May 2, 2026
ঢাকা: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মূল আসামিদের আড়ালে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার ১৭৫ জন আসামির তালিকা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ রিপাবলিকান ফোরাম আয়োজিত প্রস্তাবিত ষষ্টদশ সংশোধনী বিল এবং মৌলিক অধিকার শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা একথা বলেন। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ দলীয়করণের অভিযোগ তুলে মাহবুব হোসেন বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন, কিন্তু বিচারকরা যাতে স্বাধীনভাবে বিচার করতে না পারে তার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে।বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বিচার বিভাগ হচ্ছে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ।বিচারবিভাগ সম্পূর্ণ দলীয় করন করেও সরকার ভয় পায়। বিচারকের মধ্যে যদি কোন সৎ বিচারক থাকেন তাহলে তারা সঠিক বিচার করবেন এটাই তাদের ভয়। খন্দকার মাহবুব বলেন, বিচারকদের মধ্যে ভয় ও চাপে রাখার জন্যই সরকার অভিসংশোধন আইন করতে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ জনগণের রক্ষাকবচ। বিচার বিভাগকে হত্যা করলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা পাবে না।তিনি বলেন, সংসদ স্বাধীন তবে সংসদে যারা আছেন তারা স্বাধীন নয়। তারা জনগণের সমর্থন নিয়ে সংসদে আসেন নাই। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যর সমালোচনা করে খন্দকার মাহবুব বলেন,একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে এধরনের মন্তব্য করা বিচার কার্যকে প্রভাবিত করে। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। আইনের শাসন ভুলুন্ঠিত হয় বলে মন্তব্য করেন এই প্রবীনআইনজীবী। তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো সর্ম্পক নেই। তারা যখনি ক্ষমতায় এসেছে তখনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।তারা যা করছে সবই ইতিহাসের সাক্ষী। জিয়াউর রহমান দেশের আইন ও স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নের আগেই সরকার সাংবাদিকদের ওপর বেপরোয়া ও হিংস্র আক্রমণ চালানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মাহবুব বলেন। দেশের সাংবাদিকরা যখন কলম হাতে জনগণের নিকট বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করছে ঠিক তখনই সরকার তাদেরকে স্তব্ধ করতে গ্রেফতার ও নির্যাতন শুরু করেছে। তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার মোহে এবং দাপটে এতটাই উন্মাদ হয়ে গেছে যে, জনসমাজের মুখপাত্র সংবাদকর্মীদেরকে গ্রেফতার করছে সরকার।তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি বাড়িয়ে দিয়েছে।মাহবুব বলেন, আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে আবারো একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় নিতে চাচ্ছে। গণতান্ত্রিক সকল ব্যবস্থা ধবংস করে দিয়েছে তারা। বিএনপির এই নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারি প্রতারণার নির্বাচন করে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় রয়েছে তারা। তাই ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় তাদের সবাইকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে হবে।এ সময় তিনি দ্রুত নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, যতই দমনের চেষ্টা করবেন আন্দোলন ততই বেগবান হবে। মানুষ হত্যা, গুম, খুন ও মামলা দিয়ে শেষ রক্ষা হবে না। সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম রিপনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বাধীনতা ফেরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ।