May 5, 2026
গুলশান ৮৬ নম্বর সড়ক থেকে: খালেদা জিয়া অসুস্থ তবে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েননি বলে জানালেন তার সঙ্গে দেখা করে আসা বিএনপিপন্থি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর সভাপতি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার। বুধবার দুপুরে গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান ইউট্যাবের একটি প্রতিনিধি দল। দুপুর আড়াইটায় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ইউট্যাব সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দার সাংবাদিকদের বলেন,‘বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি খুব বেশি কথা বলতে পারছেন না। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমরা সকালে ইউট্যাবের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের মাত্র ছয়জনকে কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নয়। তাহলে আমাদের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের দেখা করতে দেয়া হলো না কেন?’

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া অবিলম্বে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার অক্ষুন্ন রাখারও আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ হায়দার বলেন, ‘তিনি ভেঙ্গে পড়েননি, শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও তিনি মানসিকভাবে শক্ত। উল্লেখ্য, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে আসেন ইউট্যাব প্রতিনিধি দলটি। ইউট্যাব সভাপতি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার টফিসহ শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলটি এ সময় খালেদা জিয়ার সাথে দেথা করতে চাইলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তারা ৫ জনকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়। এর আগে বেলা ১১৪০ মিনিটে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যান।
উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত ৪ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন ও গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তার শ্বাসকষ্টজনিত ও ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতা রয়েছে। এ কারণে ঠিকমতো গত দুই দিন ধরে খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছেন না তিনি। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয় থেকে বের হয়ে নয়াপল্টনে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মূল ফটকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার কারণে তিনি বের হতে পারেন নি। পরে তিনি সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।