পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ক্রসফায়ারে প্রয়োগ হচ্ছে ম্যাজেষ্ট্রিসি ক্ষমতা

Posted on February 15, 2014 | in জাতীয় | by

Crosfair copyবিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডকে আইনত বৈধতা দিতে ও একে সমালোচনার উর্দ্ধে রাখতে এরসঙ্গে ম্যাজেষ্ট্রিসি ক্ষমতা যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রসফায়ার নামের হত্যাকান্ডের ঘটনার সঙ্গে এখন ঘটনাস্থলে একজন ম্যাজেষ্ট্রেটের উপস্থিত থাকার কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে। এরফলে আগামীতে এমন হত্যাকান্ডকে আর ক্রশফায়ার বলার সুযোগ থাকবে বলেই প্রিয়.কমের কাছে আশংকা প্রকাশ করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান। তিনি বলেন, একজন ম্যাজেষ্ট্রেটকে দিয়ে গুলি করার নির্দেশনার আইনগত কাগজপত্র ঠিক রাখার কারনে এমন হত্যাকান্ডকে আগামীতে বিচারবর্হিভূত বলাও কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরো জানান,দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারা দেশে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড বেড়েছে। কিন্তু এমন হত্যাকান্ড বন্ধ করতে সরকার দৃশ্যত কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।

বাংলাদেশে এখন প্রায় প্রতিদিন রাজনৈতিক কর্মী হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এমন হত্যাকান্ড বাড়ছে বলেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য থেকে জানা যায়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলের নেতারা অভিযোগ করছেন,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে যেসব নেতা কর্মীরা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তাঁদেরকেই হত্যা করা হচ্ছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সূত্র থেকে জানা গেছে,গত জানুয়ারি মাসে ত্রিশজন রাজনৈতিক কর্মী নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ব্যক্তি এবং স্থানের পরিবর্তন হলেও সারাদেশের ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার পর র্যাবব বা পুলিশের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয় তার গল্পগুলো প্রায় একইরকম। এসব বিবৃতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দাবি করে যারা গুলিতে নিহত হয়েছে তারা নিজেরাই এসব হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী।বর্তমানে এমন বিবৃতির সঙ্গে ঘটনাস্থলে একজন ম্যাজেষ্ট্রেটের উপস্থিত থাকার করাও নতুনভাবে সংযোজন করা হচ্ছে।

এদিকে,মানবাধিকার সংস্থা অধিকার তাদের জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে বলেছে, এক মাসে পুলিশ,র্যা ব ও বিজিবির হাতে ৩০ জনেরও বেশী লোক বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। এতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ২৬ জনই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী অথবা নেতৃত্বের পর্যায়ের লোক।

অপরদিকে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জানান, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দলীয় জোটের ৩০২ নেতা-কর্মীকে খুন ও গুম করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমাতে বিচারবর্হিভূত হত্যা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। হত্যাকান্ড ও গুমের সাথে সরকার দলের কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য জড়িত বলেও অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তি সংখ্যালঘু নির্যাতন, সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাবলি তদন্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন চারটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শাইরুল কবীর শনিবার প্রিয়.কমকে জানান,এই কমিটি এখনো মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, দেশে কোন বিচার বর্হিভূত হত্যা হচ্ছেনা। যেসব হত্যাকান্ড হচ্ছে সেগুলো আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘটছে। যারা নিহত হচ্ছে তারা সব সশস্ত্র সন্ত্রাসী। যখন র্যা ব বা পুলিশ তাদের আটক করতে যায় তখন তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়, আত্মরক্ষার্থে তখন পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এসব ঘটনাতেই সন্ত্রাসীরা মারা যায়।এতে কেউ নিহত হলে তাকে বিচারবর্হিভূত হত্যা বলা যায় না।


২০১৩ সালের হত্যা ও গুম

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে আইন-শৃঙ্খলা বহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মোট ৭২ জন। এর মধ্যে র্যাহবের ক্রসফায়ারে ২৪ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ১৭ জন, বিজিবি’র ক্রসফায়ারে ১ জন, পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে ২৬ জন এবং র্যা ব ও পুলিশের যৌথ নির্যাতনে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অপেক্ষাকৃত নতুন সংযোজন গুম বা গুপ্তহত্যা। দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোয় গুম বা গুপ্তহত্যা বিষয়ে প্রকাশিত খবরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৩ সালে এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন মোট ৫৩ জন। এর মধ্যে ৫ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, ৩ জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে মাত্র ২ জন মুক্তি পেয়েছেন এবং বাকিদের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি।


সম্প্রতি ঘটা কয়েকটি বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড

আজ শনিবার সিরাজগঞ্জে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার আরেক আসামি জাহাঙ্গীর আলমের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

যশোরের অভয়নগরে র্যাাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মেজবাহ বাহিনীর প্রধান মেজবাউর রহমান মেজবাহ নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মেজবাহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা চৈতন্য কুমার মণ্ডল ওরফে মধু হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।

আওয়ামী লীগের এমপি ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগে জাতীয় নির্বাচনের পরে মামলার দুই জন আসামীর মৃত্যু হয়েছে। নীলফামামীর টুপামারীত ইউনিয়নের ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আতিকুল ইসলাম আতিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই একই মামলার প্রধান আসামি গোলাম রাব্বানির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় নির্বাচনের পরে সাতক্ষীরায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শিবির কর্মীরা হলেন আবুল কালাম, মারুফ হোসেন,আজহারুল ইসলাম ও হানিফ ছোটান। জামায়াতের রোকন আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া যুবদল কর্মী জামিল হোসাইন (৩৩) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত এনামূল হক উপজেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুরে যৌথবাহিনীর সাথে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ বৃহস্পতিবার নিহত হন যুবদল নেতা গোলাম সরোয়ার। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বাবলু মিয়া (২৭) নিহত হয়েছেন।

মেহেরপুরে জামায়াতের জেলা সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

নরসিংদীতে ইকবাল হোসাইন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই জেলায় একই দিনে জনি নামক এক ছাত্রদল কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নাটোরে ফজলুর রাহমান নামের উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নির্বাহী সদস্যকে হত্যা করা হয়। ঝিনাইদহে দলীয় সংঘর্ষ চলার সময় গুলিতে আরিফ হোসাইন নামে এক আওয়ামী সমর্থক নিহত হন। মেহেরপুরে আবু বকর নামে এক বিএনপি সমর্থকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। যশোরে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শিপন এবং পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাভারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নারায়নগঞ্জের ফিনিশঘাটের তারাবোতে যুবদল নেতা আমজাদ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে জামায়াত নেতা নাজমুল হাসানের লাশ পাওয়া যায়। বিএনপি কর্মী আল মামুনের লাশ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এক খালে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতা মাহফুজ আহমেদ রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন। দিনাজপুরে বিএনপি কর্মী আসাদুল্লাহ নিহত হন।পুলিশ বলছে, এরা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud