April 22, 2026
ঢাকা: কর্মক্ষেত্রে সফল হতে ও অবহেলার হাত থেকে বাঁচতে দক্ষতা অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রবাসীদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা নিয়ে কেউ বিদেশ গেলে অধিক অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি তারা কর্মক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়।প্রতিটি ক্ষেত্রে কে কোথায় যাবে, কাকে কোন কাজ করতে হবে সেভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার। দক্ষ হলে কর্মক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হয় না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ কাজ করতে গিয়ে অবহেলার শিকার কিংবা অপমানিত হবে এটা কেউ সহ্য করতে পারলেও আমি সহ্য করতে পারবো না। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাতকে দক্ষ প্রশিক্ষিত করতে পারলে বাংলাদেশ কেন সামনে এগিয়ে যাবে না? আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠুক এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখুক। তিনি বলেন, শিক্ষাই হচ্ছে একমাত্র হাতিয়ার যেটা আমাদের দেশকে দরিদ্রতামুক্ত করতে পারে।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্লাস এইট এর পর ছেলে মেয়েদের কার কোন দিকে মেধা তা ঠিক করে তাদের কে কারিগরি শিক্ষা নিবে, কে সাধারণ শিক্ষা নিবে, কে বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করবে তা ঠিক করা। তখন থেকে ছেলেমেয়েদের সুনির্দিষ্ট পথে সেদিকে নিয়ে যেতে চাই। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক সমাপনী ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার সুবিধা কথা তুলে ধরে বলেন, এসব পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতি দূর হওয়ার পাশাপাশি তারা লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাশের হার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশের হার বেড়ে ৯২ শতাংশ হয়েছে। পাশের দেশে এ হার ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ। তারা এত বেশি পারলে আমরা কেন পারবো। আমার তো মনে হয় আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা অনেক বেশি মেধাবী। লেখাপড়ার মান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এত বেশি পাশ করলো কেন এটা তাদের ভালো লাগে না।শিক্ষার মান নাকি পড়ে গেলো। তারা টক শোতে গিয়ে ফাটিয়ে ফেলেন। টকশোতে পড়াশুনার মান নিয়ে সমালোচনাকারীদের এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসিয়ে দেওয়ার দরকার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দেখুক আমাদের ছেলে-মেয়েদের মান কেমন? আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক বেশি জ্ঞান রাখে, তারা অনেক বেশি জানে।
বিএনপি দেশকে পিছিয়ে নিতে দক্ষ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ এর সরকারে আওয়ামী লীগ সরকার স্বাক্ষরতার হার ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ শতাংশ করেছি। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলো। ৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার স্বাক্ষরতার হার ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আর বিএনপি এসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ১৫ শতাংশ কমিয়ে দিলো। দেশের উন্নয়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। কারো কাছে ভিক্ষা করে চলতে চাই না। নিজেরা আত্ম-নির্ভরশীল হতে চাই। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষা সচিব মোহাম্মদ সাদিক, কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজাহান মিয়া।