April 24, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট: বিগত পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্নস্থানে ক্রসফায়ার ও বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৪৩ জন। এরমধ্যে র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ১৮ জন ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ২৫ জন। তবে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এ সময়ে দেশে ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন ৯৬ জন। অধিকারের মে মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী নয়জন ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এই নয়জনের মধ্যে র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারা গেছেন একজন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন চার জন। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান জানান, বিগত পাঁচ মাসে র্যাবের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের সময় ক্রসফায়ারে ১৮ জন মারা গেছে। একই সময়ে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। ২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৮২৬ জন সন্ত্রাসী মারা গেছে। উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান জানান, ২০১২ সালে র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৪৫ জন নিহত হলেও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ২০১৩ সালে র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ২৯ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৬৫ জন। তিনি জানান, ২০১২ সালে ভারতে এনকাউন্টারে ৩০০ জন, পাকিস্তানে ৩৪০ জন ও আমেরিকাতে ৫৮৭ জন নিহত হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশে নিহত হয়েছে মাত্র ৪১ জন। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড তথা আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা কমলেও আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে গুম-খুনের ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর সাত খুনের ঘটনায় দেশে-বিদেশে তোলপাড় চলছে। এপ্রিল মাসেই গুম হয়েছেন ১০ জন। আরও অনেককে অপহরণ করা হলেও কেউ জীবিত ও কারও মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অধিকার জানায়, বিগত পাঁচ মাসে ৯৬ টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ছাড়াও ১৯টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও অনেকে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জেল হেফাজতে ১৭ জন ও গণপিটুনির নামে ৪৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। র্যাব ও পুলিশ ছাড়াও কোস্টগার্ড ও বিজিবি’র হাতেও অনেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এ ধরনের বিচারবহির্ভূর্ত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আপত্তি জানিয়ে আসছে।