পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

গ্রিম ভাইদের রূপকথার অজানা অন্ধকার দিক

Posted on November 14, 2014 | in আন্তর্জাতিক | by

002আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিম ভাইদের রূপকথার অজানা অন্ধকার দিকঢাকা: ‘এই নাও ছুরি। জুতো জোড়া তোমার পায়ে একটু ছোট হচ্ছে। পদযুগল সামান্য কেটে নাও। একটু কষ্ট পাবে হয়ত। তবে এটা কোনো বিষয়ই না।’ বিখ্যাত সিনডারেলা রূপকথার সংলাপ এটি। সিনডারেলার সৎমা এই নির্দেশ দিচ্ছে তার সতীনকন্যাকে। কিন্তু না, ছোটবেলায় আপনি যে ‘গ্রিম ভাইদের রূপকথা’ (ব্রাদার্স গ্রিমস টেলস)পড়েছেন তাতে এই ডায়লগ নেই। এগুলো সব ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। প্রকৃত গল্পে দেখা যায়, সোনালি রঙয়ের জুতোয় রক্ত দেখেই রাজকুমার তার পছন্দের মেয়েটিকে খুঁজে পায় এবং সিনডারেলার মা আর সৎ বোনদের সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যায়।
গ্রিম ভাইদের রূপকথার অজানা অন্ধকার দিককিন্তু গ্রিম ভাইদের গল্পের জার্মান সংস্করণে এরকম বহু তথ্য গোপন করা হয়েছিল। তারপরেই না এটি শিশুদের রূপকথা হিসেবে এতটা জনপ্রিয়তা পায়। ১৮১২ সালে প্রকাশিত হয় এর প্রথম সংস্করণ। ইংরেজি অনুবাদ করার সময় এর অনেক ঘটনাই বদলে ফেলা হয়। এই বইয়ের আরো একটি বিখ্যাত গল্প রুপাঞ্জেলা। মূল সংস্করণে নাকি লম্বা চুলের এই সুন্দরী রাজকুমারী দুর্গে রাজকুমারের সঙ্গে প্রেম করার ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেসব কি আর ছোটদের গল্পে রাখা যায়! আর স্নো হোয়াইট গল্পে সুন্দরী রাজকুমারীকে যিনি হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তিনি তার সৎমা নন, নিজ গর্ভধারিনী।
এই বইয়ের আর একটি জনপ্রিয় গল্প ‘হানসেল অ্যান্ড গ্রেটেল’। এ গল্পে সৎমা এই দু ভাই-বোনকে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসেন। কিন্তু প্রকৃত সংস্করণে তাদের খাবার দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় নিজের মা তাদের ফেলে দিয়ে এসেছিল বলে জানা যায়। গ্রিম ভাইদের রূপকথার অজানা অন্ধকার দিকএই শিশুতোষ রূপকথার বইটির লেখক হচ্ছেন জ্যাকব এবং উইলহেম গ্রিম। তারা ছিলেন জার্মানির হানাউ শহরে বাসিন্দা। ৮৬টি গল্প নিয়ে ‘চিলড্রেনস অ্যান্ড হাউসহোল্ড টেলস’ নামে তারা যখন বইটি প্রকাশ করেন তখন তাদের ধারণাও ছিল না, বইটি এত জনপ্রিয়তা পাবে। ১৮১৫ সালে ৭০টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় এর দ্বিতীয় সংস্করণ। তখন কাহিনীগুলো অনেক বেশি সম্পাদনা করা হয়েছিল। পরবর্তী ৪০ বছরে বইটির আরো ছয়টি সংস্করণ বের হয। প্রতিবারই গল্পগুলোকে পরিমার্জিত ও সংশোধিত করে আরো শিশুতোষ করে তোলা হয়। ফলে মূল তথ্যগুলো গোপন করে সেখানে নতুন নতুন তথ্য যোগ করা হয়।
প্রচলিত সমাজে অরুচিকর বলে বিবেচিত কিছু গল্প একেবারে বাদ দেয়া হয়। যেমন: ‘চিলড্রেন প্লেইড অ্যাট স্লটারিং’। এ গল্পে কসাই ও শূকর খেলার সময় এক ছেলে তার ছোট ভাইয়ের গলা কেটে ফেলে। ‘চিলড্রেন অব দ্য ফেমিন’ গল্পটিও একই কারণে বাদ পড়ে। এই গল্পে এক মা খাবার না পেয়ে নিজের শিশু কন্যাকে খুন করে খেতে চেয়েছিলেন।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জ্যাক জিপস এখন এই জার্মান রূপকথার মূল বইটির ইংরেজি তর্জমা করেছেন। ১৫৬টি গল্প নিয়ে দুই খণ্ডে ‘দ্য অর্জিনাল ফোক অ্যান্ড ফেইরি টেলস অব দ্য ব্রাদার্স গ্রিম’ বের করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। গত মাসে এর প্রথম খণ্ডটি প্রকাশিত হয়।
গ্রিম ভাইদের রূপকথার অজানা অন্ধকার দিকদ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক জ্যাক বলেন, ‘গ্রিম ভাইদের রূপকথার গল্পগুলোতে যেসব পরিবর্তন এসেছে তা তখনকার সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। আঠারো এবং উনিশ শতকে সন্তান হওয়ার সময় বহু তরুণী মা মারা যেতেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিপত্নীক স্বামীরা তাদের মেয়ের বয়সী একটা মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলতেন। তখন সমবয়সী বিমাতা এবং সতীনের মেয়েদের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্কের বদলে একটি ঈর্ষার সম্পর্ক গড়ে উঠত।’
বইটি অনুবাদ করতে প্রফেসর জ্যাকের দেড় বছর সময় লেগেছে। এই বইতে তিনি সমাজের অপ্রচলিত এবং অপরিমেয় ঘটনাগুলো হুবহু তুলে ধরেছেন যেগুলো একসময় শিশুদের কথা চিন্তা করে নির্দয়ভাবে সম্পাদনা বা বাদ দেয়া হয়েছিল। তার ধারণা, জার্মানির ধর্মভীরু মধ্যবিত্ত সমাজের কথা চিন্তা করেই উইলহেম গ্রিম তার গল্পগুলোকে এতটা নির্মমভাবে সম্পাদনা কিংবা বদলে ফেলেছিলেন।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud