি ছিল ৫ হাজার ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৬৯০ মিলিয়ন ডলারের। ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ৬৮০ মিলিয়ন ডলার। হিসেবই বলে দিচ্ছে, আগের থেকে ঘাটতি না কমে বরং বেড়েছে।
তবে কাঠমান্ডুতে আগামী ২৬ নভেম্বর সার্কের শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার আগে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরনের নেতৃত্বে একটি সার্ক বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নেপাল ভারত এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য করিডোরগুলো ঘুরে দেখেছেন।
বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়াতে নতুন করে একটি উদ্যোগ নিতে আগ্রহী সার্কের দেশগুলো। আন্তঃবাণিজ্যের করিডোরগুলো সচল করে সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে এই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আলী হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মূলত আমদানি নির্ভরতার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই ট্যারিফ বা শুল্কবাধা রয়েছে। রপ্তানি পণ্যের তালিকা নিয়েও চলছে কৌশলগত আলোচনা। ইতিমধ্যে ভারত বাংলাদেশের কয়েকটি স্পর্শকাতর পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এতে ওই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি আগের থেকে কমে আসবে।