পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

কাজে মনোযোগী হয়েছেন আঁচল

Posted on February 7, 2014 | in বিনোদন | by

achol__inter_2_618751045

খুব বেশি দিনের কথা না। অভিষেকেই সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা হাসনাহেনা আঁখি আঁচল। কারণ তিনিই প্রথম কোন নবাগত নায়িকা যার পর পর দুই সপ্তাহে দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। ছবিগুলো ছিল রাজুর পরিচালনায় ‘ভুল’ এবং মাসুদ কায়নাতের ‘বেইলি রোড’। ছবিগুলো খুব ব্যবসা না করলেও আঁচলের অভিনয় ও সুন্দর চেহারা খুব সহজেই দর্শকের নজর কাড়ে। এর পরপরই আঁচল শাহীন-সুমনের ‘জটিল প্রেম’, সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘প্রেম প্রেম পাগলামী’ ও শাহ মো: সংগ্রাম এর ‘কি প্রেম দেখাইলা’ ছবিগুলোতে বাপ্পির বিপরীতে অভিনয় করেন। এ ছবিগুলো মুক্তির পর বেশ ভালো সাড়া পান আঁচল। কিছুদিন পর আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকে নাচ শিখেছেন আনন্দধারা একাডেমীতে। ক্লাস এইটে থাকতে অনেকটা চুপিচুপি অংশ নেন এসিআই গ্রুপের একটি বিজ্ঞাপনে। সেসময় বাসায় সময় পেলেই টিভির সামনে বাংলা ছবি দেখতে বসে যেতেন তিনি। বিশেষ করে চিত্রনায়িকা শাবনূরের ভক্ত ছিলেন আঁচল। বলতে গেলে তার ছবি দেখতে দেখতে আঁচল স্বপ্ন দেখেন রুপালি পর্দায় নাম লেখাবেন।

এ বিষয়ে আঁচল  বলেন, ‘আমার মনে আছে আমি সপ্তম শ্রেণীতে থাকাবস্থায় শাবনূর আপার ‘মধুর মিলন’ ছবিটি টিভিতে দেখি। তখন আমি শাবনূর আপার অনেক ছবিই দেখেছি। আর তার অভিনয় দেখে আমারও ইচ্ছে জাগে নায়িকা হবার। আর সে লক্ষ্যেই আমি নাচ শিখি। এরপর ঢাকায় আসি এবং বেশকিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হবার সুযোগ হয়।’ কথা থামতেই বললাম, এসব তো গেল মিডিয়াতে কাজের শুরুর কথা। চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে নাম লেখানোর ঘটনাটা জানতে চাই।

আবার বলা শুরু করলেন, ‘আস্তে আস্তে বলছি সব। আমি বাফাতে পাঁচ বছর নাচ শেখেছি। এরপর নৃত্য পরিচালক সোহাগ ভাইয়ের একাডেমীতে একদিন নাচের achol_inter_1_986292313মহড়া করছিলাম। সেখানে পরিচালক রাজু তার নতুন ছবিতে নাচের জন্য মেয়ে নিতে এসে দেখেন আমাকে। এরপর তিনি আমাকে ‘ভুল’ ছবিটি করার প্রস্তাব দেন। এরপর আমি এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য হ্যাঁ বলে দেই। এইতো এভাবেই বড় পর্দায় কাজের শুরু।’

তবে ‘ভুল’ বা ‘বেইলী রোড’ ছবি দুটোর পর তিনি মাঝে নাবিল আশরাফের ‘ভালোবাসার রংধনু’ ছবিতে অভিনয় করেন। সেখানে তার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ছোট পর্দার অভিনেতা নাঈম। সেসময়টা আঁচলের পারিবারিকভাবে নানা ঝামেলায় কাটলেও বর্তমানে শুটিংয়ে খুবই ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। আঁচলের ছোটবেলা কেটেছে খুলনায়। সেখানের পাইওনিয়র গার্লস স্কুলের ছাত্রী সামনে সাফিউদ্দিনের পরিচালনায় ও শাকিব খানের বিপরীতে ‘ফাঁদ’, ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় ‘আজব প্রেম’ ছবিতে বাপ্পি এবং মনিরুল ইসলাম সোহেল এর ‘স্বপ্ন যে তুই’ ছবিতে ইমনের বিপরীতে অভিনয় করছেন। ছবিগুলো মুক্তির মিছিলে রয়েছে।

এ ছবিগুলো নিয়ে আঁচল বলেন, ‘মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই সবগুলো ছবি নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী। কারণ প্রত্যেকটি ছবিতে আমার চরিত্র ও গল্প আলাদা। এখানে আমাকে টিনএজ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় চরিত্রে অভিনয় করতে দেখতে পাবেন দর্শক। বাকি ছবিগুলোও বেশ রোমান্টিক ধাঁচের। আশা করি, দর্শকের পছন্দ হবে।’ অভিনয়ের পাশাপাশি বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-তে পড়ছেন আঁচল। আর বর্তমানে বাবা হাফিজুর রহমান, মা সালমা বেগম ও বড় ভাই আশিকুর রহমানসহ ঢাকাতেই আছেন। অবসর পেলেই হলে বাংলাছবি দেখতে বেড়িয়ে পড়েন আঁচল। এইতো গত সপ্তাহে ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘কি দারুণ দেখতে’ ছবিটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছেন।

হলে গিয়ে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে আঁচল বলেন, ‘আমি কখনই স্টার সিনেপ্লেক্স বা যমুনায় গিয়ে ছবি দেখিনা। আমি আমজনতার সাথে বলাকা, জোনাকী বা অন্য সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখি। দর্শকের রেসপন্স লক্ষ্য করি। আমি মনে করি, একজন অভিনেত্রীর বা অভিনেতার মাঝে মাঝেই হলে গিয়ে ছবি দেখা উচিত। তাহলে নিজের অনেক ভুল শোধরাতে পারবেন।’ সবশেষে জানতে চাইলাম, আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা অভিনয় ক্যারিয়ারে কি কোন ভুল সময় ছিল। প্রশ্নটা করার পর একটু সময় নিয়ে উত্তরে আঁচল বললেন, ‘ভুল ছিল অনেক। এখন সেজন্যই পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজটি করছি। কাজে কোনসময় ফাঁকি দিতে চাই না। যেতে চাই অনেকদূর এবং দর্শকের ভালোবাসা পেতে চাই।’

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud